আত্মহত্যার হুমকি ভানুয়াতুতে দুর্ভোগে শতাধিক বাংলাদেশির
প্রবাশ ডেস্ক।। দ্বীপ দেশ ভানুয়াতুতে আটকে থাকা বাংলাদেশিদের দুর্দশা বেড়েই চলছে। অনাহারে, অর্ধাহারে দিন কাটছে মোস্তাফিজুর রহমান খান শাহীন, ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, মুহাম্মদ কামরুল হাসান মিয়া ও মো. নাসির উদ্দিনসহ অনেকের। ভানুয়াতু পুলিশকে দেয়া জবানবন্দিতে তারা বলেছেন ভানুয়াতুতে আসা, নিজেদের বন্দি হওয়ার কাহিনী। এখন আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছেন তারা। তবে আইনি বেড়াজালের কারণে ভানুয়াতু থেকে দেশে ফিরতে পারছেন না এসব বাংলাদেশিরা। মোস্তাফিজুর রহমান খান শাহীন (পাসপোর্ট নং- বিএফ০০১৭৫৯৯) নামে এক বাংলাদেশি তার জবানবন্দিতে জানান, দেশে আমার একটি ছোট গার্মেন্ট ফ্যাক্টরি ছিল। প্রায় দেড় কোটি টাকার বিনিয়োগ চলমান থাকা গার্মেন্টটি বেশ ভালই চলছিল। এতে ৩২ জন কর্মী কাজ করতেন।
গার্মেন্টের আয় দিয়ে কর্মীদের বেতন ও নিজের সংসার ভালই চলছিল। তিনি বলেন, ২০১৮ সালে ভানুয়াতুতে কর্মরত মাই প্রাইস নামে একটি কোম্পানির মালিক সোমেন সিকদারের সঙ্গে পরিচয় হয়। তিনি জানান, আমাকে মাসিক চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা বেতন দেবেন। এর বাইরে থাকা ও খাওয়াসহ সব খরচ কোম্পানি বহন করবে। সোনার হরিণের আশায় এসে বিপদে পড়েছি। শাহীন জানান, ভারত, সিঙ্গাপুর ও ফিজি হয়ে ভানুয়াতু যান গেল বছরের ১৯শে সেপ্টেম্বর।
দেশটিতে আসার পরই বিপদগ্রস্ত হয়েছি। এখন আর স্বপ্ন বাস্তবায়নের কোন লক্ষণ দেখছি না। এখন আমি আছি পেঙ্গো হাউজে। কিন্তু আমার কাছে পাসপোর্ট, টিকেট বা কোন ডলার নেই। সব কিছুই আমার কাছ থেকে হাতিয়ে নেয়া হয়েছে। সোমেন সিকদার এখন আমাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে অত্যাচার করছে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ চাই। মুহাম্মদ কামরুল হাসান মিয়া (পাসপোর্ট নং-বিএফ০০৫২৬২৬) তার জবানবন্দিতে বলেন, সার্জিক্যাল ব্যবসা ছেড়ে রঙ্গিন স্বপ্নের আশায় ১২ লাখ টাকা দিয়ে ভানুয়াতু এসেছি। গেল বছরের ২৬শে সেপ্টেম্বর আমাদের ১০ সদস্যের দল ভানুয়াতু এসেছে। এরপর থেকে যা দেখছি তা এককথায় বর্ণনাতীত। চাকুরি চাওয়ায় আমার জীবন এখন হুমকির মুখে। সমস্ত আশা শেষ হওয়ার কারনে আমরা তিন জন প্রথমে পুলিশের কাছে নালিশ করি। সন্তানরা এখন তাদের জন্য কিছু নিয়ে যেতে বলেন। কিন্তু তাদের মুখ ফুটে কিছুই বলতে পারি না।
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ (পাসপোর্ট নং-বিজে০২০১৬৬০) তার জবানবন্দিতে বলেন, এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে বাংলাদেশে ছিল আমার সুখী পরিবার। তারা আমার আয়ের উপর নির্ভরশীল। ভানুয়াতুতে আসার পর এখনও কোন বেতন পাইনি। তাই টাকার অভাবে বাংলাদেশে আমার ছেলে-মেয়ের লেখাপড়া বন্ধ। অসুস্থ থাকলেও কোন চিকিৎসা পাচ্ছি না। আমরা শতাধিক বাংলাদেশি এখন পুলিশ হেফাজতে। ভানুয়াতুর এ অবস্থা থেকে মুক্তি না পেলে আত্মহত্যা ছাড়া কোন পথ নেই। মো. নাসির উদ্দিন (পাসপোর্ট নং- বিপি০০১৫৭২৫) জবানবন্দিতে বলেন, মা-বাবা এবং ভাই-বোনেরা আমার আয়ের উপর নির্ভরশীল। ১৯ লাখ টাকা খরচ করে এসেও আয়ের মুখ দেখতে পারিনি। কিভাবে আমার পরিবারের ভরণপোষণ করবো। তাদের কষ্টের টাকায় বিদেশ এসেও এখন কূল পাচ্ছি না। এমন অবস্থার পরিত্রাণ চাই। অন্যথায় আত্মহত্যা ছাড়া কোন পথ থাকবে না।




