284078

অমি-ইমরুলের সেঞ্চুরির দিনে ‘নায়ক’ মাশরাফি

স্পোর্টস ডেস্ক ।। লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের কর্ণধার লুৎফর রহমান বাদল এখন দেশছাড়া। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড তাকে নিষিদ্ধ করেছে সবধরনের ক্রিকেটেও। কিন্তু তার দল টিকে আছে ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লীগে। চলতি আসরে ছুটছে দুরন্ত গতিতে। গেলবারের চ্যাম্পিয়ন আবাহনীর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে তারা। গতকাল বিকেএসপি-৪ মাঠে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সকে ২৭ রানে হারিয়েছে আবাহনী। এ জয়ে ১২ পয়েন্ট নিয়ে তারা আছে শীর্ষে। অন্যদিকে মিরপুর শেরেবাংলা মাঠে প্রাইম দোলেশ্বরকে ৭২ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে রূপগঞ্জ।

এ জয়ে আবাহনীর সমান পয়েন্ট নিয়ে রান রেটে পিছিয়ে থেকে দলটির অবস্থান এখন তালিকার দ্বিতীয় স্থানে। বিকেএসপিতে আবাহনীর জয়ের ম্যাচে দারুণ সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন জহুরুল ইসলাম অমি। তার জবাবে সেঞ্চুরি করেন ইমরুল কায়েসও। তবে ব্যাটসম্যানদের দিনে বল হাতে নায়ক জাতীয় ওয়ানডে দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। একাই ৬ উইকেট নিয়ে ধসিয়ে দেন প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপ। ম্যাচসেরাও হয়েছেন তিনি।  টসে জিতেও বিকেএসপির ব্যাটিং স্বর্গে আবাহনীকে ব্যাট করতে পাঠান গাজী গ্রুপের অধিনায়ক ইমরুল কায়েস। তবে তার সিদ্ধান্ত বুমেরাং হতে সময় লাগেনি। যদিও দলীয় ৬৬ রানের সময় ২৯ রানে আবাহনীর সৌম্য সরকারকে আউট করে সাফল্য পেয়েছিল তারা। কিন্তু অভিজ্ঞ ওপেনার জহুরুল ইসলাম অমি দলকে কোনো বিপদে পড়তে দেননি। যদিও তাকে সঙ্গ দিতে এসে দলের ভারতীয় ব্যাটিং ভরসা ওয়াসিম জাফর ১৯ ও তরুণ নাজমুল হোসেন শান্ত ১১ রান করে আউট হন। কিন্তু অমিকে নিয়ে দলের হাল ধরেন অধিনায়ক মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। ১২৮ রানে ৩ উইকেট হারালেও এই দু’জনের জুটিতে দলের স্কোর বোর্ড স্পর্শ করে ২৭৩ রান। ঠিক সেই সময় ৭৬ বলে ৮ চারে ৭১ রান করা অধিনায়ক আউট হন। তবে অমি তখনও অবিচল। এরই মধ্যে পূর্ণ করেন সেঞ্চুরি। অবশ্য জুটি ভাঙার পর বেশিক্ষণ টিকে থাকতে পারেননি। ইনিংসের শেষ ওভারের মাত্র ৩ বল বাকি থাকতে আউট হন তিনি। ১৩৮ বলে ১৪ চার ও ২ ছয়ে সাজঘরে ফেরেন, ততক্ষণে তার নামের পাশে যোগ হয়েছে ১৩০ রান। তাতেই নির্ধারিত ওভার শেষে আবাহনীর স্কোর বোর্ডে জমা পড়ে ৬ উইকেট হারিয়ে ২৮৬ রান।

বড় লক্ষ্য তাড়া করে টানা হারের বৃত্তে থাকা গাজী খেই হারিয়ে ফেলে। বিশেষ করে দেশসেরা পেসার মাশরাফি এদিন বল হাতে আগুন ঝরাতে শুরু করেন প্রথম ওভার থেকেই। দলের স্কোর বোর্ডে কোনো রান যোগ না হতেই তার বলে আউট হন অভিজ্ঞ ওপেনার রনি তালুকদার। তবে অধিনায়ক ইমরুল তার নেয়া পরে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত যে ভুল ছিল না তা প্রমাণ করতে দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে যান আবাহনীর বোলারদের সামনে। কিন্তু তাতে কি! আরেক ওপেনার মাইশুকুর রহমান আউট হন দলের জন্য ১৫ রানের অবদান রেখে। এরপর অধিনায়কের সঙ্গে দলের হাল ধরতে এসে অভিজ্ঞ শামসুর রহমান ৩০, পারভেজ রসুল ১ রান করে আউট হন। এরই মধ্যে নিজেও হাল ছাড়েন ইমরুল। ১১৮ বলে ১২৬ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন যেখানে ১৫ চারের সঙ্গে হাঁকান ৫টি ছয়ের মারও। এরপর তৌহিদ তারিখ ৩৯ রান করে দলের হারের ব্যবধানই শুধু কমিয়েছেন। কিন্তু হার এড়াতে পারেননি। ২৫৭ রানেই গুটিয়ে গেছে গাজী। শুরু, মাঝে ও শেষে- তিন স্পেলে দুটি করে উইকেট নিয়ে মাশরাফি শেষ করে দিয়েছেন গাজীর জয়ের আশা। ৪৬ রানে নিয়েছেন ৬ উইকেট। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে এ নিয়ে ছয়বার ৫ বা এর বেশি উইকেট নিলেন তিনি। তিনি চারবারই নিয়েছেন ৬ উইকেট। এতবার ৬ উইকেট নেয়া বাংলাদেশের আর কোনো বোলার নেই। চলতি লীগে আগের চার ম্যাচে তার শিকার ছিল মাত্র ২ উইকেট।

ad

পাঠকের মতামত