যে কারণে মাথায় শিং গজাবে!
ছোটবেলায় একজনের মাথার সঙ্গে টোকা লাগলে আরেকটি টোকা দেয়ার জন্য অস্থির হয়ে যেতাম। কারণ একবার টোকা লাগলে শিং গজাবে।ছোটবেলায় এ অবস্থার সম্মুখীন হয়নি এমন লোক খুঁজে পাওয়া মুশকিল। কিন্তু আসলেই এ বিষয়টি কতটা সত্য।চিকিৎসকদের মতে, এক বিশেষ ধরনের চর্মরোগের প্রভাবে মানুষের শরীরেও গরু, ছাগলের মতো শিং গজাতে পারে।
চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায়, এর নাম ‘কটেনিয়াস হর্ন’।চিকিৎসকদের মতে, এটি এক ধরনের স্কিন টিউমার। তবে এটি কেন হয় তার কোনো নির্দিষ্ট কারণ বিজ্ঞানীরা এখনও উদ্ধার করতে পারেননি।তবে তাদের মতে, শরীরে নখ, চুল গঠনকারী প্রোটিন কেরাটিনের মাত্রাতিরিক্ত ক্ষরণের ফলে এই কটেনিয়াস হর্ন তৈরি হয়। সূর্যের অতিরিক্ত বিকিরণের ফলে এই রোগ হতে পারে।এ ছাড়া আঁচিলের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির ফলেও হতে পারে এ রোগ।
মার্কিন গবেষকদের মতে, কটেনিয়াস হর্ন আসলে ক্যান্সারের পূর্ববর্তী ক্ষত। ত্বকের যে অংশে কটেনিয়াস হর্ন গজায়, সেই অংশে জ্বালা বা যন্ত্রণা হতে পারে। মারাত্মক পরিস্থিতিতে রক্তক্ষরণ পর্যন্ত হতে পারে।এই রোগের এখনও তেমন কোনো চিকিৎসা আবিষ্কৃত হয়নি। শরীরের গজানো কটেনিয়াস হর্ন হলে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে চেঁচে ফেলা হয়, নয়তো ওষুধের মাধ্যমে পুড়িয়ে কটেনিয়াস হর্নের বৃদ্ধির গতি কমানো হয়।
কটেনিয়াস হর্ন শুধু কপালে বা মাথায় নয়; এটি কানে, ঘাড়ে, হাঁটু বা কনুইয়েও গজাতে পারে। আর স্বাভাবিকভাবে এটি ২-৩ ইঞ্চি লম্বা হয়। তবে ক্ষেত্রবিশেষে এটি ৩-৪ সেন্টিমিটার লম্বাও হতে পারে।তাই এ ধরনের কোনো লক্ষণ যদি শরীরে দেখা দেয়, তা হলে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।




