বিতর্কিত সেই ওসি আসছেন রূপগঞ্জে
রূপগঞ্জ প্রতিনিধি: ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি আর ঘুষবাণিজ্যের কারণে বিতর্কিত ওসি শাহ আওলাদ হোসেন রূপগঞ্জের ওসি হিসেবে যোগ দিচ্ছেন বলে একটি সূত্রে জানা গেছে। ৮ বছর আগে শাহ আওলাদ উপ-পরিদর্শক থাকা অবস্থায় অপকর্মে অতিষ্ঠ হয়ে স্থানীয়রা তার বিরুদ্ধে জুতামিছিল ও মহাসড়ক অবরোধ করে তাকে রূপগঞ্জ ছাড়তে বাধ্য করে। সেই আওলাদ রূপগঞ্জের ওসি হিসেবে পদায়ন হবার খবরে এলাকার বাসিন্দাদের মনে ক্ষোভ সৃষ্টি হচ্ছে।
জানাযায়, ভোলার চরফ্যাশন এলাকার মফিজুর রহমানের ছেলে আওলাদ হোসেন ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াতের শাসনামলে পুলিশে বাহিনীতে যোগদান করেন। ২০১০ সালে উপ-পরিদর্শক থাকাকালে রূপগঞ্জে চাকরি করেন তিনি। সেই সময় উপজেলার ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জের দায়িত্ব পালনকালে মাদক ব্যবসায়ীদের আশ্রয়-প্রশ্রয়, শিল্পকারখানা ও পরিবহন সেক্টরে চাঁদাবাজি, চুক্তিতে জমিদখল ও লোকজনকে মামলায় জড়ানো, গ্রেপ্তারবাণিজ্য আর সন্ত্রাসীদের সাথে সখ্যের কারণে তার বিরুদ্ধে ফুঁসে ওঠে সাধারণ মানুষ। ২০১১ সালের ৩০ ডিসেম্বর লোকজন জুতা নিয়ে তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল করে। সেসময় তার প্রত্যাহারের দাবিতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে এলাকাবাসী।
এ ঘটনার কারণে পুলিশ বিভাগ তাকে রূপগঞ্জ থেকে সরিয়ে নেয়। পরবর্তিতে ২০১৩ সালে পদোন্নতির সুবাদে খুলনার ডুমুরিয়া, খুলনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ, মাগুরার শ্রীপুর, রাজবাড়ি সদর, বরিশাল কোতোয়ালি থানায় চাকরি করেন তিনি।বরিশাল কোতোয়ালি থানায় কর্তব্য পালনকালে ২০১৬ সালের ২০ আগস্ট মাহেন্দ্র শ্রমিক ইউনিয়নের সম্পাদক মিলন মোল্লা ও সোহেলকে থানায় আটক রেখে ঘুষ দাবি করেন আওলাদ। পরে শ্রমিকরা সেখানেও তার বিরুদ্ধে মিছিল বের করে। এসময় শ্রমিকদের সাথে সংঘর্ষে ৬ পুলিশসহ আহত হয় অন্তত ২৫ জন। পরে শ্রমিকদের চাপের মুখে তাদের ছাড়তে বাধ্য হন আওলাদ। তবে মামলা করেন ৬৬ শ্রমিকের বিরুদ্ধে।
এছাড়া বরিশালের আবাসিক হোটেলে অনৈতিক কাজ ও মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে মাসোয়ারার চুক্তির অডিওবার্তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচিত হন ওসি আওলাদ। সেসময় তার কারণে সমালোচনার মুখে পরে পুরো পুলিশ বিভাগ।
২০১৭ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি বরিশাল কোতোয়ালি থানার ওসি থাকাকালে ক্ষমতার অপব্যবহার, আদালত অবমাননা, দুর্নীতি ও ঘুষ দাবির অভিযোগে স্থানীয় সিঅ্যান্ডবি সড়কের ১নং পোল এলাকার আবু সাঈদের স্ত্রী নিলুফার বেগম বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলাটি বর্তমানে দুদক তদন্ত করছে। তার বিরুদ্ধে অতিষ্ঠ হয়ে গত ২০১৭ সালে ভোলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন চরফ্যাশনের শতশত সাধারণ মানুষ।
সেখানে অভিযোগ করাহয়, ওসি আওলাদ ক্ষমতার দাপট খাটিয়ে চরফ্যাশন উপজেলার জিন্নাগর মৌজায় ১৪৮ নং এসএ খতিয়ানে চরফ্যাশনের বীর মুক্তিযোদ্ধা আমির হোসেন, সামসুন্নাহার ও উজির পেশকারের ৬৮ শতাংশজমি দখল করে নেয়া ছাড়াও এলাকার শতশত সাধারন মানুষকে জিম্মি করে নানাভাবে অত্যাচার করেছেন।ঘটনা ধাপাচাপা দিতে পরের দিন একই প্রেসক্লাবে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে ছেলে ও নিজেকে নিদোর্ষ দাবি করেন আওলাদের বাবা মফিজুল ইসলাম।




