285385

বনানী ট্রাজেডি: ফারুক তাসভির দায় এড়ানোর চেষ্টায়

নিউজ ডেস্ক।। রাজধানীর বনানীর এফ আর টাওয়ার নির্মাণ-সংক্রান্ত অনিয়মের দায় এড়ানোর চেষ্টা করছেন জমির মালিক ইঞ্জিনিয়ার এস এম এইচ আই ফারুক হোসেন এবং ভবনটির একাংশের মালিক বিএনপি নেতা তাসভির উল ইসলাম। নকশাবহির্ভূতভাবে নির্মিত বহুতল ওই ভবনে অগ্নিকাণ্ডের মামলায় রিমান্ডে থাকা এই দুই আসামি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে পরস্পরবিরোধী তথ্য দিচ্ছেন। একে অন্যকে দোষারোপ করছেন। ফারুক ও তাসভিরের দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের জন্য তাদের কাছে ভবন নির্মাণ-সংক্রান্ত নথিপত্র চাওয়া হয়েছে।

ডিবি পুলিশের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা সমকালকে এসব তথ্য জানিয়ে বলেন, ফারুক ও তাসভিরের বক্তব্যে অমিল রয়েছে। একজনের তথ্যের সঙ্গে আরেকজনের কথার মিল পাওয়া যাচ্ছে না। ফারুক জানিয়েছেন, ১৮ তলা পর্যন্ত নির্মাণের অনুমোদন রয়েছে। তাসভিরের দাবি, অনুমোদন নেওয়া হয়েছে ২২ তলা পর্যন্ত।

২৮ মার্চ বনানীর এফ আর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডে ২৬ জন নিহত হন। আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন আরও অনেকে। এ ঘটনায় বনানী থানায় পুলিশের করা মামলায় জমির মালিক ইঞ্জিনিয়ার ফারুক, নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রূপায়ণ হাউজিং এস্টেট লিমিটেডের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খান মুকুল এবং ভবনটির ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি তাসভিরকে আসামি করা হয়েছে। কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির সভাপতি তাসভির এফ আর টাওয়ারের ২০ থেকে ২২ তলা পর্যন্ত তিনটি ফ্লোরের মালিক। ভবনটির ১৯ থেকে ২২ তলা পর্যন্ত চারটি ফ্লোর নকশাবহির্ভূতভাবে নির্মিত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের মামলা তদন্ত করছে ডিবির উত্তর বিভাগ। শনিবার রাতে ফারুক ও তাসভিরকে গ্রেফতারের পর রোববার তাদের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

জিজ্ঞাসাবাদে জমির মালিক ফারুক বলেছেন, তিনি নিজের খরচে ভবন নির্মাণের জন্য রাজউকের কাছ থেকে ১৫ তলা পর্যন্ত অনুমোদন নেন। পরে নকশা পরিবর্তন করে ১৮ তলা পর্যন্ত অনুমোদন নেওয়া হয়। প্রাথমিকভাবে নির্মাণকাজ শুরুর পর রূপায়ণের সঙ্গে চুক্তি হয়। এরপর রূপায়ণ নিজেদের মতো নকশা করে রাজউক থেকে অনুমোদন নেয়। ১৮ তলার অনুমোদন নিয়ে ২২ তলা ভবন নির্মাণ করায় ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে রাজউকে অভিযোগ করেছিলেন বলে দাবি ফারুকের। জমির মালিক হিসেবে ওই ভবনটির ৪৫ শতাংশের মালিকানা তার। নিজের মালিকানাধীন ফ্লোর ভাড়া দিয়েছেন তিনি। তবে ভবন নির্মাণে অনিয়মের কারণে ফ্লোর হস্তান্তর অনুষ্ঠানে অংশ নেননি বলে জিজ্ঞাসাবাদে দাবি করেছেন ফারুক। তিনি আরও জানান, রূপায়ণ নিজেদের মালিকানাধীন ৫৫ শতাংশের মধ্যে একটি বাদে বাকি সব ফ্লোর বিক্রি করেছে। কিন্তু নানা জটিলতা ভবনের কোনো ফ্লোর রেজিস্ট্রেশন হয়নি। এদিকে তিনটি ফ্লোরের মালিক তাসভির দাবি করেছেন, এফ আর টাওয়ারের ২২ তলা পর্যন্ত নির্মাণের অনুমোদন নেওয়া হয়েছে। ডিবি পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার শাহজাহান সমকালকে বলেন, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কার কার অবহেলা ছিল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ফারুক ও তাসভিরের রিমান্ড চলছে। তাদের কাছে ভবন নির্মাণ-সংক্রান্ত নথিপত্র চাওয়া হয়েছে। উৎস: সমকাল।

ad

পাঠকের মতামত