ফিরে গেলেন মেয়র, সড়কে বিইউপি শিক্ষার্থীদের অনমনীয় অবস্থান (ভিডিও)
বিভিন্ন ধরনের আশ্বাস আর প্রতিশ্রুতি দিয়েও বাংলাদেশ ইউনিভার্সিট অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) শিক্ষার্থীদের রাস্তা থেকে সরাতে পারেননি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম। সহপাঠী হারিয়ে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের অনমনীয় অবস্থানের মুখে ফিরে গেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৯ মার্চ) সকাল ৭টার দিকে বসুন্ধরা গেট এলাকায় রাস্তা পারাপারের সময় বাসের ধাক্কায় প্রাণ হারান বিইউপি শিক্ষার্থী আবরার আহমেদ চৌধুরী। এ খবর জানাজানি হলে বসুন্ধরা গেট এলাকায় প্রধান সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন বিইউপি শিক্ষার্থীরা। সকাল ১০টার দিকে সেখানে পৌঁছান ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম। বিভিন্ন আশ্বাস ও প্রতিশ্রুতি দিয়ে সড়ক ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এসময় বিইউপি শিক্ষার্থী অনিক সবার পক্ষ থেকে দাবি তুলে ধরেন বলেন, দুর্ঘটনার জন্য দায়ী বাসচালকের মৃত্যুদণ্ড ১০ দিনের মধ্যে কার্যকর করতে হবে, সুপ্রভাতের রুট পারমিট বাতিল করতে হবে, সিটিং সার্ভিস বন্ধ করতে হবে, স্টপেজের ব্যবস্থা করতে হবে, চালকদের ছবি ও লাইসেন্স গাড়িতে ঝুলানো থাকতে হবে, বসুন্ধরা গেটে ফুটওভারব্রিজের ব্যবস্থা করতে হবে, প্রতিটি জেব্রা ক্রসিংয়ে সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থা করতে হবে এবং ট্রাফিক পুলিশের দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে।
শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়া শোনার পর মেয়র আতিকুল বলেন, মাত্র সাত দিন হলো আমি দায়িত্ব নিয়েছি। আমি মেয়র নই, ভাই হিসেবে বলছি, আমাকে সময় দিন। আমাদের সচেতন হতে হবে। আপনাদের সব দাবি যৌক্তিক। আপনারা আমার সঙ্গে থাকলে আমি সব সমস্যার সমাধান করে ফেলব। বাসের মালিক ও সংশ্লিষ্টদের অবশ্যই নিয়মের ভেতরে আনা হবে। ঢাকা সিটিতে ছয়টি কোম্পানির মাধ্যমে বাস চালানো হবে। আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধান করব।
বাসচালককে আইনের আওতায় এনে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি মেয়র আরও বলেন, বসুন্ধরা গেটে যে ফুটওভার ব্রিজ হবে, সেটা আবরারের নামে হবে। দুই-তিন মাসের মধ্যে আমি এটি করে দেবো। এসব প্রতিশ্রুতি ও আশ্বাস দিয়ে মেয়র শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ ছেড়ে দিতে বললে শিক্ষার্থীরা রাজি হননি।
গত বছরের ২৯ জুলাইয়ে রাজধানীর এমইএস বাস স্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় জাবালে নূর পরিবহনের দুই বাসের রেষারেষিতে প্রাণ হারায় শহিদ রমিজউদ্দিন কলেজের দুই শিক্ষার্থী। সে ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে মেয়র প্রশ্ন করেন, জাবালে নূর পরিবহনের লাইসেন্স বাতিল হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রাস্তায় এখনও জাবালে নূর পরিবহনের বাস চলছে। কেন চলছে? মেয়র ও তার সঙ্গে থাকা পুলিশ কর্মকর্তারা এসময় ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। শিক্ষার্থীরাও সড়কে অবস্থান অব্যাহত রেখে বিক্ষোভ করে যাচ্ছেন।




