আলজাজিরার ‘হেড টু হেড’ অনুষ্ঠানের মুখামুখি গওহর রিজভী (ভিডিও)
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তর্জাতিকবিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী আলজাজিরার ‘হেড টু হেড’ অনুষ্ঠানের মুখামুখি হয়েছেন।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুষ্ঠানটির প্রায় দুই মিনিটের একটি প্রমো ছেড়েছে। প্রমোটির পুরো অংশে রয়েছে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আলোকচিত্রী শহিদুল আলমের গ্রেপ্তার এবং তার ওপর নির্যাতনের যে অভিযোগ উঠেছে সে বিষয়টি। এ প্রমোর শুরুতেই দেখা যায়, ড. গওহর রিজভী বলছেন- আলজাজিরাকে সাক্ষাৎকার দেওয়ার জন্যে নয় শহিদুল আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিলো মিথ্যা তথ্য প্রচারের অভিযোগে। তার প্রচারিত তথ্যগুলো সন্ত্রাসকে উসকে দিচ্ছিলো। শহিদুল আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু।
শহিদুল আলমকে নিজের বন্ধু পরিচয় দেওয়াতে আলজাজিরা প্রশ্ন করে, গত আগস্টে শহিদুল আলম আদালতের বাইরে সাংবাদিকদের বলেছিলেন যে পুলিশ তাকে বেধড়ক প্রহার করেছে। তার গায়ের জামা রক্তে ভিজে গিয়েছিলো। সেই জামা ধুয়ে আবার তাকে পড়ানো হয়েছে। তাকে ১০৭ দিন কারাগারে থাকতে হয়েছিলো। সেখানে তার ওপর অত্যাচার করা হয়েছে। আপনার বন্ধুদের প্রতি কি এমন আচরণ করে থাকেন?
আলজাজিরার এ প্রশ্ন করার পর দর্শকদের হাসতে দেখা যায়। খানিকটা বিব্রত হতে দেখা যায় ড. গওহর রিজভীকে। নিজেকে সামলে নিয়ে প্রশ্নে জবাবে ড. গওহর রিজভী বলেন- শহিদুলের প্রতি কী আচরণ করা হয়েছিলো যে বিষয়ে আমি আপনাকে একটি কথাও বলিনি।
আমি যা বলেছি তা হলো শহিদুল আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। যখন তাকে গ্রেপ্তার করা হয় তখন তার চিকিৎসার ব্যাপারে আমি নিজে উদ্যোগ নিয়েছিলাম। তার যাতে সুচিকিৎসা হয়, তার পরিবার যাতে তার জন্যে খাবার নিয়ে যেতে পারেন, তা নিশ্চিত করার জন্যে আমি উদ্যোগ নিয়েছিলাম। ড. গওহর রিজভীর কথা বলার মধ্যেই আলজাজিরা প্রশ্ন করে- কেনো তার চিকিৎসার প্রয়োজন হয়েছিলো? উত্তরে ড. গওহর রিজভী বলেন, আপনি যে বলছেন শহিদুল আলমকে মারধর করা হয়েছে সে জন্যে নয়।
এমন সময় আবারো প্রশ্ন করা হয়- তার মানে শহিদুলকে যে মারধর করা হয়েছিলো তা আপনি অস্বীকার করছেন? ড. গওহর রিজভী বলেন- না, আমি অস্বীকার করছি না যে তাকে মারধর করা হয়নি। আমি তা অস্বীকার করছি না এ কারণে যে আমি তো জানি না কী ঘটেছিলো।
আলজাজিরা: আপনার বন্ধু কী মানসিকভাবে অসুস্থ? ড. গওহর রিজভীর: না। আলজাজিরা: তাহলে আপনার দেশের প্রধানমন্ত্রী কেনো বললেন যে শহিদুল আলম মানসিকভাবে অসুস্থ? ড. গওহর রিজভীর: এ বিষয়ে আমার কোনো ধারণা নেই।
ড. গওহর রিজভীর এমন মন্তব্যের পর আবারো দর্শকদের হাসতে দেখা যায়। হাসি থামলে তিনি বলেন, আমি ঠিক জানি না প্রধানমন্ত্রীর মনে কি ছিলো। তবে কেউ যদি মিথ্যা তথ্য প্রচার করে আর সেই তথ্য সন্ত্রাসকে উসকে দেয়, জীবনকে বিপন্ন করে তোলে ঠিক এই সময় আলজাজিরা আবারও প্রশ্ন করে, কোন তথ্যটি মিথ্যা ছিলো? ড. গওহর রিজভী বলেন- যেমন ধরুন, কয়েকজন মানুষ মারা গিয়েছে। তাদের মরদেহ সরিয়ে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে রাখা হয়েছে। নারীদের ধর্ষণ করা হয়েছে। এ সময় দর্শক হেসে উঠলে তিনি তাদের থামিয়ে দিয়ে বলেন, না না শুনুন..
এমন সময় প্রশ্ন করা হয়- ঠিক আছে, আপনি যদি মনে করেন সেই কথাগুলো মিথ্যা তাহলে সেই কারণেই কি তাকে আটক করা হয়েছিলো? ড. গওহর রিজভী বলেন- আমি যা বলেছি, আমি আমৃত্যু সেই একই কথা বলবো। তা হলো বাকস্বাধীনতা না থাকলে আমাদের সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে। একই সঙ্গে সরকারের দায়িত্ব রয়েছে নাগরিকদের রক্ষা করার।
আলজাজিরায় এই সাক্ষাৎকারটি প্রচার করা হবে ১ মার্চ বাংলাদেশ সময় রাত ২টায়। অনুষ্ঠানটি পুনঃপ্রচার করা হবে ২ মার্চ (বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টায়), ৩ মার্চ (বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টায়) এবং ৪ মার্চ (বাংলাদেশ সময় রাত ১২টায়)।




