269926

বাংলাদেশকে হতাশার দিন উপহার নিউজিল্যান্ডের

স্পোর্টস ডেস্ক: উইকেটে কিছু নেই! প্রথমদিন যে আর্দ্রতাটুকু ছিল, দ্বিতীয় দিনে তাও চোখে পড়ল না। উপরন্তু বাংলাদেশ বোলারদের নখদন্তহীন বোলিং। পেসাররা পারেননি বলে গতির ঝড় তুলতে, ব্যর্থ সুইং করাতে। স্পিনাররাও ঠিক নিশানায় বল ফেলতে পারেননি, পারেননি ঘুরাতে। বল সোজা ব্যাটে পেয়েছেন নিউজিল্যান্ড ব্যাটসম্যানরা। এর পুরোপুরি ফায়দা লুটেছেন তারা। সফরকারীদের নির্বিষ বোলিংয়ে রানোৎসব করে টাইগারদের উপহার দিয়েছেন হতাশার দিন।

আগের দিনের ৮৬/০ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন ব্যাট করতে নামে নিউজিল্যান্ড। রাভাল ও লাথাম খেলা শুরু করেন। প্রথমদিনের মতো এদিনও বাংলাদেশকে হতাশ করেন তারা। দুর্দান্ত টাইমিং ও রিফ্লেক্সে ক্রিকেটীয় শট খেলা শুরু করেন এ জুটি। স্বচ্ছন্দে এগিয়ে যান তারা। তাতে ব্যাকফুটে চলে যান রাহী, খালেদ, মিরাজরা। পথিমধ্যে টেস্ট ক্যারিয়ারে প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন রাভাল। আগের দিনই ফিফটি তুলেছিলেন। ১৬৩ বলে ১৬ চারে তিন অংকের ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করেন তিনি। ফিফটি তুলে শতকের পথে ছিলেন লাথাম। ১৭০ বলে ১২ চার ও ২ ছক্কায় তিন অংক স্পর্শ করেন তিনি।

প্রথম জুটিতেই লিড নেয় ব্ল্যাক ক্যাপসরা। উদ্বোধনী জুটিতে ২৫৪ রান তোলে তারা। পার্টটাইমার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের বলে খালেদ আহমেদকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন রাভাল। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবেশেষে উইকেটের দেখা পায় টাইগাররা। ফেরার আগে ১৯ চার ও ১ ছক্কায় ১৩২ রানের ঝলমলে ইনিংস খেলেন তিনি। এ পথে লাথামের সঙ্গে অনন্য রেকর্ড গড়েন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ক্রিকেটার। বাংলাদেশের বিপক্ষে দেশের হয়ে সেরা উদ্বোধনী জুটি গড়েন তারা। এর আগে টাইগারদের বিপক্ষে কিউদের সেরা ওপেনিং জুটি ছিল ম্যাট হর্ন ও মার্ক রিচার্ডসনের। তারা গড়েন ১০৪ রানের জুটি।

পরে কেন উইলিয়ামসনকে নিয়ে জুটি গড়ে তোলেন লাথাম। তাতে রানের চাকা গড়তেই থাকে। এ অবস্থায় হঠাৎই থেমে যান লাথাম। সৌম্য সরকারের বলে মোহাম্মদ মিঠুনের অসাধারণ ক্যাচে পরিণত হন তিনি। সাজঘরের পথ ধরার আগে ১৭ চার ও ৩ ছক্কায় ১৬১ রানের অনিন্দ্যসুন্দর ইনিংস খেলেন এ ওপেনার। অবশ্য খানিক বাদেই সৌম্যর এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন রস টেইলর। তাতে রানের গতি শ্লথ হয়নি।

হেনরি নিকোলসকে নিয়ে জুটি বাঁধেন উইলিয়ামসন। প্রথমে একটু সমস্যা হলেও ধীরে ধীরে মেলবন্ধন গড়ে ওঠে তাদের মধ্যে। শুরু করেন স্ট্রোকের পসরা সাজাতে। এতে বড় লিডের পথে ছোটে নিউজিল্যান্ড। পথিমধ্যে হাফসেঞ্চুরি তুলে নিয়ে সেঞ্চুরির পথে এগোতে থাকেন কিউই অধিনায়ক। এর মাঝে ক্যারিয়ারের নবম ফিফটি তুলে নেন নিকোলস। অবশ্য এরপর বেশিক্ষণ ক্রিজে স্থায়ী হতে পারেননি তিনি। দিনের শেষদিকে ৭ চারে ৫৩ রান করে মেহেদী হাসান মিরাজের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন ইনফর্ম ব্যাটার। শেষ পর্যন্ত নানা কাঠখড় পুড়িয়ে ৪ উইকেট তুলে নিলেও স্বস্তি নেই টাইগার শিবিরে। ক্রিজে থেকে গেছেন হালের অন্যতম সেরা ব্যাটার উইলিয়ামসন।

দিন শেষে ৪ উইকেটে ৪৫১ রান করেছে নিউজিল্যান্ড। ইতিমধ্যে ২১৭ রানের লিড নিয়েছে স্বাগতিকরা। ক্যারিয়ারে ২০তম সেঞ্চুরির অপেক্ষায় আছেন উইলিয়ামসন। ৯৩ রান নিয়ে অপরাজিত আছেন তিনি। নাইটওয়াচম্যান হিসেবে নামা নিল ওয়েগনার অপরাজিত ১ রানে। প্রথম ইনিংসে ২৩৪ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ১২৬ রানের নান্দনিক ইনিংস খেলেন তামিম ইকবাল। বাকিরা হন চরম ব্যর্থ। ৫ উইকেট নিয়ে সফরকারীদের গুঁড়িয়ে দেন ওয়েগনার।

ad

পাঠকের মতামত