270390

কোন দিকে পাক-ভারত উত্তেজনা?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক।। পাকিস্তানের হাতে আটক ভারতীয় বৈমানিক অভিনন্দনকে মুক্তি দেওয়ার মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি নতুন মোড় নিয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমন ও শান্তি আলোচনার প্রস্তুতি হিসেবে তাকে মুক্তির ঘোষণা দেন। কিন্তু গতকাল পর্যন্ত ভারত সরকার পাকিস্তানের পদক্ষেপ নিয়ে ইতিবাচক কোনো প্রতিক্রিয়া দেননি। উল্টো বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ বলেছেন, ভারতের কূটনীতিকদের তৎপরতার কারণেই পাইলট অভিনন্দন মুক্ত হয়েছেন। এটিকে তিনি কূটনীতিক বিজয় হিসেবে বর্ণনা করেন। অমিত শাহর ব্যাখ্যা ছাড়া ভারতের পক্ষ থেকে আরেকটি ব্যাখ্যা পাওয়া গেছে, তা হলো জেনেভা সমঝোতা চুক্তি অনুসারেই পাকিস্তান অভিনন্দনকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছে। চলমান উত্তেজনা শুরু হয় ১৪ ফেব্রুয়ারি কাশ্মীরে ভারতীয় বাহিনীর ওপর জঙ্গি হামলার ভেতর দিয়ে।

ওই হামলায় ভারতের ৪০ জনের বেশি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নিহত হয়। এর পর ২৬ ফেব্রুয়ারি ভারত পাকিস্তানের ভেতরে ঢুকে জঙ্গি আস্তানায় বিমানহামলা চালায়। এর পর দিন পাকিস্তান পাল্টা আঘাত হানে এবং ভারতের যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে। একই সঙ্গে পাইলট অভিনন্দনকে আটক করে। কিন্তু পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান আকস্মিকভাবে ঘোষণা দেন যে, আটক অভিনন্দনকে মুক্তি দেওয়া হবে। তার কথা অনুসারে গতকালই ভারতের হাতে অভিনন্দনকে হস্তান্তর করা হয়।

ইমরান খান বলেন, গতকালই আমি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ফোন করে বলতে চেয়েছিলাম, আমরা শান্তি চাই। আমাদের কাছে একজন পাইলট আছে। তাকে কাল মুক্তি দিব। ভারত-পাকিস্তান এ দুটো দেশের চিরবৈরী অতীত ইতিহাস রক্তপাত ও সংঘাতের হিসাব ছাড়া কিছু নয়। তার পরও দু’দেশের মধ্যে শান্তি প্রচেষ্টা যে হয়নি তা নয়। বেশ কয়েকবার শান্তির জন্য দুই দেশ এগিয়েছে কিন্তু তা স্থায়ী হয়েছে অল্পই। স্বাধীনতার পর দেশ দুটি তিনবার যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়। এর মধ্যে দুবারই কাশ্মীর নিয়ে।

১৯৯৯ সালে কিরগিল যুদ্ধের পর তৎকালীন ভারতের প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়ি একটি বাসে করে পাকিস্তানের লাহোরে যান। সেখানে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের সঙ্গে তার একটি শান্তিচুক্তি হয়। এর পর ২০০১ সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী পারভেজ মোশাররফ আগ্রায় বাজপেয়ির সঙ্গে মিলিত হন। কিন্তু তারা কোনো সমঝোতায় পৌঁছতে ব্যর্থ হন। এর পর দেশ দুটিতে যখনই নতুন সরকার এসেছে তখনই শান্তির কথা বলা হয়েছে।

কিন্তু সেটা দৃশ্যমান হয়নি। গত বছর পাকিস্তানের মসনদে ইমরান খান বসার পরই মোদিকে শান্তির কথা বলে চিঠি দিয়েছিলেন, মোদি সেই চিঠির জবাবও দিয়েছেন। কিন্তু কূটনীতিক তৎপরতা অগ্রসর হয়নি। দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু শেষ মুহূর্তে তা বাতিল করে দিল্লি। সর্বশেষ গতকাল ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ ওআইসি সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন বলে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেই সভায় যোগ দেননি। ‍উৎস : বিবিসি

ad

পাঠকের মতামত