274669

বান্ধবীকে বাসায় ডেকে মদ খাইয়ে হত্যা করলো বান্ধবী

ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার পৌরসদরের হাজরাহাটি গ্রামের কিশোরী দোলন আক্তারকে অতিরিক্ত মদপান করিয়ে অচেতন করে শ্লীলতাহানি করেছে ৩ বখাটে। অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ভাঙ্গা ও পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এলাকাবাসী শনিবার সকালে দোলনের বাড়ির সামনে রাস্তায় জড়ো হয়ে দোলন হত্যাকারিদের বিচারের দাবি জানিয়েছে।

নিহত কিশোরী দোলন আক্তার (১৫) হাজরাহাটি গ্রামের মৃত লাবলু খরাতির ছোট মেয়ে। ফরিদপুর কোতোয়ালি থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় কিশোরীর মামা পৌর কাউন্সিলর ওমর আলী খরাতি বাদী হয়ে বখাটে কাইয়ুম, রহিম খরাতি, রাকিব ও তাদের সহযোগী অপর কিশোরী কনা আক্তারকে আসামি করে ভাঙ্গা থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন।এদিকে বখাটে ও স্থানীয় প্রভাবশালী একটি মহল মামলা তুলে নিতে হুমকি-ধমকি দিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

দোলনের মা কহিনুর বেগম জানান, আমার স্বামী অনেক আগেই মারা যাওয়ায় ২ ছেলে ও ২ মেয়েকে নিয়ে কোনো রকম দিন চালাচ্ছি। গত সোমবার বিকেলে গ্রামের পাশে কামার বাড়ি মেলায় আমার মেয়েকে কনা আক্তার ফোন করে নিয়ে যায়। মেলার পাশে কনা আক্তারের বাড়িতে ওই তিন যুবক কোমল পানির সঙ্গে অতিরিক্ত মদ মিশিয়ে আমার মেয়ে দোলনকে পান করায়। রাত ১১টা পর্যন্ত আমরা মেয়েকে না পেয়ে সবাই পাগলের মতো চারদিকে খুঁজতে থাকি। গভীর রাতে কনা ও ওই তিন যুবক আমার মেয়েকে অচেতন অবস্থায় আমার বাসায় রেখে যায়।

তিনি আরো জানান, এসময় আমাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে দোলনকে মাথায় পানি দিয়ে জ্ঞান ফেরাতে চেষ্টা করে। আমি যতবারই হাসপাতালে নেয়ার কথা বলেছি আসামিরা সকলেই বেশি মদ খেয়ে ফেলেছে একটু পরেই ঠিক হয়ে যাবে বলে হাসপাতালে নিতে বাধা দিয়েছে। মঙ্গলবার আমার মেয়ের জ্ঞান না ফেরায় আমি আমার ভাইদের সাহায্যে দোলনকে ভাঙ্গা হাসপাতালে ভর্তি করি। ডাক্তার বলেছে এখানে ওর কোনো ভালো চিকিৎসা হবে না দ্রুত ফরিদপুর নিতে হবে। আমরা ফরিদপুর হাসপাতালে নিলে সেখানে ডাক্তার আমার মেয়েকে মৃত ঘোষণা করে। আমার মেয়েকে ওই বখাটে যুবকরা কনার সহায়তায় নির্যাতন করে মেরে ফেলেছে। আমি আমার মেয়ের হত্যার বিচার চাই।

দোলন হত্যা মামলার বাদী কাউন্সিলর ওমর আলী খরাতি বলেন, আমার বোন-জামাতা মারা যাওয়ার পর অনেক কষ্ট করে ৪টি ছেলে-মেয়েকে মানুষ করেছে আমার বোন। মেলা চলাকালে কনা, রহিম, কাইয়ুম ও রাকিব আমার ভাগ্নিকে ঘরের ভেতরে আটকে রেখে কোমল পানির কথা বলে নেশা করায়। আসামিদের মধ্যে রহিম গত বছর মেলা চলাকালীন এক মেয়েকে ইভটিজিং করে। সেসময় তার বিরুদ্ধে ভাঙ্গা থানায় একটি মামলাও হয়। এবছর মেলার সময় কৌশলে ওরা আমার ভাগ্নিকে শ্লীলতাহানি করে মেরে ফেলেছে।

তিনি বলেন, আমি সরকারের কাছে দাবি করছি অসহায় বিধবা পরিবারটি যেন আসামিদের দ্বারা কোন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এবং সঠিক বিচার যেন পায়।থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী সাঈদুর রহমান বলেন, দোলন আক্তারকে হত্যার দায়ে একটি মামলা হয়েছে। মামলার আসামি ওই এলাকার ওয়াদুদ খরাতির মেয়ে কনা আক্তারকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। বাকি আসামিদের ধরতে পুলিশ মাঠে কাজ করছে।

দোলনের পরিবারকে নিরাপত্তার জন্য পুলিশ সর্বদা সজাগ আছে বলে জানান তিনি। এদিকে এলাকাবাসী শনিবার সকালে দোলনের বাড়ির সামনে রাস্তায় জড়ো হয়ে দোলন হত্যাকারিদের বিচারের দাবি জানায়।এলাকাবাসী জানায়, অত্যন্ত শান্ত ও বিনয়ী মেয়েটিকে এভাবে কৌশলে যারা মেরে আবার প্রকাশ্যে হুমকি দিচ্ছে, সেসব হুমকিদাতাদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

ad

পাঠকের মতামত