বন্দুকযুদ্ধে নিহত পূজার সেই প্রেমিক সাইফুল
নিউজ ডেস্ক।। চট্টগ্রাম মহানগরীর একটি কেজি স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী পূজার পঞ্চ প্রেমের বলি যুবলীগকর্মী এইচএম লোকমান হোসেন জনি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ও কিশোর গ্যাংয়ের প্রধান মো. সাইফুল (২৪) পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার ভোররাতে চট্টগ্রাম মহানগরের বাকলিয়ার কল্পলোক আবাসিক এলাকায় বন্দুকযুদ্ধের এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে একটি এলজি এবং দুই রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করেছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর বাকলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) প্রণব চৌধুরী। প্রণব চৌধুরী বলেন, লোকমান হত্যা মামলায় আটকের পর সাইফুলের কাছে জানতে চাওয়া হয় লোকমান হোসেন জনি হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্রটি কোথায়। পরে তার তথ্যমতে অস্ত্র উদ্ধারের জন্য কল্পলোক আবাসিক এলাকায় অভিযানে যায় পুলিশ। এ সময় সেখানে আগে থেকে অবস্থান করা সন্ত্রাসীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা পিছু হটলে ঘটনাস্থলে সাইফুলকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়।
ঘটনাস্থল থেকে একটি এলজি এবং দুই রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।
ওসি জানান, সাইফুল পূজার প্রেমিক। তাছাড়া অনিক, শ্রাবণ, লক্ষণ ও জয় নামে আরো ৪ কিশোরের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে পূজা। এই পঞ্চ প্রেমের বিরোধে অনিক ও সাইফুল শনিবার রাতে তাদের কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের নিয়ে জয়কে আটক করে। খবর পেয়ে জয়ের কথিত বড় ভাই যুবলীগকর্মী এইচএম লোকমান হোসেন জনি তাকে উদ্ধার করতে বাকলিয়া থানার ফুলকলি খালপাড় নামক স্থানে যায়। সেখানে অনিক ও সাইফুলের অনুসারী কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা তাদের মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে সাইফুল এইচএম লোকমান হোসন জনিকে গুলি করে পালিয়ে যায়।
রাত ২টার দিকে জনিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক জনিকে মৃত ঘোষণা করেন। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক জহিরুল ইসলাম জানান, জনির মাথায় গুলির আঘাতের চিহ্ন ছিল। জনি মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল থানার নোয়াগাঁও গ্রামের শামসুল হকের ছেলে। নগরীর গোলপাহাড় সংলগ্ন বাদশা মিয়া রোডের পশুশালা এলাকায় থাকতেন তিনি। সেখানে একটি কুলিং কর্নার আছে তার। সে মহানগর যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে জানান তার ভাই মহিউদ্দিন। মহিউদ্দিন জানান, নগরীর বাকলিয়ায় এলাকার একটি কেজি স্কুলের নবম ছাত্রী পূজা। তার সঙ্গে অনিকের দীর্ঘদিনের প্রেমের সমপর্ক ছিল। কয়েকদিন আগে জয়ের সঙ্গেও প্রেমের সমপর্ক হয় পূজার। এর আগে শ্রাবণ, লক্ষণ ও সাইফুল নামে আরো তিনজনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল তার। কিন্তু জয়ের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে উঠার পর পূজা অনিক ও সাইফুলের সঙ্গে কথা কমিয়ে দেয়। এ নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয় তাদের। এ ঘটনায় শনিবার রাতে অনিক ও সাইফুল মিলে জয়কে অপহরণ করে আটকে রাখে। খবর পেয়ে জয়ের কথিত বড় ভাই জনি, বাপ্পিসহ কয়েকজন যুবককে নিয়ে জয়কে উদ্ধার করতে যায়। সেখানে যাওয়ার পর অনিক ও সাইফুল সহপাঠীদের নিয়ে জনি ও তার বন্ধুদের মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে সাইফুল জনির মাথায় গুলি করে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় সাইফুলকে প্রধান আসামি করে নগরীর বাকলিয়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) শাহ মো. আবদুর রউফ বলেন, সোমবার রাতে ফটিকছড়ি উপজেলার জাফতনগর গ্রাম থেকে লোকমান হত্যা মামলার প্রধান আসামি সাইফুল এবং তিন নম্বর আসামি জিয়াউদ্দিন বাবলুকে গ্রেপ্তার করা হয়। সাইফুল নগরীর বাকলিয়া থানার সবুজবাগ আবাসিক এলাকার রফিক আহাম্মদের ছেলে। আর জিয়া একই থানার খালপাড় এলাকার কামাল উদ্দিনের ছেলে। উৎস: মানবজমিন।




