284570

পা হারানো রাসেলকে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আদেশ বহাল

পা হারানো রাসেল সরকারকে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে গ্রিন লাইন কর্তৃপক্ষের ওপর দেওয়া হাইকোর্টের আদেশ বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। আজ রোববার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত চার বিচারপতির বেঞ্চ গ্রিন লাইন কর্তৃপক্ষের করা আবেদন খারিজ করে এই আদেশ দেন।এর আগে গত ১২ মার্চ গ্রিন লাইন পরিবহনের বাসচাপায় পা হারানো রাসেলকে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। পরে ওই আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেন গ্রিন লাইন কর্তৃপক্ষ।আদালতে গ্রিন লাইনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আবদুল বাসেত মজুমদার, মো. ওজিউল্লাহ ও সত্য রঞ্জন মন্ডল।

গত ১২ মার্চ হাইকোর্টের ওই আদেশে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে গ্রিনলাইন পরিবহনকে ক্ষতিপূরণের অর্থ পরিশোধ করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি রাসেলের অন্য পায়ে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হলে এবং কাটা পড়া পায়ে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃত্রিম পা লাগানোর খরচও গ্রিনলাইন পরিবহন কর্তৃপক্ষকে বহন করতে বলা হয়েছে।রাসেল সরকারের পা হারানোর পর গত বছরের ১৪ মে ক্ষতিপূরণ চেয়ে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সরকারদলীয় সাবেক এমপি আইনজীবী উম্মে কুলসুম হাইকোর্টে রিট করেন। রিটের শুনানিতে ৬ মার্চ রাসেল আদালতকে বলেছিলেন, পা হারানোর পর এখন পর্যন্ত গ্রিনলাইন কর্তৃপক্ষ তাকে একটি টাকাও দেয়নি। খোঁজখবর নেয়নি, চিকিৎসার ব্যয়ও বহন করেনি।

ওই রিটের শুনানি নিয়ে রাসেলকে কেন এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট।প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৮ এপ্রিল কেরানীগঞ্জ থেকে ঢাকায় ফেরার পথে যাত্রাবাড়ীর হানিফ উড়ালসড়কে গ্রিন লাইন পরিবহনের বাসের চাপায় পা হারান রাসেল। ঘটনার পর রাসেল বলেছিলেন, ফেরার সময় যাত্রাবাড়ীতে গ্রিন লাইন পরিবহনের একটি বাস তার গাড়িকে ধাক্কা দেয়। পরে গাড়ি থামিয়ে বাসের সামনে গিয়ে বাসচালককে নামতে বলেন তিনি।

তখন তার সঙ্গে বাসচালকের কথা-কাটাকাটি হয়।একপর্যায়ে বাসচালক গাড়ি চালাতে শুরু করেন। তখন রাসেল সরতে গেলে উড়ালসড়কের রেলিংয়ে আটকে যান। এ সময় রাসেলের পায়ের ওপর দিয়ে বাস চলে যায়। এরপর অস্ত্রোপচার করে তার বাঁ পা কেটে ফেলা হয়। এ ঘটনায় রাসেল সরকারের বড় ভাই আরিফ সরকার বাসচালক কবির মিয়ার বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় একটি মামলা করেন।

ad

পাঠকের মতামত