১৩ বছরের অস্ট্রেলিয় কিশোরীর হৃদয়স্পর্শী খোলা চিঠি জ্যাসিন্দা আর্ডেনের কাছে
ডেস্ক রিপোর্ট।। ক্রাইস্টচার্চ হামলার পর নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর কাছে লেখা খোলা চিঠিতে সিডনির হাইস্কুলে পড়া সামার জোয়ান বলেন, মুসলিম শিশু হিসেবে তার বেড়ে ওঠার গল্প। নিউজিল্যান্ডের অনলাইন ‘নিউজরুম’ এ তার চিঠিটি প্রকাশ করা হয়। চিঠিতে তিনি লেখেন; প্রিয় প্রধানমন্ত্রী জ্যাকিন্দা আর্ডেন…
আমি অস্ট্রেলিয়ার ১৩ বছরের এক মুসলিম কিশোরী। আপনাকে ঘিরে আমার যে ভাবনা প্রকাশ্যে বলতে চাই। আমি সেই প্রজন্মের যারা কিনা ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর জন্ম নিয়েছে। আমি কখনোই মুসলিম-বিরোধী ও অভিবাসন-বিরোধী ভাষা নিয়ে ভাবি নি কারণ আমার বেড়ে ওঠা অস্ট্রেলিয়ার সমাজে এটি চিরাচরিত। রাজনৈতিক নেতাদের কাছ থেকে এই ধরনের ভাষা শুনতেই আমি অভ্যস্ত। কিন্তু ক্রাইস্টচার্চে সন্ত্রাসী হামলার পর আপনার প্রতিক্রিয়া আমাকে অনুধাবন করিয়েছে সত্যিকারের নেতার ভূমিকা কেমন হওয়া উচিত। শুক্রবার থেকে আপনি যা করছেন তার জন্য আমি মুসলিম সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে আপনাকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। যেভাবে আপনি মুসলিম সম্প্রদায়কে সমর্থন করেছেন, তাদের প্রতি সত্যিকার অর্থেই সহানুভূতি দেখিয়েছেন, নিউজিল্যান্ডের জনগণকে আগলে রেখেছেন, তা অনেক মহাত্ম্যপূর্ণ। আপনি আপনাকে জানাতে চাই, এর মানে আমার কাছে কতটা?
আজ আমি ক্যাশমেয়ার হাই স্কুলে সন্ত্রাসী হামলা নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আপনার কথোপকথনের ভিডিও দেখেছি। আপনি যে সামর্থ্য ও দয়া দেখিয়েছেন, এটি আমাকে উদ্বুদ্ধ করেছে অস্ট্রেলিয়ায়ও যেন আমি এই পরিবেশ পাই। আমার স্কুলে কোন শিক্ষক এমনকি কর্তৃপক্ষের কেউ এই হামলা সম্পর্কে একটিও শব্দ উচ্চারণ করেন নি। একবারের জন্যও বলেন নি, এক শ্বেতাঙ্গ শ্বেষ্ঠত্ববাদী ৫০জন নির্দোষ মুসলিম নারী-পুরুষ ও শিশুকে প্রার্থনার পবিত্র স্থানে হত্যা করেছে। তারা একবারের জন্যও স্কুলের মুসলিম শিক্ষার্থীদের কোন ধরনের সমর্থন করেন নি, এমনকি এই শোক কাটানোর জন্য কোন কাউন্সিলিংয়ের কথা বলেন নি।
এটি এমন একটি দেশ যেটি কি না নিউজিল্যান্ডের মতোই, আবার একইসঙ্গে অনেক আলাদা। আপনি কি ভাবতে পারেন, আমার মুসলিম বন্ধুরা ও আমি কতটা স্বস্তি পেয়েছি, এটি জেনে যে, প্রতিবেশি দেশে এমন একজন নেতা আছেন যিনি কিনা আমাদের পাশে আছেন। আমি ও আমার বন্ধুরা মুসলিম। আমরা অস্ট্রেলিয়ায় জন্ম নিয়েছি এবং এটি ছাড়া আর কোন দেশ চিনি না। কিন্তু এই প্রথমবারের মতো নিজেদের একটি সম্প্রদায়ের অংশ বলে মনে হয়েছি, এবং এটি আমার হৃদয় ভেঙ্গে দিয়েছে যে এর মূল্য দিতে হয়েছে ৫০টি তরতাজা প্রাণ দিয়ে। যদি আরো রাজনীতিবিদ এই অবিচারের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস পেতেন এবং এটি জানতেন রাজনৈতিক খেলা কখন বন্ধ করা উচিত যখন তাদের ওপর অনেক মানুষের জীবন নির্ভর করছে।
আপনার নেতৃত্ব বিশ্বকে এক করেছে। নিউজিল্যান্ডের সম্প্রদায়কে আপনি যেভাবে সমর্থন করেছেন, তারা কোন ধর্মের সেটি কোন বিষয় না, আপনি দেখিয়েছেন আপনি নেতা হিসেবে কতটা সেরা, শুধুমাত্র ভাল সময়েও না, এমন একটি সময়, যখন অন্ধকার সবকিছুকে ঘিরে ফেলেছিলো। আমি মনে করি, আপনি নোবেল পুরস্কারের দাবি রাখেন ! আপনি যেভাবে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে ধরে রেখেছেন এবং শোকাগ্রস্তদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, এটি থেকে বিশ্বনেতাদের আপনার কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার আছে।
আমি নিশ্চিত আপনি দীর্ঘকাল নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে থাকবেন। কিন্তু যদি তা না হয়, আপনি কি অস্ট্রেলিয়া এসে আমাদের প্রধানমন্ত্রী হবেন? এই স্বপ্নটা কি সত্যি হবে? আপনি যা যা করেছেন তার জন্য আপনাকে আবারো ধন্যবাদ।
ইতি : অস্ট্রেলিয়ার সেই মুসলিম কিশোরী যে কিনা সত্যিকারের নেতৃত্ব কেমন হওয়া উচিত তা জেনেছে। সুমার জোয়ান




