‘এই তো বেঁচে আছি, আমাদের কি জঙ্গি মনে হয়’
ভারতীয় নিরাপত্তাবাহিনীর পক্ষ থেকে বালাকোটে হামলায় ৩০০ জন জঙ্গির খবর জানানো হলেও তা সত্য নয় বলে মনে করেন বালাকোটের বাসিন্দারা। বালাকোটের জাবা গ্রামের মানুষের বক্তব্য এমন যে- কিছুই ঘটেনি সেখানে।এই গ্রামের একজন বাসিন্দা আব্দুর রশিদ। তিনি পেশায় ভ্যানচালক। শুক্রবার (২ মার্চ) সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘কয়েকটা পাইন গাছ আর একটা কাক মরেছে! আর কিছুই হয়নি। এত জঙ্গি নাকি মরেছে, আর একটাও দেহ পাওয়া গেল না? এমন হয় নাকি!’ বাষট্টি বছরের নুরান শাহ কিন্তু সেদিন ভোরে বোমার আঘাতে সত্যি আহত হন। ডান চোখের উপরে এখনও সেই প্রমাণ স্পষ্ট। কাল নিজেরই বাড়ি দাওয়ায় বসে সংবাদমাধ্যমকে বললেন, ‘ওরা নাকি জঙ্গি মারতে বোমা ফেলেছিল! এই তো আমরা বেঁচে আছি। আমাদের কি জঙ্গি মনে হয়?’
পাকিস্তানের অ্যাবটাবাদের ২০১১ সালে ওসামা বিন লাদেনকে মেরে এসেছিল মার্কিন নেভি সিল। খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের সেই অ্যাবটাবাদ শহর থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরের শহর বালাকোট। আর এই শহর লাগোয়া পাহাড়ের উপর জঙ্গলে ঘেরা গ্রাম জাবা। সুযোগ পেলেই এখানে বেড়াতে আসেন পাকিস্তানিরা। তবে এখন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা এই এলাকা দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন দেশ-বিদেশের সাংবাদিকেরা। সবাই ‘প্রমাণ’ খুঁজছেন ভারতের প্রত্যাঘাতের।
এই গ্রামটিতে সব মিলিয়ে ৪০০ থেকে ৫০০ লোকের বাস। ‘সন্দেহজনক’ বলতে এখানে রয়েছে একটা মাদ্রাসা। এই মাদ্রাসার নাম তালিম-উল-কোরান। নুরানের মতো অনেকে বললেন, এখানে কোনও দিন কোনও জঙ্গি প্রশিক্ষণ হত না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কেউ কেউ আবার একেই জইশের জঙ্গি শিবির বললেন।তবে তালিম উল কোরআন মাদ্রাসার দিকে ২০০৪-এ প্রথম আঙুল তুলেছিল উইকিলিকস। তারা দাবি, বালাকোটে জাবা গ্রামের কাছে এই মাদ্রাসা খুলে স্থানীয়দের সব ধরনের জঙ্গি প্রশিক্ষণ দিচ্ছে জইশ।
তবে এখন এখন কী অবস্থা সেই মাদ্রাসার! স্থানীয়দেরই একাংশ বলছেন, ‘স্কুলের সাইনবোর্ডে এত দিন ‘নেতা’ হিসেবে মাসুদ আজহার এবং ‘পরিচালক’ হিসেবে মাসুদের শ্যালক ইউসুফ আজহারের নাম লেখা ছিল।’ কাল সেখানে গিয়ে সাংবাদিকরা দেখলেন, সাইনবোর্ড পাল্টে গিয়েছে। আর গোটা স্কুল চত্বর ঘিরে রেখেছে পাক সেনা। ভেতরে প্রবেশ নিষেধ। তবে বাইরে থেকে দেখে, এর গায়ে কোথাও আঁচড়টকুও পড়েছে বলে মনে হয়নি সংবাদমাধ্যমের!




