270021

পাকিস্তানি বিমানের লক্ষ্য ছিল ভারতের সামরিক ঘাঁটি

পাকিস্তান দাবি করেছে, জানমালের যাতে কোন ক্ষতি না হয়, সেইভাবেই তারা ভারতের বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুর ওপরে বোমা ফেলেছ। কিন্তু তাদের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে নয়াদিল্লি।ভারতীয় বিমান বাহিনীর অভিযোগ, পাকিস্তানি বিমান বাহিনী বুধবার যে হামলা চালিয়েছিল, তার মূল লক্ষ্য ছিল সামরিক ঘাঁটিই। পাকিস্তান অন্তত কুড়িটি বিমান নিয়ে হামলা চালিয়েছিল। সেগুলির মধ্যে এফ-১৬ যুদ্ধ বিমানও ছিল, আর তা থেকে শুধু বোমা নয়, ছোঁড়া হয়েছিল মিসাইলও।

জম্মু এবং কাশ্মীরের রাজৌরি জেলার পশ্চিম দিকে সুন্দরবনি এলাকা দিয়ে ওই বিমানগুলি ভারতের আকাশ সীমায় প্রবেশ করে বলে ভারত সরকার অভিযোগ করেছে।রাডারে ধরা পরার সঙ্গে সঙ্গেই মিগ-২১, সুখোই-৩০ এবং মিরাজ-২০০০ জঙ্গিবিমান পাঠানো হয় পাকিস্তানি বিমানগুলিকে বাধা দেওয়ার জন্য। আর তখনই শুরু হয় আকাশ-যুদ্ধ।পাকিস্তানি বিমান থেকে বেশ কিছু বোমা ফেলা হয় ভারতের সামরিক ঘাঁটির চত্বরে। তবে ভারতের দাবি, বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয় নি ওই সব বোমা হামলায়।

পাকিস্তানের সামরিক মুখপাত্র অবশ্য আগেই বলেছিলেন,পাকিস্তান ভারতের সামরিক অঙ্গনে বোমা ফেলা হলেও সামরিক স্থাপনা বা ভবন থেকে তা ছিল বেশ দূরে।পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানও বলেছিলেন, বুধবার সকালের হামলা কাউকে হত্যা বা ক্ষতি করার উদ্দেশ্য করা হয়নি। তারা শুধুমাত্র পাকিস্তানের ক্ষমতার বিষয়টি দেখাতে চেয়েছেন।ভারতীয় বিমান বাহিনীর এয়ার ভাইস মার্শাল আর. জি. কে. কাপুর সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘আমাদের হাতে প্রচুর সাক্ষ্য রয়েছে, যা দিয়ে আমরা প্রমাণ করতে পারি যে পাকিস্তান ওই হামলায় এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ব্যবহার করেছে।’

‘পাকিস্তানের এফ-১৬ বিমানগুলিতে থেকে আকাশ থেকে আকাশে ছোঁড়ার ‘আমরাম’ক্ষেপণাস্ত্র থাকে, তার টুকরো পাওয়া গেছে রাজৌরির পূর্ব দিকে, ভারতীয় সীমার অভ্যন্তরে। পাকিস্তান যে দাবি করছিল যে তাদের বিমান হামলায় এফ-১৬ ব্যবহার করা হয় নি, সেটা অসত্য,’বলেন এয়ার ভাইস মার্শাল আর. জি. কে. কাপুর।তিনি আরো বলেন, প্রতিটি বিমানেরই যে ইলেকট্রনিক সিগনেচার থাকে, তা থেকেই বোঝা যায় যে ঠিক কোন বিমান ভারতীয় সীমানায় প্রবেশ করেছে।

একটি পাকিস্তানি এফ-১৬ জঙ্গীবিমানকে যে গুলি করে নামানো হয়েছে, সেই দাবি বুধবারই করেছিল ভারত।বলা হয়েছিল বিমানটি নিয়ন্ত্রণ রেখার অপর দিকে কিছুটা গিয়ে ভেঙ্গে পরে। ভেঙ্গে পরা এফ-১৬’র কয়েকটি টুকরো ভারতের সীমানার ভেতরে পরেছিল, সেগুলোও বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমের সামনে হাজির করা হয়।ভারত শাসিত কাশ্মীরের রাজৌরি থেকে পাওয়া ওই ক্ষেপণাস্ত্রের টুকরোও দেখানো হয় সংবাদ মাধ্যমকে।

ভারতীয় কর্মকর্তারা পাকিস্তানী এফ-১৬ থেকে ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ দেখাচ্ছেন সূত্র: বিবিসি বাংলা

ad

পাঠকের মতামত