270335

কুয়েত ও চীনের হাজার কোটি ডলারের বিনিয়োগ তহবিল

ডেস্ক রিপোর্ট।। চীন ও কুয়েত যৌথভাবে ১ হাজার কোটি ডলারের বিনিয়োগ তহবিল গঠন করতে যাচ্ছে, যা উভয় দেশের বিভিন্ন বিনিয়োগ প্রকল্পে ব্যয় করা হবে। বিষয়সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। খবর ব্লুমবার্গ ও সিনহুয়া। সূত্রগুলো বলছে, কুয়েত-চায়না সিল্ক রোড তহবিল নামে একটি তহবিল গঠনের ব্যাপারে এগোচ্ছে উপসাগরীয় দেশটি। সিল্ক সিটি ও দ্বীপ উন্নয়ন প্রকল্পে ওই তহবিল থেকে বিনিয়োগ হবে। বিষয়টির সংবেদনশীলতার কারণে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রগুলো জানায়, চীনের কৌশলগত ‘ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড’ প্রকল্পের আওতায় অন্যান্য খাতেও তহবিল থেকে বিনিয়োগ হবে। চীন ও কুয়েত প্রত্যেকে ৫০০ কোটি ডলার করে তহবিলটিতে জোগান দেবে বলে জানান তারা।

এছাড়া কৌশলগত অংশীদারদের কাছ থেকে ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে তহবিলটির বিনিয়োগ সক্ষমতা ৩ হাজার কোটি ডলারে নিয়ে যাওয়ারও পরিকল্পনা রয়েছে। প্রস্তাব অনুসারে কৌশলগত অংশীদাররা বিনিয়োগ প্রকল্পে ঠিকাদার হিসেবে কাজ করবে বলে জানায় সূত্রগুলো। তহবিল গঠনের প্রক্রিয়াটি একেবারে প্রাথমিক স্তরে রয়েছে। এ কারণে বিনিয়োগের আকার ও বিনিয়োগ লক্ষ্যমাত্রা পরিবর্তিত হতে পারে। কুয়েতের সুপ্রিম কাউন্সিল ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের মহাসচিব খালেদ মাহদি বলেন, ‘নতুন কুয়েত ২০৩৫ পরিকল্পনার আওতায় সিল্ক সিটি ও দ্বীপের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো ্আমাদের সিগনেচার (প্রধান) প্রকল্প।’

তিনি আরো জানান, এই বিশেষ প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের জন্য তিনটি পূর্বশর্ত রয়েছে—বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল আইন পাস, বেসরকারি খাতের অর্থায়ন মডেল এবং মাস্টারপ্ল্যান। তবে তিনি বিস্তারিত তথ্য জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন। চীনের অর্থ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও শীর্ষ অর্থনৈতিক পরিকল্পনা প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রিফর্ম কমিশনের কাছে ফ্যাক্স পাঠানো হলে তারা কোনো জবাব দেয়নি।

২০৩৫ সালের মধ্যে কুয়েতকে আঞ্চলিক ব্যবসায়িক কেন্দ্র হিসেবে উপস্থাপন এবং তেল-বহির্ভূত রাজস্ব চাঙ্গা করার উদ্দেশ্যে দেশটির উত্তরাঞ্চলে বিশেষ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে উপসাগরীয় তেলসমৃদ্ধ দেশটি। ওই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে শত কোটি ডলারের সিল্ক সিটি প্রকল্পটি গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে পরিকল্পনায় ছিল। গত বছরের জুলাইয়ে কুয়েতের আমির শেখ সাবাহ আল-আহমাদ আল-জাবের আল-সাবাহ চীন সফরের মাধ্যমে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্বের ব্যাপারে ঐকমত্যে পৌঁছেন। চীনে কুয়েতের আমিরের সপ্তম সফরটিতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন যুগের সূচনা হয়।

চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ উদ্যোগে সমর্থন প্রদানকারী প্রথমদিককার দেশ হচ্ছে কুয়েত। কুয়েতের আমিরের বেইজিং সফরের সময় উপসাগরীয় দেশটির জ্বালানি, অবকাঠামো নির্মাণ, ফিন্যান্স, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উভয় দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি, নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবিরোধী কর্মসূচিতে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছিলেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।

ad

পাঠকের মতামত