জেব্রা ক্রসিংয়ে নয়, আগেই আবরারকে চাপা দেয় সুপ্রভাত পরিবহণ (ভিডিও)
নিউজ ডেস্ক :বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) শিক্ষার্থী আবরার আহমেদ চৌধুরীকে জেব্রা ক্রসিংয়ে চাপা দিয়েছিল সুপ্রভাত পরিবহণের বাস- দুর্ঘটনার পর এমন দাবি করেছিল বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা। তাদের দাবির ভিত্তিতে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমও এমন সংবাদ প্রকাশ করেছিল। তবে সেই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে মিলল ভিন্ন তথ্য। জেব্রা ক্রসিংয়ে নয়, তার অনেক আগেই আবরারকে চাপা দেয় সুপ্রভাত বাসটি। রাজধানীর নর্দ্দা এলাকার সেই ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ আমাদের সময়ের হাতে রয়েছে।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ১৯ মার্চ সকাল ৯টা ১০ মিনিটে নর্দ্দার ওই সড়কের একপাশে বেশ যানজট লেগেছিল। তবে সড়কের যেপাশে আবরারকে চাপা দেওয়া হয়, সেপাশের সড়কটি ছিল মোটামুটি ফাঁকা। তাই বাস, মোটরসাইকেল, রিকশাসহ অন্যান্য যানবাহন বেশ দ্রুতবেগে চলাচল করছিল। আর সড়কের ফুটপাত দিয়ে পায়ে হেঁটে যে যার গন্তব্যে যাচ্ছিলেন পথচারীরা।
সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সকাল ৯টা ১০ মিনিট ৩৮ সেকেন্ডে একটি বাস ঘটনাস্থল দিয়ে দ্রুতগতিতে চলে যায়। তার ঠিক ২ সেকেন্ড পরেই অর্থাৎ সকাল ৯টা ১০ মিনিট ৪০ সেকেন্ডে সুপ্রভাত পরিবহনের বাসটির সামনের ডান পাশে ধাক্কা খেয়ে রাস্তায় পড়ে যান আবরার, যা জেব্রা ক্রসিং থেকে বেশ খানিকটা দূরে। এরপর বাসটি আবরারকে ঠেলে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে। আবরারকে ধাক্কা দেওয়ার ২ সেকেন্ড পর বাসটি সড়কের ডান পাশের দিকে একটু চাপানোর চেষ্টা করে। ৯টা ১০ মিনিট ৪৪ সেকেন্ডে বাসটি জেব্রা ক্রসিং অতিক্রম করে চলে যায়। এ সময় জেব্রা ক্রসিং থেকে কয়েক ফুট আগে পড়ে থাকতে দেখা যায় আবরারের নিথর দেহ।
সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী, আবরারকে ধাক্কা দেওয়ার পর ৪ সেকেন্ড ধরে ঠেলে নিয়ে যায় সুপ্রভাতের বাসটি। বাসটিকে যখন জেব্রা ক্রসিং পার হয়ে যেতে দেখা যায়, তখনো আবারের দেহ জেব্রা ক্রসিংয়ের কয়েক ফুট আগে সড়কের মাঝখানে পড়ে ছিল।সিসিটিভি ফুটেজ থেকে আরও দেখা যায়, বাসটি চলে যাওয়ার পর আবরারের দেহ থেকে কিছুটা দূরত্বে তার কাঁধের ব্যাগটি পড়ে ছিল। ৯টা ১০ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডে সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা এক ব্যক্তি দৌঁড়ে সড়কের মাঝে চলে যায়। এরপর তিনি আবরারের দেহের পাশে দাঁড়িয়ে থাকেন। ৯টা ১১ মিনিটে ঘটনাস্থলের পাশে ট্রাফিক পুলিশের দুই সদস্যকে দৌঁড়ে যেতে দেখা যায়।
আবরার নিহেতর ঘটনার তদন্তে ডিবি পুলিশের অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে। ওই দিন শাহজাদপুর এলাকায় সুপ্রভাত পরিবহনের বাসটি বেপরোয়া গতিতে কলেজের এক শিক্ষার্থীকে চাপা দিয়ে গুরুতর জখম করে। এরপর বাসের যাত্রীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওই বাসের চালক সিরাজুল ইসলামকে আটক করে ট্রাফিক পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। তখন জনতা বাস ভাঙচুর চালাতে পারে- এমন আশঙ্কায় মালিকের নির্দেশে ড্রাইভিং সিটে বসে পড়েন কন্ডাক্টর ইয়াসিন আরাফাত। মূলত ঘটনাস্থল থেকে বাস নিয়ে দ্রুত পালাতে গিয়েই বিইউপি শিক্ষার্থী আবরার আহমেদকে চাপা দেন তিনি। এর ফলে ঘটনাস্থলেই প্রাণ যায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আবরারের।
গ্রেপ্তার হওয়া বাসের মূল চালক সিরাজুলকে জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য বেরিয়ে আসে। তার বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাতে চাঁদপুরের শাহরাস্তি এলাকায় অভিযান চালিয়ে আবরারকে চাপা দেওয়ার সময় চালকের আসনে থাকা কন্ডাক্টর ইয়াসিন আরাফাতকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী আজ বুধবার সকালে রাজধানীর মধ্যবাড্ডা এলাকা থেকে হেলপার ইব্রাহিমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
https://www.youtube.com/watch?v=yqSFGpZ0gfo




