ধর্মের দোহাই দিয়ে দুই মাস পর পুনরায় বিয়ে, অতপর..
নিউজ ডেস্ক।। টাকা ও ব্যবসা হাতিয়ে নিয়ে নিজের সন্তানকে অস্বীকার করে স্ত্রীর বিরুদ্ধে কুৎসা রটানোর অভিযোগ উঠেছে এক স্বামীর বিরুদ্ধে। আবার ওই স্বামী সন্তানকে পিতার স্বীকৃতি দেয়ার জন্য স্ত্রী ও তার পরিবারের কাছে ১০ কোটি টাকা দাবি করছেন। তা না হলে স্বীকৃতির বদলে স্ত্রী ও শিশু সন্তানকে হত্যার হুমকি দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন আফরিনা সুলতানা মুক্তা নামে এক মা। গতকাল শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মুক্তা এই অভিযোগ করেন। তিনি সন্তানের স্বীকৃতি এবং তার স্বামী বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতির জয়েন্ট সেক্রেটারি জয়নাল আবেদীন খোকনের বিচারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা কামনা করেছেন।
লিখিত বক্তব্যে মুক্তা বলেন, পৈতৃক সূত্রে তিনিও একজন স্বর্ণের ব্যবসায়ী ছিলেন। ব্যবসার সুবাধে খোকনের সাথে তার পরিচয়। খোকন তাবলিগ জামায়াতের একজন আমির এবং সুন্নতের লেবাসধারী ছিলেন। বিভিন্ন সময় ধর্মীয় ফতুয়া এবং ব্যবসায়িক ও পারিবারিক জীবন সম্পর্কে ধর্মীয় আলাপচারিতায় তার ওপর একটা বিশ্বাস ও ভালোলাগা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে দু’জন বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু মুক্তার বাবা এই বিয়ের বিরোধিতা করেন।
তবে খোকনের ওপর অন্ধবিশ্বাসের কারণে সব বাধা উপেক্ষা করে তাকে বিয়ে করেন। বিয়ের সময় কুবল বলার জন্য খোকন তার কাছ থেকে এক লাখ ও পরে তাদের বাসস্থানের জন্য আরো এক কোটি টাকা যৌতুক নেন। অথচ বিয়েতে কাবিন করা হয় মাত্র ১০১ টাকার। বিয়ের কিছুদিন পরে মুক্তা গর্ভবর্তী হয়ে পড়লে খোকনের নিষ্ঠুর রূপ তার সামনে প্রকাশ পেতে থাকে। খোকন চায়নি মুক্তার ঘরে তার কোনো সন্তান আসুক। তাই প্রথম স্ত্রী ও পরিবারের পরামর্শে নানা ষড়যন্ত্র শুরু করে। তাদের দেয়া মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনে মুক্তার সন্তান নষ্ট হয়ে যায়। এতে খোকনের প্রতি ঘৃণায় বিয়ের ছয় মাসের মাথায় তাকে তালাক দেন। কিন্তু খোকন তার পরিবারের লোকদের ষড়যন্ত্র ও তাবিজের কারণে এমন নিষ্ঠুর ব্যবহার করেছেন বলে জানান। তাই মুক্তার কাছে ক্ষমা চেয়ে ধর্মের দোহাই দিয়ে দুই মাস পর পুনরায় তাকে বিয়ে করেন। এরপর আবারো খোকন ও তার পরিবারের ষড়যন্ত্রে তার সন্তান নষ্ট হয়ে যায়।
এর মধ্যে মুক্তাকে জিনে ধরেছে বলে ঝাড়ফুকের জন্য ভণ্ড হুজুর নিয়ে আসে খোকন। ওই হুজুর ঘর বন্ধ দেয়ার নাম করে তার ৭৮ ভরি ¯¦র্ণ লুট করে। এই ঘটনায় মামলা করা হলে পুলিশি তদন্তে বেরিয়ে আসে খোকনের প্রথম স্ত্রীর যোগসাজশ রয়েছে। কিন্তু সম্মানের দোহাই দিয়ে খোকন তার প্রথম স্ত্রীকে ঝামেলামুক্ত করতে আমাকে দিয়ে পুলিশকে ম্যানেজ করতে বাধ্য করেন। ওই সময় মুক্তা দ্বিতীয়বার তালাক দেন তাকে। কিন্তু এবার কুরআনের শপথ করে নিজেকে শুধরে নেয়ার আশ্বাস দিলে মুক্তা আবার তার সংসারে ফিরে যান।
মুক্তা বলেন, সবশেষ ২০১৮ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি তাদের একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। এতে আরো ক্ষিপ্ত হয়ে খোকন তাকে শারীরিক, মানসিক ও অর্থিকভাবে অত্যাচার করতে শুরু করেন। ওই বাচ্চা তার নয় বলে বিভিন্ন মহলে বলে বেড়াতে শুরু করেন। এর প্রতিবাদ করলে মুক্তাকে প্রচণ্ড মারধর করে বাচ্চার স্বীকৃতির জন্য ১০ কোটি টাকা দাবি করেন। টাকা দিলে বাচ্চা তার বলে স্বীকার করবেন। তা না হলে পিতার স্বীকৃতি তো দূরে থাক মা-মেয়ে দুজনকেই হত্যার হুমকি দেন। এ ব্যাপারে তার বিরুদ্ধে থানায় জিডি ও আদালতে মামলা করেও কোনো ফল পাওয়া যাচ্ছে না। বর্তমানে সন্তানকে নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে জানান তিনি।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জয়নাল আবেদীন খোকন মোবাইলে সাংবাদিকদের বলেন, তার স্ত্রীর করা সব অভিযোগ মিথ্যা। উল্টো তার স্ত্রী তাকে ব্লাকমেইল করে টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। সন্তান কার জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ওই সন্তান তারই। উৎস: নয়াদিগন্ত।




