রাষ্ট্রবিরোধী অপপ্রচার, কে এই আশেক?
ফেসবুকে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা ও মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে বিভ্রান্তিকর ও বিতর্কিত তথ্য ছড়াতেন জাতীয়তাবাদী সাইবার দলের সভাপতি আশেক আহমেদ (৪০)। শুধু তাই নয়, জাতীয় নেতাদের নিয়ে বিকৃত কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও ছবি পোস্ট করে তাদের সম্মান ক্ষুণ্ন করতেন তিনি। সোমবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ানবাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাব-৩ এর অধিনায়ক (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল এমরানুল হাসান।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধকে অবমাননা করে পোস্ট ও রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণার অভিযোগে রোববার রাতে রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় অভিযান চালিয়ে আশেককে আটক করা হয়।
র্যাব-৩ অধিনায়ক এমরানুল হাসান বলেন, আশেক নিজেকে নাটোর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি এবং নাটোর জেলা জাতীয়তাবাদী সাইবার দলের সভাপতি বলে দাবি করেছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তিকর, বিতর্কিত ও কটাক্ষপূর্ণ মন্তব্য করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী অপপ্রচার চালিয়ে আসছিলেন।রাষ্ট্রবিরোধী এসব বিষয় ছাড়াও সজ্ঞানে জাতীয় নেতাদের নিয়ে বিকৃত কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও ছবি পোস্ট করে তাদেরও সম্মান ক্ষুণ্ন করতেন আশেক।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-৩ অধিনায়ক আরো এমরানুল বলেন, বিভিন্ন বাহিনীর প্রধানের পরিচয় এবং সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তিদের নাম ভাঙিয়ে, নিয়োগ-বাণিজ্য, টেন্ডার বাণিজ্য, বদলি বাণিজ্য, ভর্তি বাণিজ্য করে বিপুল পরিমাণ টাকা উপার্জন করেছে আশেক।ছাত্র জীবন থেকেই আশেক বিএনপির রাজনীতির সাথে সরাসরি জড়িত। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু হলের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তীতে ২০১০ সালে ইতালিতে চলে যান। ২০১৪ সালে বাংলাদেশে ফিরে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হতে শুরু করেন।
সর্বশেষ ১১তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয় হলে, আশেক ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের জন্য নিজের রাজনৈতিক পরিচয় গোপন করে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত হওয়ার চেষ্টা করেন।আশেকের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান র্যাব কর্মকর্তা এমরানুল হাসান।




