277039

টাকা না দেয়ায় বৃদ্ধার ঘর প্রভাবশালীর বাড়িতে!

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার কালিরচর গ্রামে দাবিকৃত টাকা দিতে না পারায় অশীতিপর বৃদ্ধা ও বিধবা জাহানারা বেগমের (৯০) ঘর সচ্ছল এক ব্যক্তির বাড়িতে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।অভিযোগ রয়েছে, যার জমি আছে, ঘর নেই আশ্রায়ন প্রকল্প-২ এর অধীনে টুমচরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে ১৫-২০ হাজার টাকা করে নিয়ে সচ্ছল পরিবারের লোকজনকে ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পাল তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়াসহ ওই বিধবাকে ঘর দেয়ার আশ্বাস দেন।

উপজেলা পরিষদ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রায়ন-২ প্রকল্পের অধীনে সদর উপজেলার ‘যার জমি আছে, ঘর নেই’ তাদের জন্য ২৯৬টি ঘর নির্মাণ বাবদ বরাদ্দ দেয়া হয় ২ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। প্রতিটি ঘর নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় একলাখ টাকা। উপজেলা কার্যালয় থেকে ইতোমধ্যে বরাদ্দের অর্থ তুলে গৃহ নির্মাণ তৈরির কাজ শেষ করেছেন সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, টাকার বিনিময়ে ভূমিহীন পরিবারের পরিবর্তে জমি, ঘর-বাড়ি আছে এমন মানুষদের ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।কালিরচর গ্রামে জসিম নামে একজনকে দিয়ে ঘর বরাদ্দ দেয়া পরিবারগুলোর কাছ থেকে ১৫-২০ হাজার টাকা করে নেয়া হয়েছে। টুমচর ইউনিয়নে অনুসন্ধান চালিয়ে ঘর বরাদ্দে অনিয়ম ও অর্থ-বাণিজ্যের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।

টুমচর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডস্থ অজি উল্যাহ পাইলট বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ২ বিঘা জমিজুড়ে একটি সেমি পাকা ঘর ও ১ টিনশেড ঘর এবং গাছের বাগান রয়েছে। নির্মাণকৃত ঘরটি তালাবদ্ধ। মনে হচ্ছে নির্মাণের পরে ওই ঘরে কেউ বসবাস করেনি। ওই গ্রামের মফিজ উল্যাহ ছেলে জসিম উদ্দিন। তার লক্ষ্মীপুর শহরে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। অথচ একই গ্রামের ৯নং ওয়ার্ডস্থ খোকার বাড়ির মৃত গোলাম মোস্তফার স্ত্রী জাহানারা বেগমের নামের ঘর টাকা না দেয়ায় তাদের (জসিমের) বাড়িতে নিয়ে তৈরি করেছেন। তালিকায় ১৩৪ নম্বরে রয়েছে ওই বিধবার নাম।

অসহায় বিধবা জাহানারা বেগম বলেন, নিজের জায়গা জমি নেই। পাতার বেড়া দিয়ে ছোট একটি ঘরে বসবাস করছি। স্থানীয়রা কিছু টাকা-পয়সা সাহায্য করলে সংসার চলে। সুদের ৫হাজার টাকা নিয়ে জসিমকে দিয়েছি। তার দাবিকৃত বাকি ২০ হাজার টাকা না দেয়ায় আমাকে ঘর না দিয়ে নিজের বাড়িতে নিয়ে তুলেছেন। বৃদ্ধা বলেন, ভেবেছিলাম সরকারের দেয়া ঘরে শেষ জীবন কাটিয়ে দেবো। নানা চেষ্টা করেও ১৫-২০ হাজার টাকা জোগাড় করতে পারিনি। তাই ঘরও মেলেনি।

জানতে চাইলে জসিমের বাবা মফিজ উল্যাহ জানান, ঘরটি কার নামে আমার জানা নেই। একজন মহিলা ওই ঘরে থাকেন। তবে কে থাকেন তা তিনি বলতে পারেননি। পরে বলছেন হোসনেয়ারা নামের এক মহিলার ঘর। অথচ উপজেলার আশ্রায়ন প্রকল্প-২ এর মধ্যে ওই নামের কোনো তালিকা নেই। তবে জসিম ভারতে আছেন বলে জানান তিনি।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ নুরুল আমিন লোলা বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই।লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পাল বলেন, তদন্ত করে অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া ওই বিধবাকে ঘর ফিরিয়ে দেয়ার আশ্বাসও দেন তিনি। সূত্র: বাংলাদেশ জার্নাল

ad

পাঠকের মতামত