273211

বাড়বে বিমানভাড়া

নিউজ ডেস্ক।। উড়োজাহাজের জ্বালানি তেল ‘এয়ার ফুয়েল’-এর দাম কমানোর দাবি জানিয়ে আসছিল দেশীয় বিমানপরিবহন সংস্থাগুলো। কিন্তু তাদের দাবির বিপরীতে বাংলাদেশে বাড়ান হলো উড়োজাহাজের জ্বালানির দাম। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) উড়োজাহাজের জ্বালানির দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির মহাব্যবস্থাপক (অর্থ) মনিলাল দাস। তিনি জানান, ৬ মার্চ থেকেই নতুন মূল্যে এয়ারফুয়েল কিনতে হবে বিমান সংস্থাগুলোকে।

সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে ৫ মার্চ মূল্যবৃদ্ধির চিঠি পাঠিয়েছে বিপিসির অঙ্গ প্রতিষ্ঠান পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড। এতে বলা হয়, অভ্যন্ত্যরীণ রুটের জন্য ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট এয়ারপোর্ট থেকে উড়োজাহাজের জ্বালানির দাম দেশীয় মুদ্রায় প্রতি লিটারে পড়বে ৭২ টাকা। যা আগে ছিল লিটারে ৬৭ টাকা। আর আন্তজার্তিক গন্তব্যের উড়োজাহাজের জ্বালানি তেলের নতুন দাম পড়বে লিটারে শুন্য দশমিক ৬৮ ডলার। যা আগে ছিল লিটারে শুন্য দশমিক ৬৪ ডলার।

মূল্যবৃদ্ধির ফলে দেশীয় উড়োজাহাজ সংস্থাগুলো ফ্লাইট পরিচালনায় আবারো চাপে পড়ব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া খরচ সমন্বয় করতে অভ্যন্ত্যরীণ রুটে উড়োজাহাজে ভ্রমণে টিকিটের মূল্যও বৃদ্ধির পরিকল্পনা করছে সংস্থাগুলো।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) শাকিল মেরাজ বলেন, মূল্যবৃদ্ধির ফলে অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট পরিচালনার খরচ বাড়বে। এজন্য সংস্থার পক্ষ থেকে মূল্য অপরিবর্তিত রেখে সব সময় ফ্লাইট পরিচালনা করা সম্ভব হবে না। তাই তেলের দামের সাথে সামাঞ্জস্য রেখে পরবর্তীতে টিকিটের নতুন মূল্যও বাড়ানো হতে পারে।

বেসরকারি ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম বলেন, ‘সারা বছরই তেলের দাম উঠানামা করতে থাকে। এরই মধ্যে চড়া মূল্যে কিনতে হচ্ছে আমাদের উড়োজাহাজের জ্বালানি, সেইসঙ্গে রয়েছে ভ্যাট। আবার বাড়ানো হলে তা নিঃসন্দেহে প্রভাব ফেলবে বেসরকারি খাতের এয়ারলাইন্সগুলোতে। কারণ প্রতিযোগিতার কারণে সব সময় টিকিটের মূল্য বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়ে ওঠে না।’

উড়োজাহাজ সংস্থা পরিচালনায় যুক্ত ব্যক্তিরা বলছেন, ব্যাপক সম্ভাবনা থাকলেও বিমানবন্দরের অবকাঠামোগত দুর্বলতা, দক্ষ জনবল ও প্রয়োজনীয় অর্থায়নের অভাবে বিমানপরিবহন ব্যবসায় সুবিধা করতে পারছে না দেশি এয়ারলাইন্স। আন্তর্জাতিক রুটের পরিধি কিছুটা বাড়লেও এখনও ৭৫ শতাংশ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে বিদেশি এয়ারলাইন্স। বিশ্লেষকদের মতে, আকাশসেবায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বাড়াতে জেট ফুয়েলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা এবং যন্ত্রাংশ আমদানিতে শুল্ক জটিলতা দূর করা জরুরি।

১৯৯৫ সালে বাংলাদেশে বেসরকারি খাতে এভিয়েশন ব্যবসার যাত্রা শুরু। গত দুই দশকে দশটি এয়ারলাইন্স এ ব্যবসায় যুক্ত হলেও বর্তমানে টিকে আছে মাত্র তিনটি। উদ্যোক্তাদের ভাষ্য, শুরুর দিকে এই ব্যবসা পরিচালনার অভিজ্ঞতার অভাব, বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলোর প্রতি নানা প্রতিবন্ধকতামূলক নীতির কারণে বন্ধ হয়ে যায় এয়ারলাইন্সগুলো। উৎস: বাংলা রিপোর্ট।

ad

পাঠকের মতামত