আমির হোসেন রাব্বির বিয়ের সাধ পুড়ে গেলো আগুনে, একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে দিশেহারা বাবা-মা
ডেস্ক রিপোর্ট : বিয়ে করার ইচ্ছা পূরণ হয়নি বনানীর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত আমির হোসেন রাব্বির। বিয়ে করবে বলে ঘর করতে কিছু ইটসহ সরঞ্জাম কিনে বাড়িতে রেখেছিলেন তিনি। পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার চরপাড়া গ্রামের এই যুবক এফআর টাওয়ারের ১১ তলার ইকোলাইন বিডি লিমিটেড নামের একটি কোম্পানিতে চাকরি করতেন। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে দিশেহারা রাব্বির বাবা-মা। তার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে গ্রামের বাড়িতে। শোকের মাতমে ভারি হয়ে উঠেছে এলাকার বাতাস। যুগান্তর
রাব্বির পিতা আইয়ুব আলী জানান, ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে পাবনায় গ্রামের বাড়িতে এসেছিলেন রাব্বী। বিয়ে করবে বলে ঘর করতে কিছু ইটসহ সরঞ্জাম কিনে বাড়িতে রেখেছে। এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে বাড়িতে আসার কথা ছিল তার। কিন্তু আমার ছেলে এভাবে বাড়িতে আসবে ভাবতে পারিনি। শুক্রবার দুপুরে পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার গ্রামের বাড়িতে সম্পন্ন হয়েছে বনানীর আগুনে নিহত আমির হোসেন রাব্বির। দুপুর আড়াইটায় চরপাড়া জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে নামাজে জানাজা শেষে তাকে চরপাড়া গোরস্থানে দাফন করা হয়। জানাজায় এলাকার কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেন।
এর আগে রাব্বির লাশ একটি ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্সে করে শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার আতাইকুলা ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামে পৌঁছায়। এসময় এলাকায় এক বেদনাবিধুর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। রাব্বির স্বজন এবং প্রতিবেশীদের কান্নায় এলাকার বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। নিহত আমির হোসেন রাব্বি ওই গ্রামের আয়ুব হোসেনের একমাত্র ছেলে। তার আর দুই বোন রয়েছে। তিনি পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ থেকে ইংরেজীতে মাস্টার্স ডিগ্রি সম্পন্ন করে বনানীর ওই ভবনে ১১ তলায় একটি প্রতিষ্ঠানে গত ৩ বছর চাকরি করতেন। তিনি খিলক্ষেত নিকুঞ্জ এলাকায় থাকতেন।
নিহত রাব্বির বন্ধু গিয়াস উদ্দিন জানান, তিনি শনাক্ত করেন আমির হোসেন রাব্বির (২৯) লাশ। পরে তার পরিবারকে বিষয়টি জানানো হয়। পরিবারের লোকজন জানান, নিহতর বন্ধু গিয়াস উদ্দিন মর্গে তার লাশ শনাক্ত করার পর তাদের জাননো হলে তারা বিষয়টি জানতে পারেন। তার লাশ পৌঁছানোর কথা জেনে এলাকার শত শত নারী-পুরুষ-শিশু তাদের বাড়িতে তাকে একনজর দেখতে ভিড় করে। সেখানে সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহাঙ্গীর আলম, আতাইকুলা থানার ওসি মনিরুজ্জামান ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত হন ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের লোকজনকে সান্তনা দেন।
পাবনার জেলা প্রশাসক মো. জসিম উদ্দিন জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাঁথিয়া ইউএনওকে সেখানে পাঠানো হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে। সাঁথিয়া উপজেলার আর- আতাইকুলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলাম জানান, রাব্বি খুব ভাল ছেলে ছিলেন। তার অকালমৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। বনানীর অগ্নিকাণ্ডের এই ঘটনায় সারা দেশে মানুষ শোকাহত। নিহতদের পরিবারে চলছে শোকের মাতন। বাতাসে ভাসছে লাশের গন্ধ। তবে এমন মৃত্যু কাম্য নয়। আমরা শোকাহত, আমরা শোকাহত। আমরা পরিত্রাণ চাই




