পদত্যাগ করে প্রাথমিক শিক্ষকের আবেগঘন স্ট্যাটাস
বলা হয়ে থাকে প্রাথমিক শিক্ষাই হরো সব শিক্ষার মেরুদণ্ড। কিন্তু সেই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভের অন্ত নেই। যে কারণে মেধাবীরা এই পেশায় আগ্রহী হচ্ছে না। অনেকে যোগ দিয়েও থাকছে না। এমনই একজন শিক্ষক সেলিম উদ্দীন। যিনি ব্যাংক জব হওয়ায় প্রধান শিক্ষকের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তার স্ট্যাটাস ভাইরাল হয়েছে।
তিনি লিখেছেন: ‘প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক থেকে পদত্যাগ করলাম। বুকের ভিতর একটু হু হু কষ্ট ৷ নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে সরকারের ইচ্ছাই এ পেশায় এসেছিলাম (৩৪তম বিসিএস ননক্যাডার)। পারিবারিক চাপে এ চাকরিতে এসেছিলাম। স্ত্রী সন্তান ও মাকে নিয়ে একসাথে থাকতে চেয়েছিলাম। কিন্তু কিছু অফিসারের দুর্নীতির কারনে পদায়ন করা হয়েছিলো দুর্গম চরে যদিও আমার নিজের এলাকার অনেক স্কুল ফাঁকা ছিলো।
ভেবেছিলাম হয়ত বদলী হতে পারবো; কিন্ত প্রাথমিকের বদলী যেন হিমালয়সম কঠিন বিষয়। যাহোক স্কুলে যোগ দিয়ে কষ্ট আরো বেড়ে গেলো। কারণ স্কুলে নেই কোন অবকাঠামো আর শিক্ষক সংকট। তবু কিছু পরিবর্তনের জন্য সচেষ্ট হলাম। ভালোলাগার চেষ্টা করতে লাগলাম। কিন্তু বারবার হোচট খেতে হলো। চার শিক্ষক থেকে দুজন ডিপিএডে গেলো। রইলাম দুজন। আর স্ত্রী সন্তান থেকে দুরেই রইলাম সাথে বোনাস হলো প্রতিদিন যাতায়াত খরচ ২০০ টাকা সাথে যাওয়া আসাতে ৩-৪ ঘন্টা। পরিবর্তনের চেষ্টায় দুমুঠো খাবার খেতে কেনা হলো গ্যাসের চুলা। কিছুটা কষ্ট লাঘব হলো। চলছিলো দিনানিপাত। অবশেষে মুক্তি মিললো জনতা ব্যাংকে জব হয়ে।
একমাত্র আমার মতো ভুক্তভোগী ছাড়া সবাই বলে ব্যাংকের চেয়ে স্কুল শিক্ষক ভালো ৷ কিন্তু আমি জানি এখানে কতটা ভালো। তাইতো ১ বছর ৫ মাসের চাকুরির সমাপ্তি ঘটালাম আজ। অদ্ভুত নিয়মের বেড়াজাল আর পদোন্নতিহীন এ জব মেধাবীদের কিভাবে আকৃষ্ট করবে- এটাই আমার প্রশ্ন। এ লেখাই কেউ কষ্ট পেলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন ৷ আমার জন্য দোয়া করবেন।’





