287028

অমানবিক: দেড় লাখ টাকা পরিশোধের পরও নারীর লাশ আটকে রাখার অভিযোগ

নিউজ ডেস্ক।। চিকিৎসা বিল ২ লাখ টাকা। সেখান থেকে মাত্র ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করতে না পারায় ঠিকমতো চিকিৎসা হয়নি পুতুল শীলের (৪৫)। ফলে রোগীর মৃত্যু। এরপর এই ৫০ হাজার টাকার জন্য আটকে রাখা হয় রোগীর লাশও। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এমন অমানবিক ঘটনা ঘটে চট্টগ্রাম মহানগরীর কাতালগঞ্জে সার্জিস্কোপ নামে একটি বেসরকারি হাসপাতালে। তবে সাংবাদিকদের ভিড় দেখে গতকাল দুপুরে রোগী পুতুল শীলের লাশ ছেড়ে দেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। রোগীর নিকট আত্মীয় শিবু শীল জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে মারা যান পুতুল শীল। তবে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত ১২টার দিকে জানান পুতুল শীল মারা গেছে।

এর মধ্যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দুই লাখ টাকার একটি বিল ধরিয়ে দিয়ে বাকি ৫০ হাজার টাকা পরিশোধের জন্য তাগাদা দিতে থাকেন। শিবু জানান, হাসপাতালের একাউন্টসে আমরা এক লাখ টাকা অগ্রিম জমা দিয়েছিলাম। কিন্তু তখন একাউন্টস থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকার মানি রিসিপ্ট দেয়া হয়। শুক্রবার সকালে ভিটেমাটি বন্ধক রেখে আরো পঞ্চাশ হাজার টাকা এনে হাসপাতালে দেয়া হয়। কিন্তু ক্যাশিয়ার সে টাকা হাতে নিয়ে ছুড়ে ফেলে দিয়ে বলেন, পুরো টাকা না দেয়া পর্যন্ত লাশ দেবেন না। এ বিষয়ে আমরা হাসপাতালের এডমিন ম্যানেজারসহ অনেকের সাথেই যোগাযোগ করেছি, কিন্তু কারো মন গলেনি। নিহতের স্বামী মাধব শীল বলেন, গত ২২শে মার্চ শুক্রবার বিকাল ৪টার দিকে পটিয়া থেকে পুতুল শীলকে হাসপাতালে এনে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে আনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুতুল শীলকে নেয়া হয় আইসিইউতে। রোগীকে আইসিইউ থেকে কেবিনে দেয়ার জন্য বলা হলেও দিচ্ছি দেবো বলে সময় পার করেন হাসপাতালের ডিউটি ডাক্তার ও ফ্লোর ইনচার্জ। তবে এর মধ্যে বেশ কয়েকবার এক ওষুধের জায়গায় আরেক ওষুধ খাইয়ে রোগীর অবস্থা আরও খারাপ করে দেন। এ বিষয়ে ডিউটি ডাক্তারকে বারবার বলার পরও কোনো কর্ণপাত করেননি। মাধব শীল অভিযোগ করেন, অবশেষে ভুল ওষুধ সেবন ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মারা যায় পুতুল। মারা যাওয়ার পর লাশ নিতেও দিচ্ছে না পুরো টাকা না দেয়া পর্যন্ত। এদিকে খবর পেয়ে স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকরা শুক্রবার দুপুর একটা ৪৫ মিনিটে ওই সার্জিস্কোপ হাসপাতালে যান। হাসপাতালে ঢুকতেই নিজেকে ফ্লোর ইনচার্জ পরিচয় দিয়ে কথা বলার চেষ্টা করেন মো. আবদুর রহিম নামের এক যুবক। তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, এখানে কথা বলে লাভ নেই। টাকা জমা দিয়েই লাশ নিয়ে যেতে পারবে। লাশ আটকে রাখা হয়নি। সে সময়ও দেখা যায় হাসপাতালের প্রবেশ দ্বারের পাশে একটি অ্যাম্বুলেন্সে ওই নারীর লাশ।

হাসপাতালের নিচে ছাত্রলীগ নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। অবস্থা বেগতিক দেখে এডমিন ম্যানেজার নিজামুল হক নিজামী বলেন, যা দিয়েছে হয়েছে আর লাগবে না। লাশ নিয়ে যেতে পারেন। পরে দুপুর দুইটা সাত মিনিটে পুতুল শীলের মৃত্যু সনদ ও চিকিৎসার যাবতীয় কাগজপত্র বুঝিয়ে দেন হাসপাতালের ফ্লোর ইনচার্জ মো. আবদুর রহিম। হাসপাতালের ব্যবস্থাপক ডা. মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন বলেন, এ বিষয়ে আমি আগে কিছুই জানতাম না। দুপুরে শুনলাম ২০-৫০ জন লোক এসে হাসপাতালের বিল পরিশোধ না করেই লাশ নিয়ে যেতে চাচ্ছে। তবে এখনো পুরো ঘটনা কি আমি বলতে পারব না। হাসপাতালের সিএফও সঞ্জয়ের সাথে কথা বলেন উনিই বিস্তারিত জানাতে পারবেন। পরে হাসপাতালের সিএফও সঞ্জয়ের মোবাইলে বারবার কল দিয়েও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে নগরের পাঁচলাইশ থানার ডিউটি অফিসার এএসআই আফরোজা বলেন, আমরা খবর পেয়ে হাসপাতালে থানার একটি টিম পাঠিয়েছিলাম। তবে পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই এ বিষয়ে মীমাংসা হয়ে গেছে বলে জানতে পেরেছি। লাশ তার স্বজনরা বুঝে নিয়ে গেছেন।

ad

পাঠকের মতামত