ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ‘জয় বাংলা’ শ্লোগান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসের পরদিনই ব্রিটেনে ঘটে গেলো এক অভিনব ঘটনা। ২৭ মার্চ ব্রেক্সিট বিতর্কে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট যখন সরগরম, তখন হাউস অব কমন্সের টেমস তীরবর্তী টেরেজ প্যাভেলিয়নে ‘জয় বাংলা’ শ্লোগান উঠেছিল। বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন অর্ধশতাধিক ব্রিটিশ এমপি। নারীর ক্ষমতায়ন, সন্ত্রাস দমন, উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ও রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ সরকারের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন তারা। আশা প্রকাশ করেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরালো হবে।
বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম ওই অনুষ্ঠানে বলেছেন, আগে ব্রিটেনের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘সহযোগিতা খাত’কে গুরুত্ব দেওয়া হলেও এখন গুরুত্ব পাচ্ছে ‘বাণিজ্য’। পার্লামেন্টে ব্রেক্সিট বিতর্কের ফাঁকে ফাঁকে টেমস তীরের টেরেজ প্যাভেলিয়নে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেন ব্রিটিশ এমপিরা। তাদের অনেকেই ‘জয়বাংলা’ স্লোগান দেন। স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে তারা বলেন, বিশ্ব সভায় বাংলাদেশ একটি মানবিক রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃত।
‘কক্সবাজারের মত একটি জনবহুল এলাকার মানুষ নিজেদের কষ্ট অগ্রাহ্য করে লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিতে সরকারকে সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি মানবিক রাষ্ট্র হিসেবে প্রমাণ করেছে।’ বলেন ব্রিটিশ এমপিরা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে ‘অব্যাহত গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা’র সমৃদ্ধি কামনা করেন তারা। অনুষ্ঠানে ব্রিটিশ এমপিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্টিফেন টিমস, জিম ফিজ পেট্রিক, পল স্ক্যালি, স্যান্ডি মার্টিন, জনাথন এ্যাসওর্থ, সীমা মালহোত্রা, টেরি লয়েড, জেস ফিলিপ , জুলিয়ান নাইট, ওয়েস্ট স্ট্রিটিং, নিক ব্রাউন ও এ্যান মেইনসহ ব্রিটিশ পার্লামেন্টর অর্ধ শতাধিক আইনপ্রণেতা।
পার্লামেন্টের বাংলাদেশ বিষয়ক সর্বদলীয় কমিটির শীর্ষ ব্যক্তি অ্যান মেইন বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার আখ্যা দিয়ে বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে যুক্তরাজ্য বের হয়ে আসার পর বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক আরও জোরালো করার কথা ভাবছে ব্রিটিশ সরকার। ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ দলের এই আইনপ্রণেতা বলেন, কিছুদিন আগেই তিনি বাংলাদেশ সফর করেছেন। এ বছর আবার আসবেন। বিরোধী দল লেবার পার্টির আইনপ্রণেতা জেস ফিলিপস বলেন, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক দিক দিয়ে অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধন করেছে।
তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশের পোশাক শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে কাজের অংশ হিসেবে শিগগিরই বাংলাদেশ সফরের পরিকল্পনা আছে তার। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শাহরিয়ার আলম। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ একটা সময় ব্রিটেনের সাহায্য সহযোগিতার উপর নির্ভর করত, আর এখন ব্রিটিশ বাণিজ্যকে প্রাধান্য দিচ্ছে।’ তিনি জানান, বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ১৯০০ মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। দক্ষিণ এশিয়াতে বাংলাদেশের রিজার্ভ এখন দ্বিতীয়। শুধু মাত্র ভারত বাংলাদেশের থেকে এগিয়ে।
মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে সমর্থন দেওয়া ব্রিটিশ এমপিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বক্তব্য রাখেন যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান মাহমুদ শরীফ, দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ফারুক। অনুষ্ঠানে ব্রিটেনে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম তার বক্তৃতায় বাংলাদেশে ধর্মনিরপেক্ষ গণতন্ত্র বজায় রাখতে ব্রিটেনের পররাষ্ট্র নীতিকে পূর্ণবিণ্যাসের আহবান জানান।




