‘উনাকে ঠিক চিনে উঠতে পারিনি’
আওয়ামী লীগের সাবেক সাবেক সাংসদ সুলতান মোহাম্মদ মনসুরকে ঐক্যফ্রন্ট চিনে উঠতে পারেনি বলে মন্তব্য করেছেন জোটের শরিক গণফোরাম সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসিন মন্টু। বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে রাজধানীর মতিঝিলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনেএর আগে, বেলা ১১টার দিকে সংসদ সচিবালয়ে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর কাছে শপথ গ্রহণ করেন গণফোরাম নেতা সুলতান মনসুর। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে এনে বিকালে সুলতান মোহাম্মদ মনসুরকে বহিষ্কার করেছে ড. কামালের নেতৃত্বাধীন গণফোরাম।
মন্টু বলেন, ‘আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সুলতান মনসুরকে গত বছরের নভেম্বর মাসের ১০ তারিখে গণফোরামের প্রাথমিক সদস্যপদ দেয়া হয়েছিল। এখন তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।’শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কথা বলেই সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিচ্ছি-সুলতান মনসুরের এমন বক্তব্যের বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে গণফোরামের এই নেতা বলেন, ‘আমাদের দলের নেতা ড. কামাল হোসেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও আমিসহ সকালে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে তাকে বহিষ্কার করার।’ এ সময় তিনি বলেন, ‘কারো মনের কথা তো বোঝা যায় না। আমরা উনাকে ঠিক চিনে উঠতে পারিনি।’
জানা যায়, গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে অংশ নেয় শরিক গণফোরাম। ভোটে দলটি থেকে দু’জন নির্বাচিত হলেও, জোটগত সিদ্ধান্তের কারণে সংসদ সদস্য হিসেবে এতদিন তাদের কেউ শপথ নেয়নি। তবে শেষ পর্যন্ত দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে শপথ নিয়েছেন সুলতান মনসুর।
তাই দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে এনে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শরিক গণফোরাম। যার অংশ হিসেবে এমপি হিসেবে শপথ নেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাকে দল থেকে বহিষ্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়। এছাড়া শিগগিরই এ বিষয়টি জানিয়ে স্পিকারের কাছে চিঠি দেবে গণফোরাম। সেই চিঠি মোতাবেক ব্যবস্থা নেবেন স্পিকার।
প্রসঙ্গত, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরামে নাম লিখিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মৌলভীবাজার-২ আসনে ভোট করে জয়ী হন সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ। আর দীর্ঘদিন ধরে লন্ডন প্রবাসী মোকাব্বির খান গণফোরামের দলীয় প্রতীক ‘উদীয়মান সূর্য’ নিয়ে সিলেট-২ আসন থেকে জয়ী হন। ওই আসনে ধানের শীষের প্রার্থী না থাকায় বিএনপিসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমর্থন পেয়েছিলেন তিনি।




