রাগ হয়ে স্ত্রীকে একটা চড় মেরেছিলাম, বললেন হিরো আলম
বগুড়ায় ঘটনার প্রায় ২০ দিন পর বাচ্চাদের নিয়ে কারাবান্দি স্বামী আশরাফুল হোসেন ওরফে হিরো আলমের সাথে সাক্ষাত করলেন সাদিয়া আক্তার সুমি। মীমাংসা আপোষ নামা উপস্থাপনের পরও আদালতে জামিন না হওয়ায় ২৬ মার্চ (মঙ্গলবার ) কারাগারে সাক্ষাৎ করেন স্ত্রী জামিন সাদিয়া আক্তার সুমি।
এদিকে নারী নির্যাতন মামলায় গত প্রায় ২০দিন কারাগারে আটক বহু আলোচিত হিরো আলম কেমন আছেন, কারাগারে কেমন কাটছে তার দিনগুলি ? এমন খোঁজ খবর করতে মঙ্গলবার কারাগারে গিয়ে দেখা হয় তার স্ত্রী সাদিয়া আক্তার সুমি ও তাদের সন্তানদের সাথে । এসময় তার সাথে ছিলেন তার এক ভাই ও ভাসুর। সেই সুবাদে কথা হয় হিরো আলমের সাথে। কেমন কাটছে কারাগারের দিন গুলি তার কাছে জানতে চাওয়া হলে, সেই হাসি মুখে তার জবাব ছিল, যে ভাবেই থাকি, আছি বেশ। কোন অসুবিধা হচ্ছেনা সেখানে তার। বাচ্চাদের জন্য মন খারাপ লাগে, এমনটাই বলছিলেন তিনি।
কারাগার সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে হিরো আলমের বক্তব্য ছিল এমন যে, শুনেছিলাম কারাগারের জীবন খুব কষ্টের হয়। কিন্তু বগুড়া জেলা কারাগারে এসে তার সে ধারনা পাল্টে গেছে। সব কিছুই সেখানে চলে নিয়ম মাফিক। তিন বেলার খাওয়া দাওয়াতে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করে হিরো আলম বলেন, সকালে রুটি গুর চা, দুপুর এবং রাতে নিয়মিত ভাবে মাংস, মাছ, ডাল এবং ভাজী তরকারী থাকে। এছাড়াও কারাগারের অভ্যন্তরে ক্যান্টিন আছে। অন্যদিকে স্ত্রীকে নির্যাতনের বিষয়টি অস্বীকার করে আবারো হিরো আলম বলেন তিনি রাগ হয়ে তার স্ত্রীকে চড় মেরেছিলেন। ঘটানাকে অন্যখাতে নিয়ে তার দুই চাচা শ্বশুর তিলকে তাল বানিয়ে তার উপর হামলা চালিয়ে তাকে মারপিট করে। পরে তারা চালাকি করে তার স্ত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করায় এবং তার বিরুদ্ধে মামলা করে। তিনি ঘটনাকে রহস্যজনক উল্লেখ করে বলেন, উপনির্বাচনে আমি যাতে অংশ নিতে না পারি সেই কারণে ষড়যন্ত্রমূলক মামলা সাজানো হয়েছিল।
কারাগারে হিরো আলমকে বিশেষ আদর্শ স্থানে আলাদা ব্যবস্থায় রাখা হয়েছে। কারাগারে তাকে যেন কেউ বিরক্ত না করে, শুরু থেকেই সে দিকে নজর ছিল কারা কর্তৃপক্ষের।
এ বিষয়ে বগুড়া জেলা কারাগারের জেলার মুহা: রফিকুল ইসলামের সাথে কথা বলে হলে তিনি জানান, হাসপাতালে খাবার মেন্যু তালিকা মত সকল বন্দিদের খাবার পরিবেশন করা হয়ে থাকে । হিরো আলমকে একজন ভদ্র হাজতি হিসাবে উল্লেখ করে এই কর্মকর্তা আরো জানান, তাকে একজন সেলিব্রেটি হিসাবে কারাগারের আদর্শ স্থানে শুরু থেকেই রাখা হয়েছে ।
এদিকে গত সোমবার আপসনামা জমা দিয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে হিরো আলমের জামিন চাইলে শুনানি শেষে জেলা ও দায়রা জজ নরেশ চন্দ্র সরকার আপোস নামার বিপরীতে হিরো আলমের জামিন মঞ্জুর করেননি। তবে আগামী ১৮ এপ্রিল ধার্য তারিখে হিরো আলমকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়ে তার উপস্থিতিতে জামিন শুনানির আদেশ দিয়েছেন বিজ্ঞ আদালত।
