269003

যে রোগে অণ্ডকোষের কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়

ডেস্ক রিপোর্ট।। ছেলেদের দুইটি অণ্ডকোষ বা টেস্টিস থাকে। অরকাইটিস হলো একটি বা দুটি অণ্ডকোষের প্রদাহ। এই প্রদাহ সচরাচর সংক্রমণের কারণে হয়। অরকাইটিস বা অণ্ডকোষের প্রদাহ বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস দ্বারা ঘটতে পারে। অরকাইটিস বা অণ্ডকোষের প্রদাহ বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস দিয়ে হয়। সবচেয়ে বেশি হয় মাম্পস ভাইরাস দিয়ে। প্যারোটিড গ্রন্থির প্রদাহকে মাম্পস বলে। মাম্পসের প্রায় ৩০ শতাংশ রোগীর অসুস্থতার সময় অরকাইটিস হয়। এটা সাধারণ মাম্পস হওয়ার চার থেকে ছয় দিন পর হয়ে থাকে। যৌন সংক্রামক রোগ যেমন গনোরিয়া ও ক্ল্যামাইডিয়ার কারণেও এটা হতে পারে।

যৌনকর্মে সক্রিয় পুরুষদের অরকাইটিস বা অণ্ডকোষের প্রদাহ বেশি হয়। একাধিক যৌনসঙ্গিনী থাকলে এবং অস্বাভাবিক যৌন আচরণ করলে অরকাইতিসের সম্ভাবনা অনেক বাড়ে। অরকাইটিস বা অণ্ডকোষে প্রদাহ হলে বিভিন্ন উপসর্গ দেখা যায়।

অণ্ডকোষের প্রদাহের উপসর্গঃ ১. অণ্ডকোষে ব্যথা হওয়া। ২. অণ্ডকোষ ফুলে যাওয়া ও ভারী বোধ হওয়া। ৩. অণ্ডথলি ফুলে যাওয়া। ৪. কুঁচকিতে ব্যথা হওয়া, ফুলে যাওয়া। ৫. জ্বর হওয়া। ৬. প্রস্রাবে ব্যথা ও জ্বালাপোড়া করা। ৭. বীর্যে রক্ত যাওয়া। তবে সবসময় এই উপসর্গ নাও থাকতে পারে।

চিকিৎসা ও করণীয় : অণ্ডকোষে প্রদাহ ডায়াগনোসিসের জন্য বিভিন্ন শারীরিক পরীক্ষা এবং ল্যাব টেস্ট করা হয়। প্রস্রাবের রুটিন ও কালচার পরীক্ষা করলে জীবাণু বোঝা যায়। ক্লামাইডিয়া ও গনোরিয়ার পরীক্ষা দিয়ে প্রদাহ হয়েছে কিনা তাও পরীক্ষা করা হয়। ডপলার আল্ট্রাসাউন্ড টেস্টিকুলার স্ক্যান করে নিশ্চিতভাবেই রোগ ধরা যায় । অন্য কোন রোগ আছে কিনা তাও বুঝা যায় ।

যদি সংক্রমণ ব্যাকটেরিয়া দিয়ে ঘটে তাহলে অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে চিকিৎসা করতে হবে। গনোরিয়া বা ক্ল্যামাইডিয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই যৌনসঙ্গিনীকেও চিকিৎসা দিতে হবে। ব্যথা নাশক ও প্রদাহবিরোধী ওষুধ সাথে দিতে হবে। ভাইরাসজনিত কারণে অরকাইটিস হলে অ্যান্টিবায়োটিক এর কোন ভূমিকা নেই। কেবল ব্যথানাশক ওষুধ দিতে হবে। রোগীকে বিশ্রামে রাখতে হবে এবং অণ্ডথলি একটু উঁচু করে রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে, সময়মতো চিকিৎসা না করলে অণ্ডকোষের কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। এতে ভবিষ্যতে বন্ধ্যাত্ব দেখা দিতে পারে। তাই সাবধান এবং সচেতন হতে হবে সবাইকে।

ad

পাঠকের মতামত