282820

বাস মালিক ননী গোপালের নির্দেশে ড্রাইভিং সিটে বসেন কন্ডাক্টর

নিউজ ডেস্ক।। বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) শিক্ষার্থী আবরার আহমেদ চৌধুরীকে (২০) চাপা দেওয়া সুপ্রভাত বাসটি চালাচ্ছিলেন কন্ডাক্টর ইয়াসিন। মালিকের নির্দেশেই বাসের ড্রাইভিং সিটে বসে পড়েন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন তিনি। আজ বুধবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার আব্দুল বাতেন এ তথ্য জানান।

বাসের চালক সিরাজুলকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে আব্দুল বাতেন বলেন, গত ১৯ মার্চ পুরান ঢাকার ভিক্টোরিয়া পার্ক এলাকা থেকে সকাল পৌনে ছয়টার দিকে গন্তব্যে রওনা দেয় সুপ্রভাত পরিবহনের বাসটি। পথিমধ্যে বাসটি রাজধানীর শাহজাদপুরের বাঁশতলা এলাকায় মিরপুর আইডিয়াল গার্লস ল্যাবরেটরি কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী সিনথিয়া সুলতানাকে চাপা দিয়ে গুরুতর জখম করে। এর পর বাসের যাত্রীরা চালক সিরাজুলকে আটক করে ট্রাফিক পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।

ইয়াসিনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে তিনি বলেন, এ সময় উপস্থিত জনতা বাসের ক্ষতি করতে পারবে এমন আশঙ্কায় বাস মালিক ননী গোপালের নির্দেশে ড্রাইভিং সিটে বসেন কন্ডাক্টর ইয়াসিন। কোনো ধরনের ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকা স্বত্ত্বেও বাস নিয়ে দ্রুত পালানোর সময় নর্দ্দা এলাকা পার হতেই বিইউপি শিক্ষার্থী আবরারকে চাপা দিয়ে হত্যা করে।

হত্যার পর ইয়াসিন বাসটি রেখে আত্মগোপনে চলে যায়। পরে মঙ্গলবার রাতে চাঁদপুরের শাহরাস্তি এলাকার একটি ইটের ভাটা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার সকালে মধ্যবাড্ডা থেকে বাসের হেলপার ইব্রাহিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ইয়াসিন প্রাথমিকভাবে বাসচাপা দিয়ে আবরারকে খুনের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। এ ছাড়া বাস মালিক ননী গোপাল ডিবির নজরদারিতে রয়েছেন বলেও জানান আব্দুল বাতেন।

উল্লেখ্য, গত ১৯ মার্চ রাজধানীতে নর্দ্দা এলাকায় সুপ্রভাত বাসের চাপায় আবরার নিহত হন। এদিন ‘ট্রাফিক শৃঙ্খলা সপ্তাহ’ চলার মধ্যেই সকাল সাড়ে সাতটার দিকে যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে এ ঘটনা ঘটে। জানা যায়, রাজধানীর বসুন্ধরা গেট এলাকায় জেব্রা ক্রসিং দিয়ে রাস্তা পারাপারের সময় দুই বাসের অসুস্থ প্রতিযোগিতায় বিইউপির শিক্ষার্থী আবরার আহম্মেদ চৌধুরী নিহত হন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

ad

পাঠকের মতামত