274599

প্রতি সপ্তাহে অন্তত ১শ’ জনের মৃত্যু হয় ইয়েমেনে

গত বছর প্রতি সপ্তাহে ইয়েমেনে প্রায় একশ’ জন সাধারণ মানুষ নিহত অথবা আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। শিশুসহ হতাহতদের পঞ্চমাংশের ওপর করা একটি জরিপে এ তথ্য পাওয়া গেছে।গত বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের শরণার্থীবিসয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) প্রকাশিত চিত্রের বরাত দিয়ে কাতার ভিত্তিক বার্তা সংস্থা আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। সংস্থাটির মতে, গত বছর ৪৮০০ জনের বেশি মানুষ নিহত ও আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪১০ জন শিশু মারা গেছে এবং ৫৪২ জন আহত হয়েছে।

একটি বিশ্বস্ত তথ্যের ওপর নির্ভর করে সংস্থাটি জানিয়েছে, হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের চলমান যুদ্ধে ইয়েমেনের পশ্চিমা শহর হোদেইদাহে শতকরা ৪৮ ভাগ মানুষ নিহত হয়েছে। ইয়েমেন মূলত মার্কিন ও ইরানিদের যুদ্ধ চলছে। মার্কিনের পক্ষে প্রক্সি দিচ্ছে সৌদি আর হুতিদের পক্ষে দাঁড়িয়েছে ইরান।

এছাড়া জাতিসংঘের চিত্রে দেখা গেছে, শতকরা ৩০ জন মানুষ তাদের বাড়িতেই, আবার অনেকে এই যুদ্ধে লক্ষ্য ছাড়াই যখন রাস্তায় বের হয়েছে এবং অনেকে যখন কৃষিকাজে ব্যস্ত তখন মারা গেছে অথবা আহত হয়েছে।শরণার্থীদের জন্য ইউএনএইচসিআর-এর সহকারী হাইকমিশনার ভোল্কার তুর্ক বলেন, ‘এই রিপোর্টটি সংঘাতে মারাত্মকভাবে মানুষের প্রাণহানির ব্যাখ্যা দেয়।’ ইয়েমেনের সংকটের শুরু ২০১১ সালে আরব বসন্ত থেকে।

আরব বসন্তের ধাক্কায় সৌদিপন্থী শাসক আলী আবদুল্লাহ সালেহর পলায়ন এবং ইরানপন্থী শিয়া হুতিদের রাজধানী সানা দখল ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধের সূচনা করে। আবদুল্লাহ সালেহর পতনের পর তাঁর ডেপুটি মনসুর হাদির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু মনসুর হাদির বিরুদ্ধে হুতিদের রাজনৈতিক প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ করা হয়।অন্যদিকে, দক্ষিণের বিদ্রোহীরা স্বাধীনতার জন্য নড়াচড়া শুরু করে। ২০১৪ সালে হাদিকে বের করে দিয়ে সানার দখল নেয় হুতিরা। আল–কায়েদাসহ বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠীও ইয়েমেনে তৎপরতা বাড়িয়ে দেয়। এভাবেই ইয়েমেনের সংকট জটিল থেকে জটিলতর হতে থাকে।

এরপর ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ আর অভ্যন্তরীণ লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ থাকেনি। ক্রমেই আঞ্চলিক লড়াই থেকে আন্তর্জাতিক আবহ লাভ করে। ইয়েমেন মূলত মার্কিন ও ইরানিদের যুদ্ধ চলছে। মার্কিনের পক্ষে প্রক্সি দিচ্ছে সৌদি আর হুতিদের পক্ষে দাঁড়িয়েছে ইরান। মাঝ থেকে দুর্দশায় পড়েছে বেসামরিক নাগরিকরা।

ad

পাঠকের মতামত