এ বিষয়ে হিরো আলম জানান, আগামী ১৮ এপ্রিল তারিখ বেশ লম্বা তাই তিনি তার আইনজীবির মাধ্যমে উচ্চ আদালতে জামিনের আবেন করবেন। তিনি আরো জানান হাই কোর্টে জামিন আবেদনের সকল প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়েছে।
এ বিষয়ে আরো জানা যায়, যৌতুক ও মারপিট সহ নারী নির্যাতন মামলার বাদী হিরো আলমের শ্বশুর সাইফুল ইসলাম জামাতা হিরো আলমের বিরুদ্ধে মামলা না চালানোর সিদ্ধান্ত নেন। মিমাংসা সমঝোতা হওয়ার পর এ ব্যাপারে আদালতে এফিডেভিট করা হয়েছে বলে জানান তার পরিবার। সোমবার সাইফুল ইসলাম, তার মেয়ে সাদিয়া আক্তার সুমি ও তার দুই সন্তান সহ আদালতে আসেন। শ্বশুর সাইফুল ইসলাম আপোস নামার ভিত্তিতে আইনজীবির মাধ্যমে হিরো আলমের জামিন প্রার্থনা করেন।
এদিকে হিরো আলমের মামলার বাদী তার মেয়ে সুমিকে মারধর ও জামাই হিরো আলমের দ্বিতীয় বিয়ের প্রমাণ দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন । আদালতে তারা কোন প্রমান উপস্থান না করতে পারা এবং আপোস মিমাংসার জন্য আদালতে আবেদন করার জন্য বিজ্ঞ আদালত এসময় স্ত্রী ও শ্বশুরকে ভৎসনা করেন। পরে হিরো আলমের জামিন নামঞ্জুর করে আগামী ১৮ এপ্রিল জামিন আবেদনের পূর্ণাঙ্গ শুনানির দিন ধার্য করেন আদালতের বিচারক। একই দিনে হিরো আলমকে আদালতে হাজিরের পাশাপাশি তার স্ত্রী সুমি ও শ্বশুর সাইফুল ইসলামকেও উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।
এদিকে হিরো আলমের স্ত্রী সাদিয়া আক্তার সুমির সাথে কথা বলা হলে তিনি হিরো আলমের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পর্কে নিজের কিছুটা বাড়াবাড়ি বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন আমি আমার স্বামী সন্তানদের নিয়ে সংসার করতে চাই।
উল্লেখ্য, স্ত্রীকে মারপিট ও যৌতুক মামলায় হিরো আলমকে গত ৭ মার্চ সন্ধ্যায় শ্বশুর সাইফুল ইসলাম এর দায়ের করা অভিযোগে তাকে থানায় ডেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
হিরো আলমকে ৭ মার্চ বগুড়ার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির কর হয়। তার পক্ষে অ্যাডভোকেট মাসুদুর রহমান স্বপন জামিন চাইলে শুনানি শেষে বিচারক আহম্মেদ শাহরিয়ার তারিক জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে গত ১১ মার্চ অ্যাডভোকেট একেএম সাইফুল ইসলাম জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হিরো আলমের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন প্রার্থনা করেছিলেন। কিন্তু জেলা ও দায়রা জজ নরেশ চন্দ্র সরকার শুনানি শেষে তা নামঞ্জুর করেন। ২য় বিয়ে যৌতুক এবং মারধোরের অভিযোগ করেছিলেন তার স্ত্রী সুমি । কিন্ত এখন সুমি নিজের স্বীকার করেছেন ২য় বিয়ের ব্যাপারটা একটু বাড়াবাড়ি ছিল ।
তিনি আরো বলেন, পরের কথায় আমি ক্ষুব্ধ হয়েছিলাম। গত ৫ মার্চ তারিখে স্বামী তাকে চড় মেরেছিল। এরই প্রেক্ষিতে হিরো আলমকে গ্রেফতার করা হয়।




