284947

হাতে-নাতে পরকীয়ায় ধরা পড়ায় স্ত্রী ও প্রেমিক মিলে হত্যা করল ব্যবসায়ীকে

নিউজ ডেস্ক।। ঢাকার কেরানীগঞ্জে পরকীয়ার বলি হয়েছেন মাছ ব্যবসায়ী ও যাত্রাবাড়ী মাছের আড়তদার মো: সাদ্দাম হোসেন। স্ত্রী শিউলী আক্তার (২৫) ও তার প্রেমিক সাব্বির (৩০)-এর হাতে গত বছরের ৪ জুন নির্মমভাবে খুন হন সাদ্দাম। খুনের পর তার বড় ভাই লিটন বাদি হয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় অপমৃত মামলা করেন। যার মামলা নম্বর ৪৩। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে পোস্টমর্টেম রিপোর্টের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। ডাক্তার পরিক্ষা রিপোর্ট দেন যে, সাদ্দাম হোসেনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।

এরপর নড়েচড়ে ওঠে পুলিশ। মামলার প্রায় ৯ মাস পর ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে সাদ্দামের মৃত্যুর কারণ শ্বাসরোধ করে হত্যা উল্লেখ করা হয়। পরে থানা থেকে সাদ্দামের বড় ভাই লিটনকে হত্যা মামলা দায়ের করার জন্য অনুরোধ করলে তারা মামলা করতে রাজি হননি। এরপর থানা পুলিশ বাদি হয়ে অপমৃত্যু মামলাটি গত ২৯ মার্চ অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হিসেবে রুজু করে। যার মামলা নম্বর-৩০। পরবর্তীতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোস্তাফিজুর রহমান গত ২৯ মার্চ সাদ্দামের স্ত্রী শিউলী আক্তারকে উপজেলার হাসনাবাদ হাউজিংয়ের পাশে ভাড়াটিয়া বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে। পরে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী তার প্রেমিক মো: সাব্বির হোসেনকে তার নিজ বাড়ি কেরানীগঞ্জের ইকুরিয়া খালপাড় গ্রেফতার করে। এ মামলায় নিহতের স্ত্রী শিউলী ও তার পরকিয়া প্রেমিক মো: সাব্বির হোসেনকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়। পরে তারা আদালতে হত্যার দায় স্বিকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেন।

গতকাল দুপুর ১২টায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি মো: শাহজামান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি শাকের মোহাম্মদ যুবায়ের।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, গত ৮বছর আগে কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি থানার ষোলপাড়া গ্রামের মৃত সুলতান মিয়ার ছেলে সাদ্দাম হোসেনের সাথে শরিয়তপুর জেলার নড়িয়া থানার খালপাড় গ্রামের মৃত নুর ইসলামের মেয়ের বিবাহ হয়। বিয়ের পর তারা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার হাসনাবাদ এলাকার একটি বাড়িতে ভাড়ায় থাকতেন। তাদের ঘরে ছয় বছরের এটি মেয়ে এবং দুই বছরের একটি ছেলে রয়েছে। স্বামী সাদ্দাম মাছ ব্যবসায়ী হওয়ায় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে তার একটি মাছের আড়ত আছে। প্রতিদিন ভোর রাতে সাদ্দাম চলে যেতেন মাছের আড়তে আর ফিরে আসতেন সন্ধ্যায়। সারা দিন বাসায় একা থাকায় গত চার বছর আগে প্রতিবেশী সাব্বিরের সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন সাদ্দামের স্ত্রী শিউলী আক্তার বিউটি। তাদের এই প্রেম এক সময় দৈহিক সম্পর্কে রূপ নেয়। সাদ্দাম বাসায় না থাকলেই চলে আসত সাব্বির। এভাবে গত চার বছর ধরে চলে আসছে তাদের অবৈধ মেলামেশা।

ঘটনার দিন ২০১৮ সালের ৪ জুন গভীর রাতে বাসায় ফিরে সাদ্দাম হোসেন তার স্ত্রী শিউলী আক্তার বিউটি ও সাব্বিরকে অসামাজিক কার্যকলাপে মিলিত অবস্থায় দেখতে পান। এ সময় ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি সাব্বিরকে মারতে যান। পরে সাব্বির ও শিউলী আক্তার বিউটি দু’জনে শ্বাসরোধ করে সাদ্দামকে হত্যা করেন। ‍উৎস: নয়াদিগন্ত।

ad

পাঠকের মতামত