272645

‘দিনে কাজ করি, রাইতে পড়ি, পইড়া পুলিশ অইতে চাই’

রবিউল আওয়াল। বয়স ১০ বছর। পড়ে পঞ্চম শ্রেণিতে। পাশাপাশি একটি চায়ের দোকানে কাজ করে সে। মা ও বোনের সঙ্গে রাজধানীর একটি বস্তিতে থাকে রবিউল। সেখানে কখনো বৃষ্টি ভেজে, আবার ঘামে গরমে। ঘরে নেই বিদ্যুৎ, নেই খাবার পানি। বাবা বেঁচে থাকলেও এক বছর হলো আরেকটি বিয়ে করে চলে গেছেন তিনি। বড় বোনের (১৪) বিয়ে হয়েছিল। কিন্তু তিন মাসের বেশি টিকেনি তার সংসারটিও। ভাঙা-গড়া আর দরিদ্রতা নিয়েই তার সংসার। এরই মধ্যেই সে স্বপ্ন দেখে বেঁচে থাকার। হতে চায় বড়, মানুষের মতো মানুষ। সেই প্রত্যাশা নিয়েই জীবন যুদ্ধে নেমেছে রবিউল। এসব নিয়েই কথা হয় তার সঙ্গে-

প্রশ্ন : তোমার গ্রামের বাড়ি কোথায়? উত্তর : মাদারীপুর। প্রশ্ন : ঢাকায় কোথায় থাকো? উত্তর : সেগুনবাগিচার মাজার বস্তিতে। প্রশ্ন : তুমি কী করো? উত্তর: দিনে কাম (কাজ) করি, রাইতে পড়ি। প্রশ্ন : তুমি কার সঙ্গে থাকো? উত্তর: মা ও বড় বোনের লগে। প্রশ্ন: বাবা? উত্তর : নাই, ভাইগ্গা গেছে। প্রশ্ন: ভাইগ্গা গেছে মানে? উত্তর : আরেকটা বিয়া কইরা আমাগো ছাইড়া চইল্লা গেছে। প্রশ্ন : তোমার বাবার নাম কী? উত্তর: সিরাজ মাতবর, রিকশা চালাইতো।

প্রশ্ন : তোমার মা কী করেন? উত্তর : মাইনসের বাসায় কাম (কাজ) করে।প্রশ্ন : আর বোন? উত্তর : হেও মার লগে কাম (কাজ) করে। প্রশ্ন : তুমি কোথায় কাজ করো? উত্তর: চায়ের দোকানে। প্রশ্ন : কত টাকা বেতন পাও? উত্তর : কোনো টেকা দেয় না, শুধু তিন বেলা খাইতে দেয়। প্রশ্ন : তাহলে পড়াশোনার খরচ চালাও কীভাবে? উত্তর : ইস্কুল থেইক্কা দেয়।

প্রশ্ন : কোন স্কুল? উত্তর : জুম বাংলা স্কুল (একটি স্বেচ্ছাসেবী স্কুল) প্রশ্ন: স্কুল থেকে তুমি কী কী পাও? উত্তর: বই-খাতা, কেলাসের সময় খাওন দেয়, কাপড়-চোপড়, আরও অনেক কিছু প্রশ্ন : অবসরে কী করো? উত্তর : ক্রিকেট খেলি আর ছবি আঁকি প্রশ্ন : ফেসবুক সম্পর্কে কিছু জান? উত্তর : হ, জানি। ফেসবুকে ছবি ছাড়ে, চেট করে। আরও অনেক কিছু করা যায়। প্রশ্ন : তোমার মোবাইল আছে? উত্তর : না। মায় কইছে, আমার ১৮ বছর হইলে মোবাইল কিন্না দিব।

প্রশ্ন : তোমার প্রিয় খাবার কী? উত্তর : ভাত ও আলুবাজি প্রশ্ন: কেন, পোলাউ-মাংস খেতে পছন্দ করো না? উত্তর : কই পামু এসব। এগুলো খাইতে অনেক টেকা লাগে প্রশ্ন : পড়াশোনা করে কী হতে চাও? উত্তর : ঢাকা বিশ্বাবদ্যালয়ে পইড়া একজন পুলিশ অইতে চাই প্রশ্ন: ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার না হয়ে পুলিশ হবে কেন? উত্তর : একজন ভালো পুলিশ অইতে চাই। সমাজ থেইক্কা সব অপরাধ দূর করবো।

একদিন সে অনেক বড় হতে চায়। দূর করতে চায় দেশ থেকে অপরাধ। পাশে দাঁড়াতে চায় অসহায় মানুষের। চায় মায়ের দুঃখ ঘোচাতে। এসব স্বপ্ন নিয়েই জীবন সংগ্রামে যুদ্ধ করে যাচ্ছে রবিউল। উৎস: ইত্তেফাক।

ad

পাঠকের মতামত