285077

নানার লালশার শিকার হয়ে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: কিছুদিন যাবৎ বারো বছরের মেয়ের পেট মোটা হতে দেখে মা চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যায়। এটা দেখে চিকিৎসক আল্ট্রাসনো করতে বলে। পরে মেয়েটিকে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে আল্ট্রাসনো করানো হলে রিপোর্টে ধরা পড়ে মেয়ে ২৩ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা।পরে মেয়েটিকে জিজ্ঞাসা করলে সে জানায় ওসমান ওরফে হামা নামে তার প্রতিবেশী এক নানা জোরকরে তার সঙ্গে খারাপ কাজ করেছিল। এমনি এক ঘটনা ঘটেছে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার খন্দকবাড়িয়া আশ্রয়ন প্রকল্পে। এই ঘটনা এখন কুষ্টিয়ার টক অফ দ্যা টাউনে পরিণত হয়েছে।

এ ঘটনায় ওই স্কুল ছাত্রীর মা বাদী হয়ে সোমবার দুপুরে মিরপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে।স্কুল ছাত্রীর মা জানান, ‘মেয়ের পেট মোটা হয়ে যাচ্ছে দেখে প্রথমে সন্দেহ করি কিডনির সমস্যা। সেই জন্য রোববার চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু চিকিৎসক জানালো আমার একমাত্র মেয়ে অন্তঃসত্ত্বা। পরে মেয়েকে জিজ্ঞাসা করলে সে সব ঘটনা আমাকে বলে।’‘আমরা অনেক গরীব মানুষ। শোনার পর কি করবো কিছু বুঝতে পারছি না। আমি মানুষরুপি ওই পিশাচের শাস্তি চাই।’

মিরপুর সাদ আলী ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সনোলজিস্ট মজিবুর রহমান বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, ‘মেয়েটি তার মার সঙ্গে আল্ট্রাসনো করার জন্য এসেছিলো। পরীক্ষা করে দেখি মেয়েটি ২৩ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা।’পারিবারিক ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মেয়েটি মিরপুর মডেল পাইলট প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী। সে তার পরিবারের সঙ্গে উপজেলার খন্দকবাড়িয়া আশ্রয়ন প্রকল্প-২ তে বসবাস করে। বেশ কিছুদিন আগে মেয়েটির মা বাড়িতে ছিলো না। একা থাকায় সুযোগ নিয়ে পানি পানের কথা বলে বাড়িতে ঢুকে একই আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দা সম্পর্কে নানা ওসমান ওরফে হামা (৫৫)। সেখানে জোর করে মেয়েটির সঙ্গে খারাপ কাজ করে। এই কথা কাউকে বললে মেরে ফেলার হুমকিও দেয়। ফলে মেয়েটি ভয়ে কাউকে কিছু জানায়নি।

এদিকে খন্দকবাড়িয়া আশ্রয়ন প্রকল্পে ওসমান এর সন্ধানে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দুই সন্তানের জনক ওসমান মাছ ব্যবসায়ী। এ খবর জানাজানি হওয়ার পর সে গা ঢাকা দিয়েছে। লম্পট ওসমান ওরফে হামার আসল বাড়ি নওগাঁ জেলায়। এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, ‘ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। মেয়ের মা বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে। মেয়েটিকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত ওসমান গা ঢাকা দিয়েছে। তাকে আটক করতে অভিযান অব্যাহত আছে।’

ad

পাঠকের মতামত