268978

পলাশের পরিবার জানতো না ডিভোর্সের কথা

নিউজ ডেস্ক।।  নায়িকা সিমলার সঙ্গে পলাশের ডিভোর্সের বিষয়টি জানতো না তার পরিবার। সোমবার রাতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত খবর প্রকাশ হওয়ার পরেই পরিবারের সদস্যরা তা জানতে পারে বলে জানান পলাশের বাবা পিয়ার জাহান। তিনি গতকাল দুপুরে সোনারগাঁর পিরোজপুর গ্রামের নিজ বাড়িতে মানবজমিনকে বলেন, গেল বছর সিমলাকে পলাশ বিয়ে করে বলে আমাদের জানায়। দুবার সে সিমলাকে নিয়ে বাসায় আসে। সিমলাও পলাশকে বিয়ে করেছে বলে আমাদের কাছে স্বীকার করে। সর্বশেষ প্রায় দশ মাস আগে সিমলাকে নিয়ে পলাশ বাড়িতে আসে। তার পর প্রায় এক মাস সিমলার সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ থাকে। কিন্তু পরবর্তীতে আর কোনো যোগাযোগ হয়নি।

সোমবার সিমলার ভিডিও বার্তা প্রকাশ হওয়ার পরেই জানতে পারি তার সঙ্গে আমার ছেলের ডিভোর্স হয়েছে। তবে তার আগে জানতাম তাদের দুজনের মধ্যে মনোমালিন্য চলছে। সিমলা পলাশের দ্বিতীয় স্ত্রী। এর আগে ২০১২ সালের দিকে পলাশ বগুড়াতে আরো একটি বিয়ে করে। সেটিও পরিবারের অগোচরেই করে। সেই পরিবারে আড়াই বছরের একটি ছেলে আছে। পুত্র শোকে কাতর পিয়ার জাহান ছেলের ওয়ারিশকে নিয়ে এখন বাঁচার ইচ্ছে প্রকাশ করেন। পলাশের প্রথম ঘরের সন্তানকে ফিরে পাওয়ার জন্য প্রশাসনের সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।

পিয়ার জাহান বলেন, নিজের ছেলেকে আর কোনো দিন ফিরে পাবো না। কিন্তু ছেলের স্মৃতি তার সন্তানকে নিয়ে শেষ সময়ে বাঁচতে চাই। পলাশের প্রথম স্ত্রী আমাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করে না। আমাদের পরিবারের পক্ষ থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছি। পিয়ার জাহান জানান, অষ্টম শ্রেণীতে পড়ার সময় থেকেই পলাশ পরিবারের অবাধ্য হয়ে পড়ে। ২০১২ সালে স্থানীয় একটি মেয়ের সঙ্গে প্রেম করে তাকে নিয়ে পলাশ পালিয়ে যায়। সেই সময় কিশোর বয়সেই জেলে যায় পলাশ। পরবর্তীতে কলেজে পড়ার সময় থেকে শোবিজে ঝুঁকে পড়ে। প্রায় পাঁচ বছর আগে একটি গানের অ্যালবামও প্রকাশ করে পলাশ। তারপর নাটক-চলচ্চিত্রে কাজ করছে বলে জানতে পারেন পলাশের বাবা।

শোবিজে কাজ করতে গিয়ে পলাশ তার বাবার অনেক টাকা নষ্ট করে বলেও জানান পিয়ার জাহান। ছেলের শোবিজে কাজ করা নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিল পরিবার। কিন্তু ছেলে অবাধ্য হয়ে যাবার কারণে শেষ সময়ে এ নিয়ে পরিবার থেকে তাকে আর কিছু বলা হতো না। সর্বশেষ পলাশ ‘কবর’ নামের একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবিও প্রযোজনা করে। এই ছবির জন্যও সে তার বাবার কাছ থেকে অনেক টাকা নেয়। বিমান ছিনতাই চেষ্টার কয়েক দিন আগে পলাশের মধ্যে বেশ পরিবর্তন আসে বলে তার বাবার দাবি। তিনি বলেন, গেল ১লা জানুয়ারি থেকে ২২শে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সে বাড়িতেই ছিল।

এই সময়ে ধর্মকর্ম পালনে ব্যস্ত ছিল সে। পলাশের বাবা ছাড়াও এ তথ্য জানিয়েছেন গ্রামের কজন বাসিন্দা। তারা আরো জানান, পলাশ বেশ কয়েক বছর ধরেই গ্রামে কম থাকত। আলাপকালে পলাশের বাবা বলেন, তার পরিবর্তন দেখে আমি অনেক খুশি হই। বেশ কয়েক দিন ফজরের নামাজের সময় আমি নিজেই তাকে জাগিয়ে দিয়েছি। ভেবেছি হয়তো সব ছেড়ে আমার ছেলে ভালো পথে ফিরে এসেছে। গেল শুক্রবার দুবাই যাবে বলে আমাদের কাছ থেকে বিদায় নেয়। এটাই যে তার শেষ বিদায় জানতাম না। গতকাল সকাল ছয়টায় পলাশের মরদেহ পরিবারের কাছে এসে পৌঁছে। সকাল নয়টায় গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে পলাশকে সমাহিত করা হয়। ছেলের লাশ গ্রহণের বিষয়ে পিয়ার জাহান বলেন, আমি বলেছিলাম পরিবারের সিদ্ধান্তের পর এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবো। তার আগেই প্রশাসনের লোকজন এসে আমাকে বলে যা হওয়ার হয়ে গেছে। এখন আপনি আপনার ছেলের লাশটি সনাক্ত করে নিয়ে আসেন। তারাই আমাকে সোমবার মাগরিবের নামাজের পর গাড়িতে করে নিয়ে যায়। প্রথমে আমাকে সোনারগাঁও থানায় নেয়ার কথা বলেছিল। আমাকে সেখানে না নিয়ে সরাসরি চট্টগ্রাম নিয়ে যায়। সেখান থেকে লাশ নিয়ে নারায়ণগঞ্জ ফিরি। গতকাল দুপুরে যখন পলাশের বাবার সঙ্গে কথা হয় তখন তার স্বজনদের ভিড় ছিল দুধঘাটার ওই বাড়িতে। একতলা ওই বাড়িতে পরিবার নিয়ে থাকেন পলাশের বাবা।  উৎস: মানবজমিন।

ad

পাঠকের মতামত