আমার কিছুই বাকি নেই, সব পুড়ে ছাই হয়ে গেল: ক্ষতিগ্রস্ত রাবেয়া
‘দুই বছর আগেও আমার পাঁচটা দোকান পুড়ে গেছিল, ১২ লাখ টাকা ঋণ করে আবার পাঁচটা দোকান নেই। আজকে এগুলোও পুড়ে ছাই হয়ে গেল। আমার কিছুই বাকি নেই।’কথাগুলো বিলাপ করতে করতে বলছিলেন গুলশানের ডিএনসিসি মার্কেটের ব্যবসায়ী সৈয়দা রাবেয়ার সুলতানা। অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে তিনিও একজন।চার মেয়েকে মানুষের মতো মানুষ করবেন এই স্বপ্ন নিয়ে স্বামীর সঙ্গে রাজধানীর গুলশান-১ এর ডিএনসিসি মার্কেটে ক্রোকারিজ পণ্যের ব্যবসায় নামেন সৈয়দা রাবেয়া সুলতানা।
ছোট প্রতিষ্ঠানটি যখন ধীরে ধীরে দাঁড় করিয়ে ফেলেন, তখনই ঘটে সর্বনাশ। ২০১৭ সালের ৩ জানুয়ারির লাগা আগুন পুড়িয়ে ছাই করে দেয় সুলতানার সেই স্বপ্ন। চারদিকে নেমে আসে অন্ধকার।কিন্তু লড়াকু সুলতানা ও তার স্বামী মনির হোসেন দমে যাননি। দুজন মিলে আবারও স্বপ্ন বুনতে শুরু করেন। ঋণ নিয়ে ওই ডিএনসিসি মার্কেটে পুনরায় ব্যবসা শুরু করেন।একদিকে চলতে থাকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের কাজ, অন্যদিকে চলে চার মেয়েকে মানুষের মতো মানুষ করে তোলার প্রচেষ্টা। স্কুলের গণ্ডি পেরুনোর অপেক্ষায় রয়েছেন তার বড় মেয়ে। আগামী বছরই দেবেন এসএসসি পরীক্ষা।
মেয়েরা মানুষের মতো মানুষ হয়ে পরিবারের সবার মুখে হাসি ফোটাবেন- এমন স্বপ্নে যখন বিভোর সুলতানা তখনই আবার পুড়ে ছাই হয়ে গেলো তার স্বপ্নের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এখন সংসার চালানো ও মেয়েদের পড়ার খরচ জোগানো তো দূরের কথা কীভাবে ঋণের টাকা পরিশোধ করবেন সেই চিন্তাই কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে তাকে।আগুনে সর্বশান্ত হয়ে ডিএনসিসি মার্কেটের সামনে সাত বছরের ছোট মেয়ের হাত ধরে দিকভ্রান্তের মতো হাটছেন আর কান্নাকাটি করছেন তিনি। মার্কেটের পরিচিত কাউকে দেখলেই বিলাপ করে বলছেন, ‘কিছু নেই আর, যা ছিল সব শেষ হয়ে গেছে’।
শনিবার ভোর পৌনে ৬টার আগুন লাগে। আগুন নিয়ন্ত্রণে প্রথমে ফায়ার সার্ভিসের ১১টি ইউনিট কাজ শুরু করে। পরে ধাপে ধাপে আরো কয়েকটি ইউনিট যোগ দেয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের ২০টি ইউনিট, সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর যৌথ প্রচেষ্টায় সাড়ে তিন ঘন্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।বাজারটিতে গৃহসামগ্রী, মুদি জিনিসপত্র, সবজির বাজার, কসমেটিক্স দোকান, পারফিউমের দোকানসহ প্রায় ৩ শ’র মতো দোকান ছিল। এসব দোকান মালিকদের দাবি, সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
এর আগে ২০১৭ সালের ৩ জানুয়ারি ভোরবেলা একই মার্কেটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। সেসময় মার্কেটটির বহু দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছিল। এরপর অস্থায়ীভাবে দোকান তৈরি করে মার্কেটটি চালু করা হয়।২০১৭ সালে আগুনের ঘটনার পর পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেয়নি মার্কেট কর্তৃপক্ষ। এমন অভিযোগ করেন আশপাশের লোকজন। তবে আজ ভোরবেলা আগুন লাগার খবর পেয়ে দুই মিনিটের মধ্যে ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট চলে আসে।শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ার কারণে রাস্তা ফাঁকা ছিল। তাই দ্রুত আগুন নেভানোর কাজ শুরু হয়েছে। এ জন্য ডিএনসিসির সুপার মার্কেট অংশে আগুন ছড়ায়নি।




