273129

যুক্তরাষ্ট্রের সম্মানজনক পুরস্কার পাচ্ছেন বাংলাদেশি রাজিয়া

যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ইন্টারন্যাশনাল উইমেন অব কারেজ পুরস্কারে ভূষিত হতে যাচ্ছেনে রোহিঙ্গা বংশোদ্ভূত বাংলাদেশী নাগরিক রাজিয়া সুলতানা। নির্যাতত রোহিঙ্গা মুসলিমদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করার জন্য সাহসী নারী হিসেবে তিনি এই সম্মানজনক পুরস্কার পাচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতার এক বিবৃতিতে একথা জানিয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১০ জন নারী পাচ্ছেন এবারের এই পুরস্কার।যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রী মাইক পম্পেও এই পুরস্কার তুলে দেবেন বিজয়ীদের হাতে। অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করবেন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প।

শান্তি, ন্যায়বিচার, মানবাধিকার, জেন্ডার বৈষম্য এবং নারীর ক্ষমতায়নে ভূমিকা রাখায় ২০০৭ সাল থেকে আইডব্লিউওসি অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত ৬৫টি দেশের ১২০ জন নারীকে এই পুরস্কার দেয়া হয়েছে।এ বিষয়ে আনাদোলু বার্তা সংস্থাকে রাজিয়া সুলতানা বলেন, এটি শুধু আমি নই, আমার পুরো সম্প্রদায়ের জন্য একটি বিরাট অর্জন। কারণ আমরা এর মাধ্যমে দীর্ঘদিন লড়াই করে আসা রোহিঙ্গা পরিচয়েই এই পুরস্কার পেতে যাচ্ছি।

তিনি আরো বলেন, ‘মিয়ানমার সরকার ইতোমধ্যেই আমাদের রাজ্যের আরাকান নাম পাল্টে রাখাইন করেছে। আমাদের অস্তিত্ব বিলীন করে দেয়ার উদ্দেশ্যেই তারা এসব করছে।গত বছর রোহিঙ্গাদের ওপর ভয়াবহ গণহত্যার নিন্দা করে রাজিয়া সুলতানা বলেন, শুধু মিয়ানমার সামারিক বাহিনীর কয়েকজন সদস্যই নয়, পুরো সামরিক বাহিনীকে বিচারের কাঠগড়ায় দাড় করাতে চাই রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য।

তিনি আরো বলেন, নিরপত্তা ও পূর্ণ নাগরিক অধিকার নিয়ে আমরা দেশে ফিরতে চাই। আমরা উদ্বাস্তু শিবিরে বসবাস করতে চাই না। আমাদের, আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যত আছে। আমাদের আপনি ক্যাম্পে বাস করতে বাধ্য করতে পারেন না।

কে এই রাজিয়া সুলতানা-মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু শহরে ১৯৭৩ সালে জন্ম রাজিয়া সুলতানার। বর্তমানে বাংলাদেশি নাগরিক রাজিয়া পেশায় একজন আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মী।তিনি জীবনের বড় একটা সময় অতিবাহিত করেছেন মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার কাজে। ২০১৪ সাল থেকে রোহিঙ্গাদের নিয়ে বিশেষ করে নারী ও শিশুদের নিয়ে সরাসরি কাজ করছেন তিনি। ২০১৬ সালে নির্যাতনের মুখে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা একশ জন রোহিঙ্গাদের সাক্ষাৎকার নেন রাজিয়া।

এ ছাড়া মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর দ্বারা যৌন সহিংসতার শিকার বিষয়ে ‘উইটনেস টু হরর’ এবং ‘রেপ অব কমান্ড’ নামে দু’টি প্রতিবেদন প্রকাশ করেন তিনি।

ad

পাঠকের মতামত