295837

নিরাপত্তা প্রহরী করেন সার্জারি!

নিউজ ডেস্ক।। পটিয়া উপাজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিরাপত্তা প্রহরী মো. মনছুর যখন ভঙ্কর সার্জারি ডাক্তার। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে কোনো রোগী গেলে নিজেকে সার্জারি ডাক্তার পরিচয় দিয়ে অপারেশনের কথা বলে মোটা অংকের টাকা নিয়ে প্রতিদিনে ভয়ঙ্কর সার্জারি করেন এই নিরাপত্তা প্রহরী মনসুর। তার ভয়ঙ্কর সার্জারির কারণে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের একজন পরিচ্ছন্নকর্মীসহ প্রায় অর্ধশতাদিক পটিয়া উপজেলার মানুষ পঙ্গু হয়ে বসবাস করছে।

তারপরও প্রতিদিন জরুরি বিভাগে কীভাবে সার্জারি কাজ করে যায় তার খুঁটির জোর কোথায় তা সাধারণ রোগী ও পটিয়াবাসী জানতে চান। জানা গেছে, ২০১৫ সালের জুলাই মাসের ১২ তারিখ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নকর্মী মো. জসিম কাজ করতে গিয়ে দুইটি কাচের টুকরা পায়ের মধ্যে ঢুকে যায়। সে উপজেলার মধ্যম গৈড়লা সামশুল আলমের ছেলে। পরবর্তীতে ২০১৫ সালের ১৭ জুলাই চিকিৎসাসেবার জন্য পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে মো. মনছুর সার্জারি ডাক্তারের পরিচয় দিয়ে মো. জসিমের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে জসিমের পায়ে ভয়ঙ্কর সার্জারি শুরু করেন। তার সার্জারির জন্য জসিমের বাম পা পঙ্গু হয়ে যায়।

বর্তমানে জসিম পরিবার পরিজন নিয়ে অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন। আরো জানা গেছে, ২০১৭ সালে ৬ জানুয়ারি ক্ষতিগ্রস্ত মো. জসিম হুইপ সামশুল হক চৌধুরী বরাবরে এই নিরাপত্তা প্রহরী মনসুরের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এই লিখিত অভিযোগের উপরে পটিয়ার এমপি হুইপ সামশুল হক চৌধুরী তৎকালীন ওসি বরাবরে এই প্রতারক সার্জারি ডাক্তারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিলেও রহস্যজনকভাবে থানা কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। একই বছরের চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন বরাবরে ভোক্তাভোগী জসিম উদ্দিন একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এই লিখিত অভিযোগ পেয়ে চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন এবং ২০১৮ সালে ৪ জানুয়ারি তদন্ত কমিটি চন্দনাইশ উপজেলার মেডিকেল অফিসার ডা. মো. আইয়ুব নবী তার তদন্ত প্রতিবেদন সিভিল সার্জন বরাবরে দাখিল করেন।

তদন্ত প্রতিবেদন নিরাপত্তা প্রহরী মো. মনছুরের বিরুদ্ধে অনিত অভিযোগ তদন্তসাপেক্ষে সত্য প্রমাণিত হয়। নিরাপত্তা প্রহরী মো. মনসুরের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশ ব্যতীত সার্জারির মতো কাজে নিজ উদ্যোগে গ্রহণ করায় একটি দণ্ডণীয় অপরাধ। এই প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিরাপত্তা প্রহরী মো. মনসুরকে চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন অন্য উপজেলায় বদলির আদেশ দেন। বদলির ছয়-সাত মাস পর আবারো টাকার বিনিময়ে পটিয়া উপজেলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বদলি হয়ে আসেন ভয়ঙ্কর সার্জারি ডাক্তার মনসুর।

এত বড় অপরাধ করার পরও মনসুর কিভাবে পুনরায় পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বদলি হয়ে আসে, কারা তাকে ব্যবহার করে, তার খুঁটির জোর কোথায় সাধারণ রোগী ও পটিয়াবাসীর মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। খবর নিয়ে জানা যায় রোগীদের সাথে এই রকম প্রতারণা করে তার নিজ জেলা নোয়াখালীতে বিলাসবহুল বাড়িসহ আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছে এই নিরাপত্তা প্রহরী। ভোক্তাভোগী মো. জসিম জানান পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরি বিভাগে গেলে মনসুর নিজেকে সার্জারি ডাক্তার পরিচয় দেয়। আমাকে অপারেশন করবে বলে জানান।

তার কিছুক্ষণ পর তিনি আমার বাম পায়ের তালুর উপরে অংশে ভয়ঙ্কর সার্জারি শুরু করেন। প্রায় দেড় ঘণ্টা যাবৎ হ্যান্ড গ্লাভসবিহীন কিছু যন্ত্রপাতি দিয়ে আমার পায়ের তালুর উপরের অংশ কাটেন এবং ভেতরে আঙ্গুল ঢুকিয়ে ঘাটাঘাটি করে অনেক রক্তক্ষরণ ও যন্ত্রণা দেয়ার পর আমার পায়ে ব্যান্ডেজ করে দেন। পরবর্তীতে তিনি বলেন, আমার পায়ের ভেতরে কিছু পাওয়া যায়নি। আমি যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি জানান, মনসুর কোনো সার্জারি ডাক্তার নয়।

সে হাসপাতালে নিরাপত্তা প্রহরী। এই সংবাদ জানার পর আমি স্থানীয় পার্শ্ববর্তী একটি প্রাইভেট ক্লিনিক এ গেলে সেখানে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার আমার পা পুনরায় সার্জারি করে দুইটি কাচের টুকরা বের করেন। এই মনসুরের ভুল সার্জারির কারণে আমার পা এখানো পর্যন্ত ভালো হয়নি। আমি পরিবার পরিজন নিয়ে কষ্টের দিন কাটাচ্ছি। আমি মনসুরের শাস্তি দাবি করছি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও হুইপ সামশুল হক চৌধুরী কাছে।

ad

পাঠকের মতামত