289855

বিশ্বসেরা ছবির গল্প

ডেস্ক রিপোর্ট।। মা আর শিশুকে আটক করে নিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা। সেখানে ভয়ে চিৎকার করে কাঁদছে ছোট্ট এক শিশু।তার আতঙ্ক ও চিৎকারের সেই ছবি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর মেক্সিকো সীমান্তে শরণার্থীদের ভয়াবহ চিত্র প্রকাশ পেয়েছিল। গত বৃহস্পতিবার ‘ওয়ার্ল্ড প্রেস ফটো স্টোরি অফ দ্য ইয়ার’ অ্যাওয়ার্ডে সেই ছবিটি ২০১৯ সালের সেরা পুরস্কার জিতে নিল।

গত বছরের ১২ জুন রিও গ্র্যান্ডে উপত্যকায় এক অমাবস্যার রাতে মার্কিন-মেক্সিকো সীমান্ত নিয়ে কাজ করা ফটোগ্রাফার জন মুর ইউএস বর্ডার প্যাট্রোল এজেন্টদের এই ছবি তুলছিলেন। এই ছবিই হাজার হাজার অভিবাসী এবং তাদের সন্তানদের আলাদা করার জন্য ওয়াশিংটনের বিতর্কিত নীতি সম্পর্কে জনসাধারণের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছিল।

প্রতিযোগিতায় বিচারকগণ জানান, হন্ডুরাসের মা সান্দ্রা সানচেজ এবং তার মেয়ে ইয়েনেলা অবৈধভাবে মার্কিন-মেক্সিকো সীমান্ত অতিক্রম করে ফেলেছিল। গেটি ইমেজেসের জন মুরের তোলা এই ছবিটি গত বছর ‘মানসিক’ হিংসার এক অন্যরূপ দেখিয়েছিল সারা বিশ্বকে। মার্কিন কাস্টমস ও বর্ডার সুরক্ষা কর্মকর্তারা পরে বলেছিলেন, যাদের সন্তানদের থেকে আলাদা করা হয়েছিল সেই দলের মধ্যে ছিল না ইয়েলেনা ও তার মা। কিন্তু জনসাধারণের আশঙ্কার কারণে গত বছরের জুন মাসে দেশটির রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প নীতিটি পুনর্বিবেচনা করেন।

গত বছর ১২ জুন রিও গ্র্যান্ডে উপত্যকায় এক অমাবস্যার রাতে মুরে ইউএস বর্ডার প্যাট্রোল এজেন্টদের ছবি তুলছিলেন। সেখানেই সীমান্ত অতিক্রম করার চেষ্টা করেছে এমন এক গোষ্ঠীর দেখা মেলে। মার্কিনি ন্যাশনাল পাবলিক রেডিও সম্প্রচারকারীর এক সাক্ষাৎকারে মুরে বলেন,‘আমি ওদের চোখে ভয় দেখতে পাচ্ছিলাম, ওদের মুখে এক ভয়ের ছায়া দেখতে পাচ্ছিলাম।’ ৫১ বছর বয়সী ফটোগ্রাফার বলেন, ‘আমার কাছে এটা মানবতার দৃষ্টিভঙ্গি প্রদর্শন করার একটি সুযোগ ছিল যা প্রায়শই পরিসংখ্যানের সাথে সম্পর্কিত। আমি মনে করি এ ধরনের সমস্যা, অভিবাসনের সমস্যা কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নয়, সারা বিশ্বের।’

আমস্টারডামের আয়োজকরা বলেন, বিশ্বজুড়ে চার হাজার ৭৩৮ জন ফটোগ্রাফারের তোলা ৭৮, ৮০১টি ছবির মধ্যে থেকে এই বছরের সেরা ছবি হিসেবে পুরস্কার জিতে নেয়।

ad

পাঠকের মতামত