295923

মির্জা ফখরুলও শপথের পথে?

নিউজ ডেস্ক।। ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে রাজপথের পাশাপাশি সংসদে কথা বলার ‘সীমিত সুযোগকে’ কাজে লাগানোকে যুক্তিযুক্ত মনে করা বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজেও সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে চান। এ জন্য তিনি অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে শপথ নেওয়ার জন্য সময় চেয়ে গতকাল সোমবার বিকেলেই স্পিকারের দপ্তরে চিঠি দিয়েছেন বলে অসমর্থিত সূত্রে জানা গেছে।

বিএনপি মহাসচিব গত রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সংসদে যাওয়া নিয়ে কথা বলেন। ফখরুল বলেন, ‘ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সংসদে কথা বলার সীমিত সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সংসদ ও রাজপথের সংগ্রামকে যুগপত্ভাবে চালিয়ে যাওয়াকে আমরা যুক্তিযুক্ত মনে করছি। জাতীয় রাজনীতির এই সংকটময় জটিল অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে দেশনেত্রীর সুচিকিৎসা, মুক্তি এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামের অংশ হিসেবে আমাদের দল সংসদে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

সংসদে যাওয়ার এই সিদ্ধান্ত দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিয়েছেন জানিয়ে ফখরুল বলেন, ‘আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গতকাল (রবিবার) স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করেন। ইতিমধ্যে তিনি দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং দেশে যারা রাজনৈতিক সচেতন ব্যক্তি আছে তাদের সঙ্গে কথা বলেন। কথা বলার পরে জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য তাঁকে এই বিষয়ে (সংসদে যাওয়ার বিষয়) সর্বময় ক্ষমতা অর্পণ করা হয়। আমাদের দলের গঠনতন্ত্রের ধারা অনুযায়ী তিনি তাঁর সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন এবং তারই প্রেক্ষাপটে আমাদের দলের চারজন নেতা যাঁরা নির্বাচিত হয়েছেন, তাঁরা শপথ নিয়েছেন।’

সংসদে যাওয়ার বিষয়ে দল ও তারেক রহমানের বক্তব্য তুলে ধরেন বিএনপি মহাসচিব। ‘আপনি কবে সংসদে যোগ দিচ্ছেন’, সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, অপেক্ষা করুন, জানতে পারবেন। গতকাল শপথ নেওয়ার শেষ দিন অতিক্রম করায় শপথের সময় চেয়ে স্পিকারের কাছে আবেদন করেছেন কি না প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি তো বললাম, সময় আসুক জানতে পারবেন। আমি কী করেছি না করেছি আপনারা সময় হলেই জানতে পারবেন।’

বিএনপি সংসদে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় এখন জাহিদুর রহমানের বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার করা হবে কি না প্রশ্ন করা হলে ফখরুল বলেন, সময়মতো সে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কেন সংসদে যোগ দেওয়া বিষয়ে সিদ্ধান্তে পরিবর্তন হলো, এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা পরিষ্কার করে বলেছি কোন সারকামস্টেন্সে আমরা আগের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছি।’ কোনো চাপে কি এই পরিবর্তন হয়েছে, এ প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘না, কোনো চাপে নয়।’

সরকারের সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতায় সংসদে যাওয়ার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কি না, জানতে চাওয়া হলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সমঝোতার প্রশ্ন কোথায় দেখলেন আপনারা? আমরা বলছি, সংসদের ভেতরে ও বাইরে দুইখানে আমরা আমাদের দাবি করে যেতে চাই। সংসদ একটা জায়গা, যেখানে এখন পর্যন্ত একটা স্পেস আছে। যেখানে কিছু কথা বলা যায়। সেই কথা বলার জন্য আমাদের যাঁরা নির্বাচিত তাঁরা শপথ নিয়েছেন।’ দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী বিকেলে (গতকাল সংবাদ সম্মেলনে) বলেছেন যে সরকারের চাপে শপথ গ্রহণ করেছেন এমপিরা। এ বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে ফখরুল বলেন, ‘সেটা শপথ গ্রহণের আগের বক্তব্য ছিল।’

‘তারেক রহমান ভাবছেন কিভাবে দেশে আসা যায়’ মির্জা ফখরুল এর আগে জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে এক প্রতিবাদসভায় বলেন, ‘আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান (তারেক রহমান) প্রায় এক যুগের ওপরে নির্বাসিত হয়ে আছেন। তিনি ভাবছেন কিভাবে দেশে ফিরে আসা যায়।’ বৃহত্তর ময়মনসিংহ ফোরামের উদ্যোগে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর মুক্তি এবং তারেক রহমানের নামে ‘মিথ্যা মামলা’ প্রত্যাহারের দাবিতে এ সভার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল আরো বলেন, ‘আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, এখন যে সরকার আছে এই সরকার জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকার নয়। বিগত যে নির্বাচন হয়েছে সেই নির্বাচনে জনগণকে অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হয়নি। আমরা সবাই জানি, দেশে এখন গণতন্ত্রের বিন্দুমাত্র নেই, লেশমাত্র নেই। এটা শুধু আমাদের কথা নয়, বিদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে লেখাগুলোতে বারবার উঠে আসছে।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে, সুচিন্তিতভাবে, অত্যন্ত গুছিয়ে একদলীয় শাসনের দিকে যাওয়া শুরু করেছে। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য যে আমরা সেটাকে সেভাবে প্রতিরোধ করতে পারি নাই।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘খালেদা জিয়া প্রায় ১৪ মাসের ওপরে কারাগারে আছেন, তিনি অত্যন্ত অসুস্থ। নিজে বিছানা থেকে উঠতে পারেন না, তাঁকে সাহায্য করতে হয়। হাঁটতে পারেন না, হুইলচেয়ারে চলতে হয়, খেতে পারেন না, তাঁর শরীর একদম ভালো নেই।’ দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য সামসুজ্জামান সুরুজের সভাপতিত্বে এবং এস এম ওবায়দুল হক নাসিরের পরিচালনায় সভায় দলের নেতা আমানউল্লাহ আমান, এমরান সালেহ প্রিন্স প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। উৎস: কালেল কণ্ঠ।

ad

পাঠকের মতামত