283487

বনানী অগ্নিকাণ্ডে নিহত সংখ্যা বেড়ে ১৯

রাজধানীর বনানীর কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউয়ের বহুতল ভবনে এফ আর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে ইউনাইটেড হাসপাতালে তিনজন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে দুজন, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে একজন এবং ঘটনাস্থলে ১৩ জন মারা গেছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন ৭০ জন। হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক (ডিডি) দিলীপ কুমার ঘোষ। সন্ধ্যায় প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।

দিলীপ কুমার ঘোষ জানান, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। বর্তমানে উদ্ধারকাজ চলছে। ভবনে কেউ জীবিত অথবা মৃত অবস্থায় আটকা পড়ে আছে কি না- তা অনুসন্ধানে উদ্ধার টিম কাজ করছে।এদিকে গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) আব্দুল আহাদ নিহত ছয়জনের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন। নিহতরা হলেন- পারভেজ সাজ্জাদ (৪৭), মামুন (৩৬), আমিনা ইয়াসমিন (৪০), আব্দুল্লাহ আল ফারুক (৩২), মনির (৫০) ও মাকসুদুর (৩৬)।

জানা গেছে, ঢামেকে নিহত ব্যক্তির নাম আব্দুল্লাহ আল ফারুক এবং কুর্মিটোলায় নিহতের নাম নিরস ভিগ্নে রাজা (৪০)। কুর্মিটোলায় নিহত রাজা শ্রীলঙ্কার নাগরিক এবং স্কেন ওয়েল লজিস্টিকসের ম্যানেজার পদে কর্মরত ছিলেন। তবে ইউনাইটেড হাসপাতালে নিহত তিনজনের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।এদিকে এফ আর টাওয়ারে আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক (ডিডি) দেবাশিষ বর্ধন জানান, ভবনে প্রচুর দাহ্য পদার্থ রয়েছে, ফলে কাজ করতে আমাদের বেগ পেতে হচ্ছে। আগুন এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। আমরা সর্বশক্তি দিয়ে কাজ করছি।

কাজ শুরু করতে দেরি করার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের উদ্ধার কাজে ব্যবহৃত গাড়িগুলো ডিজিটাল, ম্যানুয়াল নয়। এগুলো সেট করতে কিছুটা সময় লাগে তবে, খুব বেশি সময় নয়। আমরা শতাধিক লোকজনকে ভবন থেকে উদ্ধার করেছি। আহতদের উদ্ধার করতে পেরেছি। এখানে একটা ভবন থেকে আরেকটা ভববনের দূরত্ব খুব কম। আমরা দ্রুত তৎপরতা না শুরু করলে আগুনটা অন্য ভবনেও ছড়িয়ে যেতো।বৃহস্পতিবার পৌনে বেলা ১টার দিকে কামাল আতাতুর্ক এভিনিউয়ের ৩২ নম্বর হোল্ডিংয়ে ওই ভবনে আগুন লাগার পুরো এলাকা ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়। উদ্ধারকাজে যোগ দেয় নৌ, বিমান ও সেনাবাহিনীর সদস্যরাও। দুটি হেলিকপ্টার দিয়েও আগুন নেভানোর চেষ্টা চলছে। আটকা পড়াদের সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার দিয়ে উদ্ধার করা হয়।

দুপুর ১টার আগে বনানীর ২৭ নম্বর রোডের ২২ তলা ভবনটিতে আগুন লাগে। ভবনের ভেতরে লোকজন আটকা পড়ে। দুপুর ২টার দিকে ভেতর থেকে একজন নারী ফেসবুক লাইভে এসে তাদেরকে বাঁচানোর আকুতি জানান। ভিডিওতে শোনা যায় এক নারীর কণ্ঠ। তিনি বারবার বলছেন, আমাদের জন্য সিঁড়ি পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। নাহলে ধোঁয়ায় আমরা মারা যাবো। বেশ কয়েকজনকে দেখা গেছে ভবনের পাশ ঘেঁষে থাকা পাইপ বেয়ে নামতে গিয়ে গড়িয়ে পড়েছেন।

ad

পাঠকের মতামত