‘বকা খেয়ে ওইদিনই সম্পর্ক শেষ’
বিনোদনডেস্ক।। আমার প্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদ। প্রেম নিয়ে তার একটা কথা রয়েছে। দারুণ সেই কথা। ‘যুদ্ধ এবং প্রেমে কোনো কিছু পরিকল্পনা মতো হয় না।’ কথাটি এক বাক্যের হলেও চিরন্তন সত্য কথা এটি। মানুষের জীবনে প্রেম-ভালোবাসা চিরন্তন। মানুষ কখনও একা বাঁচতে পারে না। বাঁচতে পারে না সঙ্গী-সাথীবিহীন। প্রতিটি মানুষই সুখে থাকতে চায়। কেউ চায় না সে দুঃখে থাকুক। জীবনকে সুখে রাখতে হলে তাকে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাঁচতে হয়। তাকে পরিবারের সঙ্গে থাকতে হয়, বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে সময় কাটাতে হয়, বেড়াতে যেতে হয়, উৎসবে নিজেকে বাহারি সাজে সাজাতে হয়- এমনকি প্রেমও করতে হয়। প্রেম-ভালোবাসা চিরন্তন একটা ব্যাপার। প্রত্যেক মানুষের জীবনে প্রেম-ভালোবাসা একবার হলেও আসে। সেটা জীবনের প্রয়োজনেই আসে। আসে সুখে রাখার প্রয়োজনেও। এই প্রেমের কিন্তু আবার কোনো বয়স থাকে না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তো জাতপাতও থাকে না। প্রেম আসবেই, সেটা যে কোনোভাবে। প্রথম প্রেমের বিষয়টি সবার ক্ষেত্রেই মনে হয় একটু ভিন্নরকম। প্রেম বড় হয়ে যাওয়ার পর আর সেটাকে প্রেম বলে কিছু বলা যায় না। সেটাকে অনেকেই ইলুশন বলেই মনে করে। তবে এই ইলুশনের বিষয়টিই সারাজীবন মনে থাকে। একটি মনোবৈজ্ঞানিক গবেষণা বলছে, প্রথম প্রেমের অনুভূতি অনেকটা প্রথমবার স্কাইডাইভিং বা বিমান থেকে প্যারাসুট নিয়ে লাফ দেওয়ার মতো।
এরপর আপনি যতবারই লাফ দেন না কেন, প্রথমবারের স্মৃতিটা সবচেয়ে স্পষ্টভাবে মনে থাকে। ক্লাস ফাইভে প্রথম চিঠি পেয়েছিলাম। অবাক হওয়ার মতো বিষয়টি। তখন প্রেম কী, প্রেমের আবার চিঠি কী, সেটাই তো বোঝার কথা না। আমিও বুঝতাম না। চিঠি দিত এলাকার এক বড় ভাই। বড় ভাইটিও ততটা বড় ছিল না। আমি তখন ক্লাস ফাইভে, সে হিসেবে সেও বড়। বাসার দারোয়ানের কাছে দিয়ে যেত চিঠি। প্রায়ই লিখত। মজার বিষয় হচ্ছে সে চিঠিতে নাম লিখত না। একদিন দেখা হওয়ার পর বলেছিল, চিঠিগুলো আমিই লিখি। তখন আসলে বিষয়গুলো কিছুই বুঝতে পারিনি। এখন মনে হলে হাসি পায়। এরপর বড় হয়ে যাওয়া। নাটকেও ব্যস্ত হওয়া। কিন্তু প্রথমের সেই স্মৃতিগুলো মনে হলে এখনও হাসি পায়। আরও হাসি পায় প্রথম প্রেমের গল্প মনে পড়লে। আমি যখন মতিঝিল মডেল হাইস্কুলের ছাত্রী ছিলাম, সেই সময় বড় বোনের এক বন্ধুর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক হয়েছিল। ছেলেটি তখন কলেজে পড়ত। বোনের বন্ধু হওয়ার কারণে প্রায়ই আমাদের বাসায় আসত ছেলেটি। বোনের সঙ্গে আমরা একসঙ্গে ঘুরতে যেতাম। অনেক গল্প হতো। নানা ধরনের গল্প। যে গল্পের আগামাথা কিছুই ছিল না। একদিন ছেলেটি একটি চিরকুট রেখে যায় আমাদের বাসায়। খুলে দেখি আমাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছে। ছেলেটিকে আমারও ভালো লাগত। বয়স অল্প। সে বয়সে কোনো কিছু ভাবার দরকার হয় না।
মন যা চায় তাই করার বয়স সেটি। যদিও সবকিছু করা যায় না। পরিবারের হাজার বারণ থাকে। আমি ছেলেটির প্রস্তাব পেয়েই রাজি হয়ে গিয়েছিলাম। ঠিক মাস তিনেকের মাথায় আমাদের প্রেমের কথা বাসায় জেনে যায়। মা-বাবা দু’জনই খুব বকাবকি করলেন। খুব খারাপ লাগল। বকা খেয়ে ওইদিনই সম্পর্ক শেষ। সেই প্রেম নিয়ে আর এগোনো হয়নি। তারপর আর প্রেমে পড়া হয়নি। পড়াশোনাতেই মনোযোগ দিই। বয়ঃসন্ধিকালের সময়টা আসলে একটু জটিল থাকে। অল্পতেই মুগ্ধ হয়ে যাওয়ার একটা ব্যাপার থাকে। এটা মনে হয় সবার বেলাতেই হয়। ছেলে-মেয়ে সবার বেলাতেই। ওই সময়টাতে তাই দেখা যায় প্রেম হয় বাল্যবন্ধুর সঙ্গে, গৃহশিক্ষক বা স্কুল শিক্ষক কিংবা বয়সে বড় ভাই, সিনেমার নায়ক, পাড়ার সুদর্শন বড় ভাই এমন কারও সঙ্গে। বড় হয়ে যাওয়ার সঙ্গে বিষয়গুলো খুব হাসির হয়ে ধরা দেয়। প্রেম নিয়ে এমন গল্প সবসময় থাকবে। কারণ প্রেম চিরন্তন। আমরা বড় হয়েছি, এখন আবার যারা বয়ঃসন্ধির সময় পার করছে তাদের জীবনে এগুলো ঘটছে। সমকাল।




