279893

আনিককে হত্যার পর স্ত্রীকে হত্যার পরিকল্পনা ছিল সুমনের

সিলেটের ওসমানীনগরের শেরপুরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অবসরপ্রাপ্ত গাড়িচালক আনিছুর রহমান আনিক হত্যাকাণ্ডের ক্লু উদঘাটন করেছে পুলিশ। নিহত আনিকের টাকা-পয়সা লুট করে নিয়ে যেতে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী বাসাভাড়া নেয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয় আনিককে। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা সুমন ও ভাড়া করা তার দুই সহযোগী মিলে মুখে গামছা বেঁধে গলায় রশি দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে হত্যার পর পানির ট্যাংকিতে গুম করে রাখে হত্যাকারীরা।

সোমবার রাতে পুলিশের হাতে আটকের পর উপজেলার উছমানপুর ইউপির দক্ষিণ রাইকদাড়া গ্রামের আজমল আলীর ছেলে সুমন রশিদ (৩০), সাদীপুর ইউপির মঙ্গলপুর গ্রামের ইব্রাহিমের ছেলে শাওন মিয়া (৩৫) ও হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার মৃত আবু মিয়ার ছেলে নানু মিয়া (২৪) হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি স্বীকার করে। মঙ্গলবার দুপুর ২টায় সিলেট পুলিশ সুপার কার্যালয়ের মিডিয়া সেল থেকে প্রেরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

হত্যাকারীরা শুধু আনিছুর রহমান আনিক হত্যা করে তারা ক্ষান্ত হয়নি। তারা আনিককে হত্যা করে পানির ট্যাংকে লাশ গুম করে রেখে গিয়ে নিহতের স্ত্রী আফছা বেগমকে হত্যা করার জন্য তাদের বাড়িতে হানা দেয়। কিন্তু পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় আফছা বেগমকে হত্যার পরিকল্পনা থেকে পিছু হটে তারা। পুলিশ জানায়, রোববার রাতে ৩টার দিকে আনিছুর রহমান আনিকের লাশ উদ্ধারের পর গত সোমবার রাতে অভিযান চালিয়ে সুমন রশিদ, শাওন মিয়াকে আটক করা হয়। আটককৃতদের তথ্যের ভিত্তিতে শেরপুর এলাকা থেকে আটক করা হয় আরেক ঘাতক নানু মিয়াকে (২৪)।

আটক তিনজনকে পৃথক পৃথক জিজ্ঞাসাবাদে আনিক হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ এবং কীভাবে তাকে হত্যা করা হয় সে বিষয়ে ওসমানীনগর থানা পুলিশকে বিস্তারিত বর্ণনা দেয় তিন ঘাতক। তারা জানায়, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডের মূল নায়ক সমুন রশিদ মোটা অঙ্কের টাকার প্রলোভন দেখিয়ে শাওন ও নানুকে ভাড়া করে। ঘটনার দিন বিকালে সুমন, শাওন ও নানু তিনজন মিলে শেরপুর পয়েন্টে বসে চা পান করে বিভিন্ন পরামর্শ করে। রাত ৮টার দিকে শাওন ও নানু রিকশাযোগ শেরপুর গোলচত্বর থেকে পূর্ব তাজপুর গ্রামের কানাডা প্রবাসী আলা উদ্দিনের বাড়িতে আসে পূর্বে থেকে সুমন সেখানে উপস্থিত ছিল।

শাওন ও নানুকে প্রবাসী আলা উদ্দিনের বাসায় রেখে বাসাভাড়া নেয়ার কথা বলে প্রবাসীর বাড়ির কেয়ারটেকার আনিছুর রহমান আনিককে ডেকে নিয়ে আসে হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী সুমন রশিদ। কেয়ারটেকার আনিক আসার পর সুমনসহ তিন হত্যাকারীরা বাড়ির বিভিন্ন কক্ষ ঘুরে ঘুরে দেখতে থাকে।

হত্যাকারীরা ও কেয়ারটেকার আনিকসহ দুতলার সিঁড়ির রুমে যাওয়ামাত্রই সুযোগ বুঝে গামছা দিয়ে কেয়ারটেকার আনিকের মুখ বেঁধে ফেলে। এ সময় শাওন ও নানু রশি দিয়ে আনিকের গলায় ফাঁস লাগিয়ে সজোরে টানতে থাকলে একপর্যায়ে আনিছুর রহমান আনিকের মৃত্যু ঘটে। মৃত্যু নিশ্চিতের পর তিনজন মিলে আনিককের লাশ কাঁধে করে নিয়ে তিনতলার ছাদের পানির ট্যাংকের ভেতর গুম করে পালিয়ে যায়। সেখান থেকে তারা নিহত আনিকের বাড়িতে গিয়ে আনিকের স্ত্রী আফছাকেও হত্যার পায়তারা করলেও সুযোগ করে উঠতে পারেনি।

ওসমানীনগর থানার ওসি এসএম আল মামুন আটককৃত তিন আসামি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে জড়িত থাকার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, গ্রেফতারকৃতদের কাছে থেকে প্রাপ্ত আরও কিছু তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে তাদের সঙ্গে আরও কিছু সহযোগী রয়েছে। তদন্তসহ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, রোববার রাত ৩টার দিকে উপজেলার সাদীপুর ইউপির ধরখা গ্রামের মৃত চোয়াব উল্যার ছেলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক গাড়িচালক আনিছুর রহমান আনিকের হাত-পা মুখ বাঁধা লাশ একই এলাকার পূর্ব তাজপুর গ্রামের প্রবাসী আলা উদ্দিনের বাড়িরর তিনতলার ছাদের পানির ট্যাংক থেকে উদ্ধার করে ওসমানীনগর থানা পুলিশ। এ ঘটনায় পর সোমবার নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে ওসমানীনগর থানায় একটি হত্যা দায়ের করেন। মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার করে।

ad

পাঠকের মতামত