278616

‘আব্বা এইমাত্র গোলাগুলি হলো, অল্পের জন্য আল্লাহ বাঁচিয়েছেন’

নিউজিল্যান্ডের মসজিদে বন্দুকধারী হামলার ঘটনা প্রথমে ছেলের ফোন থেকেই জানতে পারেন মুশফিকুর রহিমের বাবা। গতকাল শুক্রবার বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ক্রিকেটার মুশফিক বাবার কাছে ফোন করে কান্নায় ভেঙে পড়েন।ঘটনা শুনে ভয়ে শিউরে ওঠেন তার বাবা। পরে কয়েকবার ভিডিও কলে নিউজিল্যান্ড থেকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছেন মুশফিক। আর ঘটনা জানার পর থেকেই ছেলের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন তার মা।

আজ শনিবার মুশফিকুর রহিমের বাবা মাহবুব হামিদ তারা মুঠোফোনে এসব কথা জানান। মুশফিকুর রহিমের বাড়ি বগুড়া শহরের মাটিডালিতে।এদিকে মুশফিকুর রহিমের পাশে দাঁড়াতে তার পরিবার ঢাকায় রওনা দিয়েছেন। শনিবার দুপুরে বগুড়া শহরের মাটিডালির নিজস্ব বাসভবন থেকে মুশফিকুর রহিমের বাবা মাহবুব হামিদ তারা ও তার মা রহীমা খাতুন ঢাকার পথে রওনা হয়েছেন।

মুশফিকের বাবা মাহবুব হামিদ তারা জানান, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে অপরিচিত একটি নম্বর থেকে তার মুঠোফোনে কল আসে। তিনি রিসিভ করে ‘কে’ বলার পরপরই অপর প্রান্ত থেকে কান্নাজড়িত কণ্ঠ বলেন, ‘আব্বা আমি’। প্রথমে বুঝে উঠতে পারেননি তিনি। আবারও জিজ্ঞাসা করে নিশ্চিত হন তার ছেলে মিতু (মুশফিকের ডাকনাম)। কান্নার কারণে তিনি কিছুটা বিচলিত হন। কী হয়েছে বাবা? জিজ্ঞাসা করতেই মুশফিক বলেন ‘আব্বা এইমাত্র গোলাগুলি হলো, অল্পের জন্য আল্লাহ নিজ হাতে আমাদের বাঁচিয়েছেন। আমরা গাড়ি থেকে না নামার কারণে কোনো ক্ষতি হয়নি।’ একটানা এ কথাগুলো বলে যান মুশফিক।

মুশফিকের বাবা জানান, তিনি ছেলের কাছে শুনেছেন, সকালে প্রেস কনফারেন্স শেষে তাদের (মুশফিকদের) মসজিদে নামাজে যাওয়ার কথা। প্রেস কনফারেন্সে তাদের দলের কথা বলতে কিছুটা বিলম্ব হয়। এ কারণে নামাজ শুরুর আগ মুহূর্তে তারা খেলোয়াড়দের বহনকারী গাড়িতে মসজিদের কাছাকাছি যেতেই বিপরীত দিক থেকে এক নারী দৌঁড়ে এসে তাদের গাড়ির গতিরোধ করেন। ওই নারীই মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার বিষয়ে তাদের জানান। এরপর খেলোয়াড়রা গুলির শব্দ শোনেন এবং মসজিদ থেকে মানুষদের দৌঁড়ে পালাতে দেখেন। গুলিবিদ্ধ একজন এসে তাদের গাড়ির সামনে পড়ে যান। তবে গাড়িতে থাকায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দল বেঁচে যায়।

মাহবুব হামিদ তারা বলেন, ‘ছেলের কাছে এই সংবাদ পেয়ে আমরা যারপরনাই বিচলিত হয়ে পড়ি। তার মা কান্নাকাটি শুরু করে। পরে আমি নিজে ছেলেকে মোবাইল করে বলি যেন তার মায়ের সাথে ভিডিও কলে কথা বলে। পরে সে অন্তত পাঁচ দফা ফোনে কথা বলেছে।’ আজ সকালের ফ্লাইটে তারা দেশের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন মুশফিকের বাবা।

মুশফিকের বাবা অভিযোগ করে বলেন, ‘অন্য দেশ যখন নিরাপত্তার অজুহাত তুলে আমাদের এখানে আসতে চায় না, সেখানে আমাদের খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার বিষয়ে বিসিবি খুব বেশি গুরুত্ব দেয়নি। বিসিবির উচিৎ খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা।’তিনি আরও বলেন, ‘পুরো দেশবাসীর দোয়া ও ভালোবাসার কারণেই আজ জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের আল্লাহ রক্ষা করেছেন।’

ad

পাঠকের মতামত