‘বাবা তুই লাফ দিস না’
আগুন লাগার পরপরই বাবা, শ্বশুর ও অন্য স্বজনদের ফোন করছিলেন বাদশা ফয়সাল (৪০)। ফোনের ওপাশ থেকে ফয়সালের বাবা দেলোয়ার হোসেন বারবার বলছিলেন, ‘বাবা তুই অপেক্ষা কর। টিভিতে দেখতাছি অনেকে লাফিয়ে পড়ে গুরুতর আহত হচ্ছে। তুই লাফ দিতে যাস না। হেলিকপ্টার আছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আছে। কোনো না কোনোভাবে তারা তোকে উদ্ধার করবে। একটি নিরাপদ জায়গায় কোনোমতে অপেক্ষা করিস।’ কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে এভাবেই বাবার নির্দেশনার কথা জানাচ্ছিলেন ফয়সাল।
ফয়সাল বলেন, জীবিত ফিরতে পারব এটা কল্পনায়ও ছিল না। বাবার সঙ্গে কথা বলার পর শ্বশুর ইদ্রিস আলীর সঙ্গেও কথা হয়। তিনি লাফ না দেওয়ার পরামর্শ দেন। ১৩ তলায় ছিলাম। আগুন লাগার পরপরই সিঁড়ি দিয়ে নামার চেষ্টা করি। তবে সেখানে মাত্রাতিরিক্ত তাপ থাকায় নামা সম্ভব হয়নি। এর পর পুরো ফ্লোরে ঘুরতে থাকি। ধোঁয়ায় কিছু দেখা যাচ্ছিল না। মনে হচ্ছিল, এক ভুতুড়ে নগরী। বৃহস্পতিবার বনানীর এফ আর টাওয়ারে আগ্নিকাণ্ডের সময় ফায়ার সার্ভিসের লোকজন তাকে উদ্ধার করে।
ফয়সাল যখন কথা বলছিলেন, তখন হাসপাতালে তার মাথার কাছে বসে একাধিক স্বজন কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন। এক বছর দুই মাস হলো তিনি বিয়ে করেছেন। পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন বনশ্রী এলাকায়। উৎস: সমকাল।




