269876

বিমানের মধ্যে সেদিন যা ঘটেছিল

নিউজ ডেস্ক।। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ময়ুরপঙ্খী উড়োজাহাজে লাইটার, সিগারেট, পটকা জাতীয় ও অস্ত্রসদৃশ বস্তু নিয়ে উঠেছিলেন ছিনতাইকারী পলাশ আহমদ। উড্ডয়নরত বিমানে দু’টি পটকা জাতীয় বস্তুর বিস্ফোরণও ঘটান ওই যুবক। সেদিন ওই ফ্লাইটে ক্যাপ্টেনের দায়িত্বে ছিলেন সফি। ফার্স্ট অফিসার মুনতাসির ক্যাপ্টেনের বাম পাশে ছিলেন। ককপিটের বাইরে বিজনেস ক্লাসের সামনে ছিলেন কেবিন ইনচার্জ নিম্মি। তার পাশে ছিলেন জুনিয়ার স্টুয়ার্ড সাকুর। পিছনের অংশে পার্সার হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন হোসনে আরা, ডানপাশে সিনিয়র স্টুয়ার্ড সাগর। সাগরের পাশে স্টুয়ার্ডেস রুমা ছিলেন। তাদের মধ্যে একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে সেদিনের ফ্লাইটে যে কাণ্ড ঘটিয়েছিলেন পলাশ তা জানা গেল।

সাকুর ছিলেন সামনের ডান পাশের দরজার দায়িত্বে। পিছনের বাম পাশের দরজার দায়িত্বে ছিলেন হোসনে আরা। পিছনের ডান পাশের দরজায় ছিলেন সিনিয়র স্টুয়ার্ড সাগর। রুমা ছিলেন ইমার্জেন্সি দরজাগুলোর তদারকির দায়িত্বে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দন থেকে ফ্লাইটটি উড্ডয়নের ১৫ মিনিট পর ক্রু’রা যাত্রীদের মাঝে খাবার বিতরণের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। ঠিক ওই সময় ইকোনমিক ক্লাসের ১৭/এ নম্বর সিটে বসা যাত্রী পলাশ উঠে গিয়ে বিজনেস ক্লাসের ১/ডি সিটে বসেন। এ সময় সাকুর বলেন, এটা তো আপনার সিট না, আপনি বসলেন কেন? ওই সময় পলাশ দাঁড়িয়ে সাকুরের গায়ে হাত দিয়ে বলে ‘I Will be first bangladeshi to make succeeful plane Hijaked’. তখন পলাশ বলে ক্যাপ্টেনকে ককপিটের দরজা খুলতে বল। নইলে বিমান উড়িয়ে দেব। এ সময় সাকুর বিশেষ সংকেত পাঠিয়ে ক্যাপ্টেনকে সতর্ক করে দেন। ওই সংকেত পেয়ে ক্যাপ্টেন বুঝতে পারেন, ভিতরে হাইজ্যাক কিংবা কোনো ঘটনা ঘটেছে। ক্যাপ্টেন তখন ককপিটে থাকা বিশেষ ক্যামেরার মাধ্যমে ভিতরের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। ওই সময় পলাশ একটার পর একটা সিগারেট খাচ্ছিল এবং ককপিটে ধাক্কা দিচ্ছিল। গালিগালাজও করছিল। এছাড়া বিকট শব্দে দুইটি বিস্ফোরণ ঘটান পলাশ। এটা পটকা জাতীয় কোনো কিছুর শব্দের মতো।

এই দৃশ্য দেখে ক্যাপ্টেন সফি ফ্লাইটটি জরুরি অবতরণের জন্য চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের কন্ট্রোল টাওয়ারকে অবহিত করেন। সব মিলিয়ে ৩২ মিনিটের মধ্যে ফ্লাইটটি জরুরি অবতরণ করা হয়। অবতরণের পরপরই ফ্লাইটের জরুরি এক্সিটগুলো খুঁলে দেওয়া হয়। যাত্রীরা নেমে যান। ক্যাপ্টেন সফি ও ফার্স্ট অফিসার মুনতাসির ককপিটের উপরে ‘ওভার হেড এক্সিট’ রশি দিয়ে নেমে যান। শুধু সাগর ও সাকুর থেকে যান। সাকুরকে পলাশ জরুরি এক্সিট বন্ধ করে দিতে বলেন। সাকুর দরজা বন্ধ করতে গিয়ে লাফ দিয়ে নেমে যান। এ সময় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সাকুরের কাছ থেকে বিমানের অভ্যন্তরে বিস্তারিত তথ্য জানেন এবং কমান্ডো অভিযানের প্রস্তুতি নেন।

এদিকে উড়োজাহাজের ভিতরে থাকেন সাগর ও পলাশ। সাগরকে পলাশ বলে সব লাইট বন্ধ করে দিতে। এ সময় সাগর বলে তিনি লাইট বন্ধ করতে পারেন না। তখন পলাশ খুবই ক্ষিপ্ত হন। এক পর্যায়ে পলাশ বলেন, সাগরের গায়ে থাকা জামা দিতে। তখন সাগর জামা খুলে দেন। পলাশ যখন দুই হাত উঁচু করে সাগরের জামা পড়ছিলেন, তখন সাগর স্যান্ডো গেঞ্জি গায়ে বিমান থেকে নামেন। গায়ে স্যান্ডো গেঞ্জি দেখে কমান্ডোরা তাকে গুলি করতে প্রস্তুত হচ্ছিলেন। তারা মনে করেন তিনিই ছিনতাইকারী। তখন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সাকুর বলেন, না মারবেন না, ও আমাদের সাগর ভাই। পরে সাগরের কাছ থেকে তারা ভিতরের অবস্থা জানেন। প্রায় ৪০ মিনিট পর বিমানের ক্রু’দের পোশাক পড়া একজনসহ তিনজন কমান্ডো প্রস্তুতি নিয়ে বিমানের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন। তারা গুলিবিদ্ধ অবস্থায় বিমান ছিনতাইয়ের চেষ্টাকারী পলাশকে নামিয়ে আনেন। এখন সবার প্রশ্ন, অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে লাইটার, সিগারেট ও পটকা জাতীয় বস্তু নিয়ে কিভাবে গেলেন পলাশ? উৎস:  ইত্তেফাক

ad

পাঠকের মতামত