281393

ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে হামলা : জ্ঞান ফিরেছে লিপির

নিউজ ডেস্ক।। নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে হামলায় মারাত্মক আহত কিশোরগঞ্জের তরুণী সাজেদা আক্তার লিপির শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। ঘটনার ৮দিন পরশনিবার তিনি চোখ মেলে তাকিয়েছেন। লিপি ক্রাইস্টচার্চ হাসপাতালের আইসিইউতে মুমূর্ষু অবস্থায় চিকিৎসাধীন ছিলেন। তাকে লাইফ সাপোর্টেও রাখা হয়েছিল।

চিকিৎসকদের বরাতে লিপির স্বজনরা জানিয়েছেন, এখনো শঙ্কামুক্ত নন লিপি। তবে তাদের আশা লিপি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠবেন। নিউজিল্যান্ডে অবস্থানরত লিপির স্বামী মাসুদ মিয়া মুঠোফোনে জানান, দিন দিন তার স্ত্রী ভালোর দিকে যাচ্ছে। আল্লাহ যেন তাকে বাঁচিয়ে রাখেন।

গত ১৫ মার্চ জুম্মার নামাজ আদায় করতে এক গাড়িতেই ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে গিয়েছিলেন মাসুদ ও লিপি। বন্দুক হামলার সময় অলৌকিকভাবে রক্ষা পান মাসুদ মিয়া। তবে ঘাতকের বুলেটে বিদ্ধ হন ২৫ বছর বয়সী লিপি। বন্দুক হামলায় আহতদের মধ্যে সবচেয়ে সংকটজনক অবস্থায় ছিলেন তিনি।

মাসুদ মিয়া কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের দক্ষিণ অষ্টঘড়িয়া গ্রামের হাজী জালাল উদ্দিনের ছেলে। হাজী জালাল উদ্দিনের তিন ছেলেই নিউজিল্যান্ড প্রবাসী। ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে নিউজিল্যান্ডে যাওয়া মাসুদ মিয়া বছর দু’য়েক আগে লিপিকে নিজের কাছে নিয়ে যান। লিপির পৈত্রিক বাড়ি পার্শ্ববর্তী পাকুন্দিয়া উপজেলার কোদালিয়া গ্রামে।

জানা গেছে, দু’দফা অস্ত্রোপচারের পর লিপির শরীর থেকে একটি বুলেট বের করেন চিকিৎসকরা। নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আর্ডেনও হাসপাতালে গিয়ে তার খোঁজ নেন। জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা লিপির চোখ খোলার খবরে থাকা স্বজনদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে দেশে। কটিয়াদী উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াহাব আইন উদ্দিন বলেন, মেয়েটির জ্ঞান ফিরায় খবরে আলস্নাহর শোকরিয়া আদায় করছি।

লিপির দেবর খোকন মিয়া জানান, নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীসহ সেদেশের মানুষ আহতদের দেখভালসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে মানবতার এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন।

ad

পাঠকের মতামত