283242

জানি না ওরা বাঁচবে কি না!

নিউজ ডেস্ক।। আগুনে জ্বলছে রাজধানীর বনানীতে এফআর টাওয়ার। ভেতরে আটকা পড়েছেন অনেকে। কেউ তার স্বজনকে ফোন করে জানান দিচ্ছেন তাদের অবস্থান। কেউবা আবার নেটওয়ার্কের কারণে ফোন করতে পারছেন না পরিবারকে। এর মধ্যে কথা হয় আবদুস সালাম নামের ওই ব্যক্তির সঙ্গে। আত্মীয়ের মৃত্যুর আশংকায় তিনি বলছেন, ‘যেভাবে আগুন জ্বলছে, জানি না ওরা বাঁচবে কি না।’

বনানীর কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউয়ের ১৭ নম্বর রোডের ২২ তলাবিশিষ্ট এফআর টাওয়ার ভবনের লাগা ভয়াবহ আগুনে ১২ তলায় আটকে পড়া ভয়ার্ত মানুষগুলো বাঁচার তাগিতে নিজেদের আত্মীয়-স্বজনকে বার বার ফোন করছেন মুঠোফোনে। আবদুস সালামের এক আত্মীয় তাকে ফোন করেছিলেন। তিনি বলেন, “আমার আত্মীয় আমাকে ফোন করেছিল। সে আমাকে বলেছে, ‘‘ধোঁয়ায় দম বন্ধ হয়ে আসছে। ওপরেও যেতে পারছি না। আমরা ১৫ জন আটকা পড়েছি। বাঁচব কিনা জানি না, দোয়া করো।’ এর পর থেকে তার মোবাইলে ফোন দিলেও পাওয়া যাচ্ছে না। যেভাবে আগুন জ্বলছে, জানিনা ওরা বাঁচবে কি না।”

শুধু সালাম নয়। আশরাফুজ্জান নামে একজন আত্মীয়র মোবাইল ফোন করে তাকে পাচ্ছেন না। বার বার কল দিলেও মোবাইল নাম্বার বন্ধ পাচ্ছেন তিনি। আজ বৃহস্পতিবার পৌনে ১টার দিকে এ আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। প্রায় ২ ঘণ্টা ধরে আগুন জ্বলছে। ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের এক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে আগুন লাগার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেননি তিনি। ২২ তলা ওই ভবনের মাঝামাঝি অংশে আগুন জ্বলতে দেখা যাচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের জানান, ভবনের অষ্টম তলায় আগুন লেগেছে বলে তারা প্রথমে জানতে পারেন। পরে অন্যান্য তলায়ও আগুন ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে পুরো ভবন আগুন ও আগুন থেকে সৃষ্ট কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। এতে ভবনটির কোন কোন তলায় আগুন ছড়িয়েছে, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

আগুন থেকে বাঁচতে কয়েক ব্যক্তিকে ভবন থেকে বের হতে লাফ দিতে দেখা গেছে। তাঁরা নিচে পড়ে যাওয়ার পর তাঁদের উদ্ধার করেন উপস্থিত লোকজন। ভবনের ওপরে হেলিকপ্টার টহল দিতে দেখা গেছে। ওই ভবনে কয়েকটি গার্মেন্ট বায়িং হাউজ এবং ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারের অফিস রয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। উৎস: দৈনিক আমাদের সময়।

ad

পাঠকের মতামত