270917

মালয়েশিয়ায় দুই মাসে গ্ৰেফতার ২৪শত বাংলাদেশি!

নিউজ ডেস্ক।। মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে চিরুনি অভিযানে প্রতিদিনই গ্ৰেফতার হচ্ছে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের অভিবাসীরা। বিভিন্ন সময়ে আটক বাংলাদেশীদের ঠিকানা এখন জেল খানায়। পরিচিত কেউ টিকিট কেটে দিলে দেশে যাওয়ার ব্যবস্থা হয়, না হলে একটি টিকিটের জন্য অপেক্ষা করতে হয় দীর্ঘদিন। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত দুই মাসের অভিযানে আটক করা হয় ৪০ হাজারের বেশি অভিবাসীদের। আটককৃতদের মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ কাগজপত্র এবং ভিসার সঠিক ব্যবহার না করাই গ্ৰেফতার করা হয় ৯ হাজার ৪ শত ৫২ জনকে।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ইন্দোনেশিয়ার ৩ হাজার ২শত ৬১জন। দ্বিতীয় রয়েছেন বাংলাদেশি ২ হাজার ৩ শত ৭৮ জন। অন্যান্য দেশের মধ্যে রয়েছেন, ফিলিপাইন ৮শত ৪৯জন, মায়ানমারের ৮শত ৬৮ জন বাকিরা অন্যান্য দেশের নাগরিক। শুধু অবৈধ অভিবাসী নয়, গ্রেপ্তার করা হয়েছে মালয়েশিয়ার নাগরিকদেরও। মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসীদের কাজে রাখার উপর নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও কাজে নেওয়ার অপরাধে গ্রেফতার করা হয়েছে ১৫১ জন মালিককে।

মালয়েশিয়া ইমিগ্ৰেশনের প্রধান দাতুক সেরি খায়রুল দাজামি দাউদ স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন, অবৈধ অভিবাসী শ্রমিকদের আটকের জন্য আমাদের অভিযান আরো জোরদার করা হবে। মালয়েশিয়ার মাটিকে অবৈধ অভিবাসীদের ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। এই সমস্যা টা এখন জাতীয় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি আরো বলেন, অবৈধ অভিবাসীরা মালয়েশিয়ার আইন-শৃঙ্খলার প্রতি সম্মান শ্রদ্ধা না রেখেই অবৈধভাবে এদেশে বসবাস করছে।

তিনি আরো বলেন, আমরা বিভিন্ন সময় অবৈধ অভিবাসীদের দেশ ত্যাগের সময় সীমা বেঁধে দিলেও আইনের তোয়াক্কা না করে এদেশে রয়ে গেছে। যারা মালয়েশিয়ার আইন কে অমান্য করছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিবো আমরা । সাথে সাথে তাদের নিয়োগদাতাদের আইনের মুখোমুখি করতে বদ্ধপরিকর এবং আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

মালয়েশিয়ায় গ্রেফতার হয়ে জেলে আটক এবং অবৈধ বাংলাদেশিদের ব্যাপারে কমিউনিটি সংগঠনগুলোর ভুমিকা কি জানতে চাইলে বাংলাদেশ প্রেসক্লাব অব মালয়েশিয়ার সিনিয়র সহ সভাপতি ও জালালাবাদ এসোসিয়েশন মালয়েশিয়ার সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক শেখ আহমাদুল কবির এ প্রতিবেদককে জানান, অসহায় এবং জেলখানায় আটক বাংলাদেশীদের জেলের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরে দূতাবাসের পাশাপাশি ভিবিন্ন সংগঠন ও জনহিতৈশীদের সহযোগিতায় টিকিট কেটে দেশে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। মালয়েশিয়ায় বসবাসরত ভিবিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দের শতস্ফুর্ত মনমানষিকতা নিয়ে অসহায় রেমিটেন্স যোদ্ধাদের সহযোগিতা করে আসছেন।

কতজনকে আপনারা দেশে পাঠিয়েছেন এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সাংবাদিক কবির বলেন, ২০১৮ সালে ১৮ জনকে দেশে পাঠানো হয়েছে জালালাবাদ এসোসিয়েশনের আর্থিক সহযোগিতায়। এর মধ্যে ৫টি মরদেহ ও যারা নিতান্ত টাকার অভাবে জেলের মেয়াদ শেষ হলেও দেশে যেতে পারছেনা এমন ১৩ জনকে জালালাবাদ এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বিমানের টিকেট দিয়ে দেশে পাঠানো হয়েছে।

এ ছাড়া বাংলাদেশ প্রেসক্লাব অব মালয়েশিয়ার আর্থিক সহযোগিতায় প্রায় ৯ জনকে দেশে পাঠানো হয়েছে। আপনি যেনে খুশি হবেন,বাংলাদেশ প্রেসক্লাব অব মালয়েশিয়ার সভাপতি তার নিজ অর্থায়নে একজন মুমূর্ষ রোগিকে দেশে পাঠিয়েছেন এবং ওই রোগির হাসপাতালের বিল পরিশোধের পর উদ্ধিৃওি ৭ লাখ টাকা তার দেশের বাড়িতে পাঠিয়েছেন। আমি মনেকরি আমরা যারা প্রবাসে রয়েছি কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ সকলে মিলে আমাদের বাংলাদেশি প্রবাসীদের সুখে দুঃখে পাশে দাড়াবার আহবান জানান তিনি।

এদিকে সাজার মেয়াদ শেষ হলেও পরিচিত বা কাউকে দিয়ে যদি একটি টিকিট পাওয়া যায় তাহলে সে দেশে যেতে পারে। অন্যথায় দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হয় একটি টিকিটের জন্য। এ ব্যাপারে বাংলাদেশী ব্যবসায়ী আলী এই প্রতিবেদককে জানান,বাংলাদেশের সব কমিউনিটিগুলো যদি আরো বেশী সহযোগিতা করতো এবং অসহায় প্রবাসীদের পাশে দাঁড়াতো তাহলে দীর্ঘদিন জেলা না থেকে তারা বাংলাদেশে যেতে পারতো।

দিকে বৈধ অভিবাসীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন এবং অবৈধ বাংলাদেশীদের বৈধতা পাওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রথম সচিব (শ্রম) মোঃ হেদায়েতুল ইসলাম মন্ডল জানান, হাইকমিশনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে মালয়েশিয়ার সরকারের কাছে অবৈধদের বৈধ করা এবং অভিবাসন বিভাগের তল্লাশির সময় যেন কেউ অযথা হয়রানির না হয় সে বিষয়ে মালয়েশিয়া সরকারকে অনুরোধ করা হয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশিরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার জেলে অসহায় বন্দিদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে নিতে।

ad

পাঠকের মতামত