পড়াশোনার চাপ: অপহরণের নাটক সাজালো তিন শিশু
নেত্রকোণা প্রতিনিধি: মাত্র একদিনের ব্যবধানে নেত্রকোণা শহর থেকে প্রাথমিক স্তরের তিন শিক্ষার্থী নিখোঁজের ঘটনায় পুরো জেলায় ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন অভিভাবকরা। শেষ পর্যন্ত বুধবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে নিখোঁজ তিন শিশুকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। তখনই প্রকাশ্যে আসে অপহরণ নাটকের গল্প। জানা যায়, পড়াশোনার চাপে সামলে উঠতে না পেরে, তিন শিশু অজানার উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়েছিল।
পুলিশ জানায়, উদ্ধারের পর জিজ্ঞাসাবাদে নিখোঁজ হওয়ার প্রকৃত ঘটনা জানায় শিশুরা। তাদের দাবি, স্কুল-প্রাইভেটে অতিরিক্ত পড়ার চাপ এবং মা-বাবার বকুনিতেই ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়েছিল তারা।তবে তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পর পুলিশের অভিযানে উদ্ধার হয় ওই শিশুরা।উদ্ধারকৃত শিশুরা হলো- শহরের ক্রিয়েশান কিন্ডারগার্টেনের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র রিফাত হাসান জয়, তার বন্ধু হলি চাইল্ড একাডেমির একই শ্রেণির ছাত্র নাফিজ তানভীর নাফি এবং জামিয়া হুসাইনিয়া মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র সামিউল আলম।
এদের মধ্যে সামিউল বর্তমানে ঢাকা এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। তাকে নেত্রকোণায় ফেরানোর প্রক্রিয়া চলমান।জয় শহরের কাটলি এলাকার মো. রফিকুল ইসলামের ছেলে, নাফি মোক্তারপাড়া মসজিদ কোয়াটার এলাকার কামাল হোসেনের ছেলে এবং সামিউল সাতপাই পশ্চিমপাড়ার মৃত আব্দুল্লাহর ছেলে।
নেত্রকোণার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) এর দায়িত্বে থাকা পুলিশ সুপার (এসপি) এসএম আশরাফুল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, জেলা পুলিশ সুপার জয়দেব চৌধুরীর নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান জুয়েল, মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বোরহান উদ্দিন খান, গোয়েন্দা শাখার পরিদর্শক নাজমুল হাসান এবং উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. শরিফুল হক তিন শিশুকে উদ্ধারে কাজ করেন।
এদিকে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ ধরনের ঘটনায় আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তবে অভিভাবকদের আরো সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিশুদের অতিরিক্ত পড়ার চাপ সৃষ্টি না করে স্বাভাবিক মানসিক বিকাশের সুযোগ দেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়।




