273579

মনিরুলের পড়াশোনার খরচও চলত আমার টাকায়, মাস্টার্স পরীক্ষা শেষে..

নিউজ ডেস্ক।। এক বছরের প্রেমের পর পরিবারকে না জানিয়েই বিয়ে করেছিলেন প্রিয়া আক্তার (২১) ও মনিরুল ইসলাম (২৬)। এরপর একই ছাদের নিচে তিন বছর কেটেছে দুজনের। তবে এখন আর প্রিয়াকে চিনতে পারছেন না মনিরুল। এরই মাঝে সেতু অন্য এক মেয়েকে বিয়ে করেছেন। আর বিষয়টি জানতে পেরে চারদিন ধরে মনিরুলের বাড়িতে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন প্রিয়া। ঘটনাটি ঘটেছে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার শিমলা গ্রামে। মনিরুলের বাবার নাম আলাউদ্দিন। প্রিয়া একই উপজেলার পৌর এলাকার বানিয়পাড়া গ্রামের আ. হামিদের মেয়ে।

প্রিয়া বলেন, এক বছর প্রেম করার পর মনিরুল আর আমি পালিয়ে বিয়ে করি। সে চট্রগ্রামে পড়াশুনা করত আর আমি একটি গার্মেন্টেসে চাকরি করতাম। সেই সুবাদে আমরা স্বামী-স্ত্রী হিসাবে চট্রগ্রামে একটি ভাড়া বাসায় থাকতাম। আমার বেতনের টাকা দিয়ে ওর পড়াশোনার খরচও যোগাতাম। মাস্টার্স পরীক্ষা শেষে হঠাৎ করেই সে একদিন বলে আমি গ্রামের বাড়ি যাব এবং ১০ হাজার টাকা লাগবে। এরপর আমার কাছে থাকা ৬ হাজার টাকা নিয়ে সে বাড়ি চলে আসে।

তিনি আরও বলেন, এর কিছুদিন পর জানতে পারি মনিরুলের পরিবার অন্য এক মেয়ের সঙ্গে ওর বিয়ে ঠিক করেছে। পরে আমি ওই মেয়ের বাড়িতে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করে আমার এবং মনিরুলের বিয়ের বিষয়টি জানাই এবং কাবিননামা দেখাই। সে সব কিছু জানতে পেরে মনিরুলকে বিয়ে করবে না বলে জানায় মেয়েটি। বিষয়টি জেনে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সমাধানের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। এরপর আমি কর্মস্থলে চলে যাওয়ার পর গোপনে মনিরুলের সঙ্গে ওই মেয়ের বিয়ে হয়েছে।

প্রিয়া আরও বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে আমি স্ত্রীর দাবি মনিরুলের বাড়িতে আসি। আসার পর মনিরুল ও তার পরিবারের লোকজন গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আমাকে হত্যার চেষ্টা করে। পরে ব্যর্থ হয়ে বাড়ির সবাই পালিয়ে গেছে। এখন বাড়িতে আমি একা আছি। প্রিয়ার বাবা আ. হামিদ বলেন, মেয়ের বিয়ে করার বিষয়টি আগে জানতাম না। কিছুদিন আগে সে আমাদের জানিয়েছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো.শিহাব উদ্দিন বলেন, এর আগেও একবার বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করে আমরা ব্যর্থ হই। এখন মেয়ে ছেলের বাড়িতে চারদিন ধরে অবস্থান করছে। অন্যদিকে ছেলেসহ তার পরিবারের সবাই বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে।

ad

পাঠকের মতামত